নির্বাচনে কমনওয়েলথের সমর্থন চান প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার কমনওয়েলথ মহাসচিবের
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্ধারিত আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কমনওয়েলথের পূর্ণ সমর্থন চেয়েছেন। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বোটচওয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সমর্থন চান। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনেও সমর্থন প্রয়োজন। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গভীর আগ্রহের জন্য মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান। তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। জবাবে মহাসচিব বাংলাদেশের নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী উত্তরণে কমনওয়েলথের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস প্রধান উপদেষ্টাকে দেন। তিনি বলেন, কমনওয়েলথের মধ্যে প্রচুর সম্পদ রয়েছে। জি-৭ ও জি-২০-এর সদস্যসহ ৫৬টি দেশ; যা একে অপরকে শক্তিশালী করতে পারে। মহাসচিব আরও বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতি, আইন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শার্লি আয়োরকর বোটচওয়ে নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কমনওয়েলথ। দুই নেতা যুব ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা, আরও সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টি এবং বেকারত্ব, কার্বন নিঃসরণ ও বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্যে থ্রি-জিরো ভিশন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার কমনওয়েলথ মহাসচিবের : কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে ও ভবিষ্যতেও কিভাবে কমনওয়েলথ বাংলাদেশের মানুষকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করছেন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত সরকারি সফরে আসা শার্লি বচওয়ে আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতি কমনওয়েলথ পরিবার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ঢাকাস্থ হাই কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে কমনওয়েলথ সনদের আলোকে বাংলাদেশকে সমর্থন আরও জোরদার করা নিয়ে আলোচনা করেন।
মহাসচিব সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভেরিফায়েড পেইজে লিখেছেন, ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনারদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের উপকারে কমনওয়েলথের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়ে সফল আলোচনা হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, ব্রিটেনের হাইকমিশনার সারাহ কুক, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ধর্মপালা উইরাক্কোডি এবং মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ।
শার্লি বচওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করার জন্য সিইসিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। কমনওয়েথ মহাসচিব বলেন, নির্বাচনে বাংলাদেশি নাগরিদের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কমনওয়েলথের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেছি। তিনি প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বচওয়ে বলেন, কমনওয়েলথ সনদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাদের মতামত শোনা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রিফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাতে আইনশৃঙ্খলা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের ভূমিকায় তার নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
তিনি বাংলাদেশের বিচারিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভালো অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত রাখতে কমনওয়েলথের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে সফরে তার প্রথম বৈঠক ছিল যুবনেতাদের সঙ্গে। মহাসচিব বলেন, তাদের চিন্তাচেতনা এবং গণতন্ত্রের প্রতি প্রত্যাশা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ন্যায়সঙ্গত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়তে কমনওয়েলথ বাংলাদেশের তরুণদের পাশে থাকবে। মহাসচিব কমনওয়েলথের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার বিষয়েও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এই পরিকল্পনায় গণতন্ত্রকে প্রধান স্তম্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের আশা পূরণে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা সবচেয়ে কার্যকর করার উপায় নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, কমনওয়েলথ এবং বাংলাদেশের মধ্যে দৃঢ় অংশীদারিত্ব রয়েছে। এটি আসন্ন নির্বাচনের সময় আরও গুরুত্বপূর্ণ। মহাসচিব বলেন, আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি হল অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা। যাতে বাংলাদেশের জনগণ কমনওয়েলথকে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে গণ্য করতে পারে। সম্প্রতি কমনওয়েলথের নির্বাচন পূর্বমূল্যায়ন দলের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেন। তারা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের পূর্বপরিস্থিতি যাচাই করেন।
