উত্তরায় আবাসিক ভবনে আগুন, নিহত ৬

রান্নাঘরে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, ধারণা পুলিশের

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় ছয়তলা একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন লাগে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় ফায়ার সার্ভিস। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ বলেন, নিহতরা দুই পরিবারের সদস্য। তারা পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার দুটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। নিহতদের মধ্যে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২) এক ফ্ল্যাটে থাকতেন।

রাব্বির বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়ে। তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা চাকরি করতেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে। তাদের আরেক ছেলে ফাইয়াজ উত্তরায় নানীর বাসায় থাকায় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বির মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রিশানের মরদেহ ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে রয়েছে।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ওই তিনজনের কেউ দগ্ধ হননি। ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্য পরিবারের সদস্যরা হলেন মো. হারিছ উদ্দিন (৫২), তার ছেলে মো. রাহাব (১৭) এবং হারিছের ভাতিজি রোদেলা আক্তার (১৪)। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। তাদের মধ্যে হারিছ ও রাহাবের মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রোদেলার মরদেহ লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে রয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ফল ব্যবসায়ী হারিছ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কিডনি জটিলতার কারণে তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হত। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দোতলায় রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গ্যাস সংযোগ অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে আমাদের ধারণা।’

রাজধানীর উত্তরার ১১ নং সেক্টরের ১৮ নং সড়কের ৭ তলা ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটে। উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিক আহমেদ জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ রয়েছে উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে, উত্তরায় অন্য আরেকটি হাসপাতালে দুজনের মরদেহ আর সর্বশেষ যে মৃত্যুর সংবাদ পাই সেই মরদহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হয়েছে। এই ঘটনায় সর্বমোট কতজন আহত হয়েছেন তা জানতে আমাদের বিভিন্ন টিম কাজ করছে। আগুনের সূত্রপাত প্রসঙ্গে রফিক আহমেদ বলেন, আমরা যতটুক তথ্য পেয়েছি যে ভবনটির দোতলায় থাকা একটি রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেটি ওই রান্নাঘরের বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে হতে পারে নয়তো গ্যাস লিকেজ থেকে হতে পারে। তবে, এ বিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত না। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, গতকাল সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরার ১১ সেক্টর-১১ নম্বরের ১৮ নম্বর সড়ক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটনার খবর পেয়ে সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে উত্তর ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো গতকাল সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।