পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ
রণক্ষেত্র কারওয়ান বাজার
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ব্যবসায়ীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে কারওয়ান বাজার। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার ব্যবস্থা (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে ও গ্রেপ্তার ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে কারওয়ান বাজার সড়ক অবরোধে নামেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। একই সঙ্গে টিয়ারশেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত চলে এসব ঘটনা। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবিতে বেলা ১১টার দিকে বাংলামোটর মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধ করে ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। এতে কারওয়ান বাজার মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে। এতে ব্যবসায়ীরা কাঁঠালবাগানের দিকে অবস্থান নেয় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর তারা আবার কারওয়ান বাজার মোড় অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
অতর্কিত হামলা ঠেকাতেই অ্যাকশন, দাবি পুলিশের : রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে সড়ক অবরোধ সরানোর সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. শওকত আলী বলেন, সকাল থেকেই মোবাইল ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সোনারগাঁও ক্রসিং এলাকায় অবস্থান নেয়। বেলা ১১টার দিকে তারা পুরো রাস্তা বন্ধ করে দিলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং জনভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ আইনের আওতায় থেকে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং তারা তখন এলাকা ছেড়ে যায়। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও ওই ব্যবসায়ীদের একটি অংশ রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে বলে জানান এডিসি শওকত আলী। তিনি বলেন, তখন পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়। এ সময় সংঘর্ষে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা মোবাইল ব্যবসায়ী কি না এবং তাদের আড়ালে কোনো দুষ্কৃতকারী জড়িত ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রমনা বিভাগের এডিসি আরও বলেন, আন্দোলনকারী ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পরে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকে যায়। তবে সেখানে কারা ছিল এবং কোনো দুষ্কৃতকারী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশ তদন্ত করছে।
এনইআইআর কার্যক্রম বন্ধ হবে না- ফয়েজ আহমদ : মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করলেও ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
