হামিদুর রহমান, তাসনিম জারা ও রাশেদ প্রধানের মনোনয়ন বৈধ

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানির প্রথম দিন শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে শুনানি চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। শুনানির প্রথম দিনে মোট ৭০ প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির রাশেদ প্রধানসহ মোট ৫২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। আর নামঞ্জুর হয়েছে ১৫ জন প্রার্থীর আপিল। এছাড়া তিনজন প্রার্থীর আপিল আবেদন বিবেচনাধীন রেখেছে কমিশন।

জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে ইসি। তিনি কক্সবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গতকাল শনিবার সকালের পর শুরু হওয়া শুনানিতে তার মনোনয়ন বৈধ করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা প্রার্থী ও তার প্রতিনিধিরা সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ শুনানিতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অংশ নেবেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এ শুনানি হচ্ছে। ২ জানুয়ারি কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা রয়েছে। এ মামলার তথ্য গোপন করায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র। তবে প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে তিনি আপিল করতে পারবেন বলে জানায় কার্যালয়।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনে গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। আপিল গ্রহণের শেষ দিনে (শুক্রবার) ১৭৬টি আপিল জমা হয়।

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন তাসনিম জারা : জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়ে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাওয়া তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে করা তার আপিল আবেদনের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে ইসি।

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টির যোগদানের প্রশ্নে গত ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা নিয়ে গড়মিলের কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিলে গিয়ে নিজের পক্ষে রায় পেলেন তাসনিম জারা। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর নির্বাচন ভবনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাসনিম জারা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে আপিল মঞ্জুর হয়েছে। আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।’ রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল করার পর থেকে এক সপ্তাহে ‘অন্য রকম’ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন এ স্বতন্ত্র প্রার্থী।

তাসনিম জারা বলেন, ‘দেশে-বিদেশে সকলে দোয়া করেছেন, অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। জনসমর্থনে আগামী নির্বাচনে লড়াই করতে পারব প্রার্থী হিসেবে। ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এখন মার্কার জন্য আবেদন করতে পারব, পছন্দের মার্কা ফুটবল।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকেও ধন্যবাদ। আমরা এখন ফুটবল প্রতীক চেয়ে আবেদন করব। সবার সমর্থন নিয়ে লড়াই করতে পারব। সবার সঙ্গে দেখা হবে।’ ঢাকা-৯ আসন সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানা নিয়ে গঠিত। এ আসনে এনসিপি থেকে মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া, বিএনপি থেকে হাবিবুর রশিদ ও জামায়াতে ইসলামী থেকে কবির আহমদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন রাশেদ প্রধান, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে শঙ্কা : গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধানের প্রার্থিতা আপিলে ফিরিয়ে দিয়েছে ইসি। গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরিয়ে পান তিনি।

প্রার্থিতা ফেরত পেয়ে রাশেদ প্রধান বলেন- বিএনপি প্রার্থীদের ঋণখেলাপী, বিদেশি নাগরিকত্বসহ বড় ঘটনায় প্রার্থিতা টিকছে। কিন্তু জামায়াত, জাগপাসহ ১১ দলের প্রার্থীদের প্রার্থিতা টিকছে না। এসব ঘটনায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকছে না। আমাদের শঙ্কা নির্বাচনেও এ পরিবেশ থাকে কি না। এ সময় জাগপা প্রধান তাসমিয়া প্রধান বলেন, জাগপা সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধানের হলফনামায় ৩০০ টাকায় স্টাম্প সংযুক্ত না করার ছোট ভুলের কারণে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। আমাদের আপিলের পরে নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আপিলে চার প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা : ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চারজন প্রার্থী। দলটির পক্ষ থেকে করা পাঁচটি আবেদনের শুনানির পর চারটি আসনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন। গতকাল শনিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী মো. হানিফ মিয়া। অ্যাডভোকেট হানিফ মিয়া বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য আপিল করেছিলাম। এর মধ্যে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।’ কমিশনের সিদ্ধান্তে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন- নুর উদ্দিন (চট্টগ্রাম-১১), আনোয়ার হোসেন (ঢাকা-১৮), মনসুর আহমেদ সাকী (চাঁদপুর-২) এবং মুহা. শাহজাহান আলী তালুকদার (বগুড়া-৩)। তবে বাগেরহাট-১ আসনে দলটির প্রার্থী মুজিবর রহমান শামীমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী একরামুজ্জামানের মনোনয়ন অবৈধ : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামানের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল শনিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবন মিলনায়তনে দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এর আগে একই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমএ হান্নান একরামুজ্জামান মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি মামলায় পলাতক হিসেবে আছেন। কিন্তু সেই তথ্য মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করেননি।

ইসিতে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভা আজ : জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার্যাবলীর সমন্বয় করতে বিশেষ সভা ডেকেছে ইসি। আজ রোববার সকাল ৯টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে (কক্ষ নম্বর-৫২০) এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়েছে, সভায় সভাপতিত্ব করবেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অব.)। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসি আরও জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা এই সভার মূল লক্ষ্য। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে সভায় আলোচনা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বিভাগ, বাহিনী ও সংস্থাগুলোকে তাদের ফোকাল পয়েন্ট বা উপযুক্ত প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।