ভোটের জন্য আরও ৪২৯ কোটি টাকা চায় ইসি
প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বছরের ৫ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ধরেই সব প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তারিখ স্পষ্ট না করলেও ইসি সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণে এমন তথ্য মিলছে। প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে একই দিনে গণভোট যুক্ত হওয়ায় নতুন রোডম্যাপ করতে হচ্ছে ইসিকে। গণভোট ও সংসদীয় আসনের সীমানা জটিলতা না কাটায় প্রভাব ফেলতে পারে তফসিল ঘোষণায়। তবে ঘোষিত সম্ভাব্য সময়ে নির্বাচন করতে হলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা না হলেও প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। ইসিও সেটা চায়।
চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের বাজেটে ইসি জন্য ২২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচনি বছর উপলক্ষে সংশোধিত বাজেটে আরও ৪২৯ কোটি টাকা চেয়েছে ইসি। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) দুটি প্রকল্পের আওতায় এই বরাদ্দ চায় তারা। প্রকল্প দুটির মধ্যে একটি হলো- ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রথম সংশোধিত প্রকল্প’। আরেকটি হলো ‘দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন প্রকল্প’। দুটির মধ্যে দ্বিতীয়টি নতুন প্রকল্প। এমন একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে ইসি সচিবালয়। প্রকল্প দুটির মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের ভোট দান সিস্টেম উন্নয়ন এবং নাগরিকদের জন্য পরিচয়পত্র প্রদানে সেবার মান উন্নত করা হবে। সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব এম মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা গত ১৮ নভেম্বর গ্রহণ করেছে।
ইসির তথ্য মতে, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের বাজেটে সরকার ইসির জন্য দুটি প্রকল্প এবং থোক বরাদ্দ বাবদ মোট ২২৯ কোটি ৫ লাখ টাকা রেখেছে। এর মধ্যে ২১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রথম সংশোধিত প্রকল্প’র জন্য। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি একনেক অনুমোদিত। মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এই প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশোধিত বাজেটে এই প্রকল্পের ব্যয় ৪০০ কোটি টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বছর প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ২১০ কোটি টাকা। ফলে ৪০০ কোটিসহ প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে ৬১০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
চলতি বাজেটে থাকা আরেকটি প্রকল্প হচ্ছে ‘নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আইসিটি ব্যবহারে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রেখেছে ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। এছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অননুমোদিত প্রকল্পের জন্য থোক বরাদ্দ হিসেবে ১০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর চার মাস পার হলেও দুই প্রকল্প এবং থোক বরাদ্দ থেকে এক পয়সাও খরচ করেনি নির্বাচন কমিশন।
এমতাবস্থায় সংশোধিত বাজেটে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসি ‘দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন প্রকল্পের’ জন্য ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। ইসিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন করেছে ৩৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২২৯ কোটি ৫ লাখ টাকার বরাদ্দ থেকে সংশোধিত বাজেটে ৬৫৮ কোটি ৭৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যয় বাড়বে ৪২৯ কোটি ৭০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। তবে এখান থেকে থোক বরাদ্দের ১০ কোটি টাকা বাদ যাচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ইসির বাড়তি আবদার প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। নজরেও আসেনি।’
