কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন
শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বস্তির বাসিন্দারা। আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। রাত সাড়ে আটা পর্যন্ত বস্তিতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস একের পর এক ইউনিট বাড়িয়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। ওই বস্তির অনেকগুলো ঘর তখনও পুড়ছিল দাউ দাউ আগুনে।
ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের পাশাপাশি স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। ভয়াবহ এ আগুনে নিজের ঘর আর সহায় সম্বল পুড়তে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন সেখানকার বাসিন্দারা।
গতকাল মঙ্গলবার ফায়ার সার্ভিসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার তথ্য জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার খবর পান। আগুন নেভাতে তাৎক্ষণিকভাবে ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। পরে আরও পাঁচটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।
কড়াইল বস্তির আগুন ক্রমশ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পানির অভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। পানি স্বল্পতার কারণে বস্তির ঝিলপাড় খালে জেনারেটর লাগিয়ে পানি দেয় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার ফাইটাররা জানান, যানজটের কারণে পানির গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়। যে গাড়িগুলো কাছাকাছি ছিল সেগুলোর পানি শেষ হয়ে যায়। এ কারণে খাল থেকে জেনারেটর লাগিয়ে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের পাড়ে তিনটি জেনারেটর লাগানো হয়। তিনটি জেনারেটর দিয়ে একাধিক পানির পাইপ লাগানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসিন্দাদের বস্তির ভেতরে যেতে দেয়নি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্বল্প আয়ের মানুষদের ঘর পুড়ে যাওয়ার কারণে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বস্তির যেসব ঘরে এখনো আগুন লাগেনি কিন্তু আগুন লাগার আশঙ্কা রয়েছে, সেসব ঘর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন অনেকে। কেউ মাথায় করে কেউ হাতে করে তাদের জিনিসপত্র বের করেছেন। আগুনে ঘর পুড়েছে বস্তির বাসিন্দা লাভলী বেগমের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার সব আগুনে পুড়ে শেষ। সাত বছর ধরে এই বস্তিতে আছি। অনেক কষ্টে তিল তিল করে জিনিসপত্র কিনেছিলাম। ঘরে টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র কিনেছিলাম। মাসে মাসে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেল। বস্তির বাসিন্দা লাকি আক্তার পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি বলেন, শুনেছি আমার ঘর পুড়ে গেছে। সব জিনিস নাকি পুড়ে গেছে। এখন আমি কীভাবে কী করব, বুঝতে পারছি না। একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লাকি ও লাভলীর মতো অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করে এই বস্তিতে। আজকের এই ভয়াবহ আগুনে তাদের অনেককে পথে বসতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কড়াইল বস্তিতে লাগা আগুন বেশ বড় আকারে রূপ নেয়। ক্রমশ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। পানির অভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানী লাগোয়া প্রায় ৯০ একর জায়গার ওপর ১০ হাজার ঘর রয়েছে এই বস্তিতে। যেখানে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডে ঘটে। চলতি বছরের ২১ শে ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ওই বস্তিতে লাগা আগুনে পুড়ে যায় অন্তত ডজনখানেক ঘর। গেল বছরের ২৪ মার্চ ও ১৮ ডিসেম্বরেও আগুনে পুড়ে কড়াইল বস্তি।
