ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট বন্ধ

* পাবনা ১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের খবর সঠিক নয় * ব্যালট পেপার পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার নির্দেশ ইসির * প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন ইসির

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণের সময় ব্যালট বাক্স নষ্ট, হারিয়ে যাওয়া বা জোর করে অপসারণের মতো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ওই কেন্দ্রের ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে পুনঃভোটগ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

পরিপত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২- এর ২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রিটার্নিং অফিসাররা ভোটগ্রহণের দিন ও সময় উল্লেখ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন এবং তা স্থানীয়ভাবে প্রচারের ব্যবস্থা নেবেন। আর ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণে ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হলে তিনি ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করবেন। একইভাবে ব্যালট বাক্স জোরপূর্বক অপসারণ, নষ্ট বা হারিয়ে গেলে কিংবা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যে ফল নির্ধারণ সম্ভব নয়—সেক্ষেত্রেও ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হবে। বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রের ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

রিটার্নিং অফিসার কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন তারিখে পুনঃভোটগ্রহণের ব্যবস্থা নেবেন। একইসঙ্গে যে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে, সেই কেন্দ্রের ফলাফল ছাড়া নির্বাচনি এলাকার ফল নির্ধারণ সম্ভব না হলে কমিশন পুনঃভোটগ্রহণের নির্দেশ দেবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের সব ভোটার নতুন দিনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টি বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব না হলে কমিশন যেকোনো পর্যায়ে ভোটগ্রহণসহ সম্পূর্ণ নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।

পরিপত্রে ডাকযোগে ভোটদানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী প্রবাসী ও নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটাররা পোস্টাল ব্যালট (ওসিভি ও আইসিপিভি) ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য কমিশনের নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনসহ নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত পরিবেশবান্ধব ব্যানার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা সম্বলিত ফেস্টুন দৃশ্যমান স্থানে টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অননুমোদিত কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে।

পরিপত্রে গণভোট উপলক্ষ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পৃথক ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসারদের জাতীয় সংসদ ও গণভোটের ভোটগণনার বিবরণীর একটি কপি ডাকযোগে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে। এ জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিশেষ খাম সরবরাহ করা হবে এবং খাম দ্রুত পৌঁছাতে পোস্ট অফিসগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

জানালো পাবনা ১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিতের খবর সঠিক নয়- ইসি: পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে- গণমাধ্যমে প্রচারিত এমন খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার কোনো সিদ্ধান্ত ইসি নেয়নি। এ-সংক্রান্ত যে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর। এমন সংবাদ প্রচার বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে, কয়েকটি গণমাধ্যম নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের বরাতে খবর প্রকাশ করে যে, সীমানা জটিলতার কারণে আদালতের আদেশে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। খবরে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এ দুটি আসনে নির্বাচন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। উদ্ধৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আদালত পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত।’ এমন খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্পষ্ট করে জানায়, এ দুটি আসনে নির্বাচন স্থগিত হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রায়ের পর পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগের সীমানা পুনর্বহাল করে নির্বাচন কমিশন গত ২৪ ডিসেম্বর একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। পরে গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির একটি অংশ স্থগিত করে দেন। এদিকে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শেষ দিন ছিল শুক্রবার। গতকাল সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের পক্ষে ও বিপক্ষে আপিল শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়।

ব্যালট পেপার পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার নির্দেশ ইসির : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে ব্যালট, পেপারসহ সব নির্বাচনী সামগ্রী পরিবহন ও বিতরণে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার জারি করা এক পরিপত্রে ঢাকা থেকে জেলা, জেলা থেকে উপজেলা এবং উপজেলা থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্বাচনী দ্রব্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবহন নিশ্চিত করতে সবাইকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তালিকা অনুসারে ব্যালট পেপার মুদ্রণ করা হবে। ইতোমধ্যে ডাকভোটে (ওসিভি ও আইসিপিভি) অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ভোটারদের প্রয়োজনীয় পোস্টাল, ব্যালট মুদ্রণ ও বিতরণ করা হয়েছে। সাধারণ ব্যালট পেপার মুদ্রিত হবে ঢাকার তেজগাঁওয়ের বিজি প্রেস, গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যালট পেপার গ্রহণের জন্য প্রতিটি নির্বাচনী আসন থেকে রিটার্নিং অফিসারের পক্ষে একজন সিনিয়র সহকারী কমিশনার বা সহকারী কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসারের পক্ষে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে ঢাকায় পাঠাতে হবে। তাদের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত লিখিত ক্ষমতাপত্র ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বাহিনী থাকতে হবে। একই সঙ্গে, ব্যালট পেপার গ্রহণের সময় প্রতিনিধিদের অবশ্যই প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসহ চূড়ান্ত তালিকা (ফরমণ্ড৫) মিলিয়ে দেখতে হবে। কোনো ভুল থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করতে হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের আগের দিন সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রিজাইডিং অফিসাররা তাদের ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সামগ্রী গ্রহণ করবেন। ভোটকেন্দ্রে সামগ্রী পৌঁছানোর পর ভোটগ্রহণের আগের দিন প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতিসাপেক্ষে এক-দুজন সহকারী ছাড়া বাকি সব কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্রেই অবস্থান করবেন। তাদের ও নির্বাচনী সামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয়ভাবে ক্রয় করা যাবে এমন কিছু মনিহারি দ্রব্যের তালিকাও পরিপত্রে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বলপয়েন্ট কলম, সাদা ও কার্বন কাগজ, ছুরি, সুতা, মোমবাতি, দিয়াশলাই, গামপট, স্ট্যাম্প, প্যাডের কালি এবং বিভিন্ন নির্দেশনামূলক প্লেকার্ড। এসব সামগ্রী স্থানীয়ভাবে ক্রয় বা মুদ্রণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া, নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত সব ফরম, প্যাকেট, ম্যানুয়েল, পোস্টার ও লিফলেট গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এ ছাড়া স্ট্যাম্প প্যাড, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল, অমোচনীয় কালির কলম, হেসিয়ান ব্যাগ ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। চার্জার লাইট, ক্যালকুলেটর, স্ট্যাপলার মেশিন ক্রয়ের জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে, জেলায় সব নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছানোর পর সেগুলো পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ঘাটতি, অতিরিক্ত বা অসংগতি ধরা পড়লে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাতে বলা হয়েছে।

প্রবাসীদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন ইসির : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের ১২১টি দেশে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়। প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিবন্ধনকারী প্রবাসী ভোটারদের কাছে সব ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ হয়েছে।

ডাক বিভাগের এয়ারপোর্ট সর্টিং অফিসের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল শামীম সোহানী বাসস’কে জানান, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ইসি থেকে পাওয়া সব পোস্টাল ব্যালট বহির্বিশ্বে পাঠানোর কাজ বৃহস্পতিবার শেষ করেছে। বিমান বাংলাদেশ, এমিরেটস, মালয়েশিয়ান, সিঙ্গাপুর এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এসব ব্যালট পাঠানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এগুলো সব গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।

নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক বিভাগ, সিভিল এভিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ (ওসিভি)-এর এই বিশাল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজারের বেশি ভোটার সঠিক ঠিকানা দেননি। ফলে তাদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, দেশের অভ্যন্তরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তাদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু হবে। দেশের ভেতরে ব্যালট পাঠানো এবং তা ফিরে আসার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭ দিন সময় লাগতে পারে।

সালীম আহমাদ খান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা ভোটারের নিজের দায়িত্ব। কেউ এই গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করে দেওয়া হতে পারে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতেই ৯১টি দেশে ৩৯ হাজার ৩৮ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ১৭৪ জন, কাতারে ৭৫ হাজার ৮৬৯ জন এবং ওমানে ৫৬ হাজার ৬৩ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসী এবং ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটার।