বৈধ প্রার্থী ১৮৪২, বাতিল ৭২৩

আপিল শুরু আজ

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে ২৯৭ টি নির্বাচনী এলাকায় দাখিল করা মনোনয়নপত্রের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশন থেকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

ইসি জানায়, এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র গ্রহণের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪০৬টি, যার বিপরীতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ২৯৭ টি আসনে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। বাতিল করা হয় ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের বাছাই করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার মূত্যুবরণ করায় ৩ টি আসনে বাছাই করা হয়নি।

জানা যায়, সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বাছাইয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুরু হচ্ছে আজ সোমবার থেকে। বাদ পড়াদের অধিকাংশই স্বতন্ত্র। ১% ভোটার সমর্থন তালিকায় গড়মিলের কারণে বাদ পড়েছেন অনেকে; এছাড়া হলফনামায় অসম্পূর্ণ ও অসত্য তথ্য, মামলার তথ্য গোপন, দ্বৈতনাগরিকত্ব, ঋণখেলাপি, বিল খেলাপি, দলীয় প্রত্যয়নে জটিলতাসহ নানা ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে অনেকের মনোনয়নপত্র।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে যেমন আবেদন করা যাবে, তেমনি কারো প্রার্থিতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনারের ১০-১৮ জানুয়ারি আপিল শুনানি করবেন এবং আপিলের আদেশ দেবেন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর রিটার্নিং অফিসারের যেকোনো সিদ্ধান্তে কোনো প্রার্থী বা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সংক্ষুব্ধ হলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী স্বয়ং অথবা প্রার্থীর লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত পদ্ধতিতে এ আপিল দায়ের করতে পারবেন।

আপিল নিষ্পত্তি : মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনগুলো নির্বাচন কমিশন ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।

চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল : দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা। গতকাল রোববার যাচাই-বাছাই শেষে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে জামায়াত প্রার্থী ড. এ কে এম ফজলুল হক ও কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে একই দলের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

জামায়াত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল এবং তা বাতিলের জন্য তিনি আবেদন করেছেন বলে দাবি করেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, তিনি তার দাবির প্রমাণ হিসেবে কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

ফজলুল হকের মার্কিন নাগরিকত্ব থাকলেও, তিনি গত ২৮ ডিসেম্বর জমা দেওয়ায় হলফনামায় দাবি করেছেন যে, তিনি তা ত্যাগ করেছেন। বন্দরনগরীর কোতোয়ালী ও বাকলিয়া থানা এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৯ আসনটি চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত।

এদিকে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কারণে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।

এ ঘোষণার পরপরই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষের ভেতরে ও কার্যালয় চত্বরে জামায়াতের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এর আগে, গত শনিবার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র সাময়িক স্থগিত করেন রিটার্নিং অফিসার। একইসঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত উপযুক্ত ও চূড়ান্ত প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার জন্য তাকে রোববার দুপুর পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, মাহবুবুল আলম সালেহী যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছে এমন কিছু নথি জমা দিলেও নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সনদপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকায় প্রথমে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত এবং পরে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

জেলা রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রার্থী মাহবুবুল আলম যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন ও পেমেন্ট সংক্রান্ত ই-মেইলের কপি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা কর্তৃপক্ষ থেকে নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ আমরা পাইনি। তাকে সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, ‘আমাকে ডাকা হলেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রিটার্নিং অফিসার আগেই তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত থাকলেও সেগুলো উপস্থাপনের সুযোগ পাইনি। আমি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করব।’

রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রার্থীকে ৩ দিন সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র জমা দিতে পারেননি। আইনের বিধান অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।’

ঋণখেলাপির কারণ দেখিয়ে মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়ন বাতিল : জাতীয় পার্টির একাংশের আলোচিত নেতা মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

ঋণখেলাপির কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।

গতকাল রোববার কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হয়। এর আগে গত শনিবার কিশোরগঞ্জ-৪, ৫ ও ৬ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করেন রিটার্নিং অফিসার। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে তিনটি আসনের মোট ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাকি ১৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ জসিমের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীর ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে অস্পষ্টতা ও জটিলতা লক্ষ্য করেন। এ কারণে মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রিটার্নিং অফিস সূত্র জানায়, প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত বিষয়টি পুনরায় যাচাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে স্থির করা হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাইয়ের পর বিকেল ৪টায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি মনোনীত জসিম উদ্দিন আহমেদ জসিমের মনোনয়পত্র স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন উত্তেজনা এবং সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় যা বলছে জামায়াত : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইয়ে কিছু রিটার্নিং অফিসারদের কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, তথ্য-প্রমাণ, কাগজপত্র দাখিল করার পরও আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন বিষয় ধরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রার্থিতা বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল রোববার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর এমপি পদপ্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।

এই যাচাই-বাছাইয়ের সময় কোনো কোনো জেলার রিটার্নিং অফিসারদের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোনো কোনো জেলায় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের ব্যক্তিগত ইখতিয়ারে পড়ে বা তিনি ব্যক্তি বিবেচনায় ছাড় দিতে পারতেন এমন ক্ষেত্রেও কঠোর নীতি অবলম্বন করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে রিটার্নিং অফিসারদের বাড়াবাড়ির কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য-প্রমাণ, কাগজপত্র দাখিল করার পরও উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রার্থিতা বাতিল করে দেওয়া মোটেও সমীচীন হয়নি। অপ্রয়োজনীয় ও অহেতুক কিছু বিষয়ে, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন বিষয় ধরে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। কোনো একটি মহলের ইন্ধনে এসব করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘এ রকম চলতে থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে তা দেশবাসীর কাছে বড় প্রশ্ন।

রিটার্নিং অফিসাররা যেন এ ধরনের গুরুত্বহীন তুচ্ছ ঘটনায় কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল না করেন সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তুচ্ছ অজুহাতে যাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে তাদের প্রার্থিতা অবিলম্বে বৈধ ঘোষণার জন্য আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সকলের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে নির্বাচনের মাঠ সমতল করার জন্য আমি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

ধমক দিলে ভড়কে যাবেন না, আইন অনুসরণ করবেন : ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত) বলেছেন, ঘুরিয়ে পেচিয়ে কোনো দুই নম্বরি কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, হবে না, হবে না, হবে না। যদি আপনাদের মধ্যে কেউ দুই নম্বরি কাজ করে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমাদের নির্দেশনা হলো তিনটি- স্বচ্ছতা, নিরেপক্ষতা এবং দৃঢতা।

গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট -২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, কোনো দিকে ঝুঁকে যাবেন না, কোনো দিকে হেলে যাবেন না এবং কারো কথাতেই ভয় পাবেন না। কেউ ধমক দেবে আর আপনি ভড়কে যাবেন এটা হবে না। আপনি আইন অনুসরণ করে যেভাবে কাজ করতে হয় সেভাবে করবেন।

তিনি বলেন, এটি সবার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। রাজনৈতিক ইন্সটিটিউটশন, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও পুলিশসহ সবার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনার সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিস্ট ইলিমেন্টের লোকজন বন্ধু সেজে পাশে ভিড়ছে, এদের থেকে সতর্ক থাকার দায়িত্ব কিন্তু আপনার। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে আমরা যেটি দেখলাম, তাকে কিন্তু বন্ধু সেজেই হত্যা করা হয়েছে। আপনি যদি নিরাপত্তা সচেতন না হোন তাহলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।

রাজনৈতিক নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি অতীতের যেকোনো তুলনায় আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এবার ভালোভাবে আচরণ বিধি মেনে চলছেন। একমাত্র ঢাকায় ওসমান হাদির ঘটনা ছাড়া আর কোন বড় ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি, অথচ আগের নির্বাচনগুলোতে সংহিস পরিস্থিতি ছিল।