নাগরিক শোকসভায় বিশিষ্টজন

খালেদা জিয়া মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন

* জাতির ক্রান্তিলগ্নে তার উপস্থিতি, পরামর্শ বেশি প্রয়োজন ছিল * খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তদন্ত প্রয়োজন * দীর্ঘদিন কারাবাস রাজনৈতিক ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায়

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। চোখের অশ্রুতে তার ত্যাগ-তিতীক্ষা, কারাগারে নির্যাতন-নিপীড়নের কথা বর্ণনা করেছেন। দেখানো হয়েছে গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রেক্ষাপট। দেশের ইতিহাসে অন্যতম এই নেতার মৃত্যু প্রমাণ করেছে তিনি সত্যিকার অর্থেই মানুষ ও দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন বলে জানিয়েছেন বক্তারা। তাদের ভাষ্য, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে তার উপস্থিতি, পরামর্শ এবং দিক-নির্দেশনা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। তার শাসন আমলে দেশের অর্থনীতিতে উন্নতি, শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তার উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তারা। তারা বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সময়ের মৃত্যু হয়নি, ইতিহাসেরও মৃত্যু হয়নি। আগামী দিনের যে ইতিহাস এই জনপদে সৃষ্টি হবে, তার ড্রাইভিং ফোর্স হবে খালেদা জিয়া ও তার আদর্শ। তিনি দেশ ও জনপদকে ভালোবাসতেন। তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, ছিলেন একাধিকবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং গণতান্ত্রিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ন অংশীজন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অসাধারণ দৃঢচেতা। রাজনীতি সংগ্রাম ও কঠিন সময়ে মধ্যেও তিনি ধৈর্যের ও আত্মমর্যাদার পরিচয় দিয়েছেন। খালেদা জিয়া একজন বিচক্ষণ এবং সত্যিকারের একজন দেশনেত্রী বলেও বক্তারা বলেন। তারা খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক রাষ্টীয় উপাধী দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত স্থানে নাগরিক শোকসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বেলা ৩টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে এই সভা শুরু হয়। পরে শোকগাঁথা পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে খালেদা জিয়াকে নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শেষে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি এবং জুবাইদা রহমানের বড় বোন শাহীনা জামান বিন্দু।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধিকবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং গণতান্ত্রিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অসাধারণ দৃঢচেতা। রাজনীতি সংগ্রাম ও কঠিন সময়ে মধ্যেও তিনি ধৈর্যের ও আত্মমর্যাদার পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু উনার চিকিৎসার বিষয়ে যে তথ্য আপনারা শুনেছেন, আমরা দুঃখিত ও অবাক হয়েছি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার মামলায় দীর্ঘদিন কারাবাস করেছেন। এটি আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। তিনি বলেছিলেন- ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসায় শান্তি সমাজ গড়ে তুলতে হবে। আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি, এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বয়ান নয়। আমার বিবেচনায় তিনি একজন বিচক্ষণ, সত্যিকারের একজন দেশনেত্রী। আমি সরকারকে অনুরোধ করব খালেদা জিয়াকে যেন সর্বোচ্চ সম্মানসূচক রাষ্টীয় উপাধী দেওয়া হয়।

অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়া এই দেশকে ভালোবাসতেন। এই জনপদকে ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন এই দেশের পানি। এই পানির জন্য তিনি সংগ্রাম করেছেন। ভারত সরকার যখন টিপাইমুখে বাধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল, তখন তিনি আমাদের বলেছিলেন- একটা বড় আকারের সেমিনারের আয়োজন করতে। যাতে আমরা দাবি জানাতে পারি। আজকে এখানে তাকে স্মারণ করতে গিয়ে তার তিনটি উক্তি আমরা চিরকাল মনে রাখবো, এক-দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভূ নেই, দুই-আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা, ওদের হাতে শৃঙ্খল এবং তিন-দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, দেশই আমার শেষ ঠিকানা। এই মন্ত্রগুলো ধারণ করলে তার দল এবং এই দেশ রক্ষা পাবে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সময়ের মৃত্যু হয়নি, ইতিহাসের মৃত্যু হয়নি। আগামী দিনের যে ইতিহাস এই জনপদে সৃষ্টি হবে, তার ড্রাইভিং ফোর্স হবে বেগম খালেদা জিয়া ও তার আদর্শ।

আইন উপদেষ্টা ড. আফিস নজরুল বলেন, সবাই আমরা বেগম জিয়ার জন্য মুক্তভাবে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ব্যক্ত করতে পারছি। আর উনার (খালেদা জিয়া) অদ্ভুত একটা বিচার হয়েছিল। তিনি আইনজীবীর কথা শুনে বিস্ময়ের সঙ্গে বলেছিলেন- কী আমি এতিমের টাকা মেরে খেয়েছি! এই বাক্যটাকে বিচারক লিখেছিলেন- বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি কাজটা করেছেন। এতো জঘন্য বিচার হয়েছে। এটার বিরুদ্ধে বিবৃতির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। মানে ফোন করেছি। ৪ জনের বেশি রাজি হন নাই। ৪ জনের বেশি না হওয়ায় পত্রিকায় দিতে পারি নাই। উনি (খালেদা জিয়া) যখন মুমূর্ষু অবস্থায়, উনাকে যেনো বিদেশে পাঠানো হয় এজন্য অনেক মানুষকে অনুনয় করেছি। অনেকের হয়ত ইচ্ছা ছিল; কিন্তু সাহস করেন নাই।

আইন উপদেষ্টা বলেন, তিনি যখন জীবিত ছিলেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, বেগম জিয়া ভালো থাকবে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি, উনি অবশ্যই এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কী ভালো আছে? বাংলাদেশকে যদি ভালো থাকতে হয়, বেগম জিয়াকে ইন্টারনালাইজড করতে হবে।

সভায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমার সৌভাগ্য যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। একজন স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে আমার মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি। দেশকে ভালোবেসে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। জেল, গৃহবন্দি এতো কিছুর পরেও উনি যখন ৭ আগস্ট মুক্ত হয়ে ভাষণ দিলেন, সেখানেও তিনি প্রতিশোধের কথা বলেননি। তিনি বলেছিলেন ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয় প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি। এই যে উদারতা, সেটা যদি আমরা মনে প্রাণে গ্রহণ করতে পারি তাহলে আমরা জ্ঞাণভিত্তিক দেশ গড়ে তুলতে পারব। তিনি বলেন, আমি সবার কাছে বলব, খালেদা জিয়ার যে শেষ বাণী জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান- আমরা যেন সবাই এটাকে ধারণ করি।

নিউ এজ সম্পাদক সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার মৃত্যুর মধ্যদিয়ে পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে গেছেন যে, তিনি শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী দলের নেত্রী ছিলেন না, সত্যিকার অর্থেই মানুষের এবং দেশের নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন। যা দলমত নির্বিশেষে জানাজায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া রাজনীতিক হিসেবে তার জন্য যেমন সাফল্য ছিলো, সেই সাফল্য মোকাবিলা করতে গিয়ে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ যে আঘাত দিয়েছেন, তার পরিবারের ওপর যে সমস্ত দুর্ভোগ গেছে- তিনি কখনও প্রকাশ্যে তার বেদনাবোধের কথা, নিন্দাবোধের কথা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেননি।

নূরুল কবীর বলেন, আপাত দৃষ্টিতে এটা খুব সহজ কথা হতে পারে। কিন্তু এই যে সংযম, পরিমিত বোধ এবং আত্মমর্যাদা রাজনীতিতে অনেক অনুসারি থাকবেন, মত পথ দর্শন থাকবে। কিন্তু তিনি যে রাজনীতির, সংস্কৃতিরই হোন না কেন, এই বিষয়টা আজকের বাংলাদেশে অসহিষ্ণুতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। এটা তাকে ইতিহাসে সারাজীবন অনন্যতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্ট ইরেকশন। ওই ধানের শীষে ভোট দিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাতে হবে। এই শোকসভা থেকে একজন মহীয়সী নারীর প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও নিবেদন জানাই। তাঁর সবচেয়ে বড় গুণ হলো সাহস ও দেশপ্রেম। দেশের জন্য তার আত্মত্যাগ অনন্য।

পরিশেষে বাংলাদেশের সেই গানটি মনে পড়ে শফিক রেহমানের। গানের মধ্যদিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। গানটি হচ্ছে...“এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে মন তো যেতে চায় না, মরতে একবার দেখে যাই, কে জানে আর যাওয়া হয় কি না। না না যেও না, মন তো যেতে চায় না” ম্যাডাম, আপনাকে স্যালুট। থ্যাঙ্ক ইউ। আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সংগ্রামের পতাকা আজ তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এটি যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি এক গভীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জেরও বিষয়। বেগম খালেদা জিয়া ও শহিদ জিয়াউর রহমানের সন্তান হওয়া নিঃসন্দেহে গর্বের। কিন্তু একই সঙ্গে এটি একটি ভয়ের ও শঙ্কার বিষয়ও। কারণ বাংলাদেশের মানুষ সবসময় তারেক রহমানকে তার পিতা ও মাতার সঙ্গে তুলনা করবে। এই তুলনা অত্যন্ত কঠিন- যেকোনো মানুষের জন্যই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গত ৫৫ বছরের ইতিহাসে মাত্র দু’জন নেতা-নেত্রী জন্মেছেন, যাদের সমতুল্য হওয়া কঠিন। আর তারা যদি পিতা-মাতা হন, তাহলে সেই সন্তানদের জন্য দায়িত্ব আরও অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে।’

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, খালেদা জিয়ার প্রধানতম তিনটা বড় গুণ ছিল। তিনি শুনতেন, তিনি প্রশ্ন করতে জানতেন এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিতেন দেশের স্বার্থ ও বৈশ্বয়িক গুরুত্ব বিবেচনায়। আমি বিশ্বাস করি, তাকে জাতি মনে রাখবে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জাতির এই সন্ধিক্ষণে তার (খালেদা জিয়া) উপস্থিতি, পরামর্শ, দিক-নির্দেশনা সম্ভবত সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিল। উনি হয়ত চাইতেন আজকের এই চ্যালেঞ্জগুলো নীতিনিষ্ঠভাবে, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা থেকে যৌথভাবে মোকাবিলা করতে। উনার জীবন বহুমাত্রিক। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল উনার ২ শাসনামলে ৪ বার নীতিবিষয়ক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার।

আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অবকাঠামো উন্নয়ন, আইনের শাসন, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার নীতি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সাহায্য করেছে। একই সময়ে সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তার (খালেদা জিয়া) কিছু উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার শিক্ষা ও মানুষের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নেয়া কর্মসূচিগুলোর কথা উল্লেখ করেন।

ওদিকে শোকসভা ঘিরে নিরাপত্তায় ছিলেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এর পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সভাস্থলে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

গত ৩০ ডিসেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর খালেদা জিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরদিন সংসদ প্রাঙ্গণেই জনসমুদ্রে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর জিয়া উদ্যানে স্বামী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয় তাকে। তার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়, দাফনের দিনে রাখা হয় সাধারণ ছুটি। আর বিএনপির তরফে দলের চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে পালন করা হয় ৭ দিনের শোক।

আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় সভায় গবেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ আল তিতুমীর, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম ফায়েজ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিমিন রহমান, কূটনৈতিক আনোয়ার হাশিম, ডিপিআই’র প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তার দুলাল, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ, দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান, তত্ত্বাধায়ক সরকারের সাবেক বিশেষ সহকারী রাজা দেবাশীষ রায়, লেখক ও এক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বক্তব্য রাখেন। তবে শোকসভায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা মঞ্চে বক্তব্য দেননি।

সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক, রাজননৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তদন্ত প্রয়োজন - ডা. এফএম সিদ্দিকী : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত চিকিৎসকদলের সদস্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এ ধরনের অবহেলা, লিভার ফাংশন দ্রুত অবনতি উনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটা উইলফুল নেগলিনেন্স বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা উনাকে হত্যা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস ও আথ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে আছে। এই বিষয়ে আইনগতভাবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন: ক. সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা ম্যাডামের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কি না। খ. ভর্তি কালীন সময় কোন কোন চিকিৎসক উনার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না। গ. মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ম্যাডাম আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন, তখন কি কারণে সেটি হয়নি বা কারা বাধা দিয়েছিল।’

খালেদা জিয়ার কারাজীবনের চিকিৎসায় বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে এ চিকিৎসক বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ম্যাডামের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএমইউ-এর সমস্ত ডকুমেন্ট আইনগতভাবে জব্দ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিদেশভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে ম্যাডামের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে-আশা করি। আমরা জানি, জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড।’