হাসনাতের আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শনিবার ইসির আপিল শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত হয়। এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। ইসি তার আবেদন নামঞ্জুর করে। ফলে হাসনাতের মনোনয়ন বৈধই থাকছে। এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন বিএনপির প্রার্থী। আপিল আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, হাসনাত আবদুল্লাহ তার নির্বাচনী ব্যয়ে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত যে ৩০ লাখ টাকার কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি একটি ‘ভেক বিষয়’।
তবে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে এই অভিযোগটি গৃহীত হয়নি। ফলে হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়েছে এবং তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। এর আগে ঋণ খেলাপির অভিযোগ এনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোয়নপত্র কেন বাতিল করা হবে না, এজন্য ইসিতে আপিল করেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
ইসির শুনানিতে হট্টগোল : সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের শুনানিকালে ইসিতে হট্টগোল, উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গতকাল শনিবার নির্বাচন ভবনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বৈধ প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি চলাকালে এই হট্টগোল হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবিদের ব্যাখ্যা চায় ইসি। তারা ব্যাখ্যা দিতে থাকেন। ব্যাখ্যাগ্রহণের শেষ দিকে আপিল শুনানি দুপুরে আধা ঘণ্টার জন্য বিরতি দেয় কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুরো কমিশন আসন ত্যাগ করার পরপর মঞ্চের সামনে আপিলের পক্ষে-বিপক্ষের আইনজীবীরা জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তারা বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। এই জটলার মাঝে উপস্থিত থাকা ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সেখানে উপস্থিত বিরোধীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন (দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিলের শুনানি ছিল)।
পরে অন্য এক আপিলের শুনানির জন্য অডিটরিয়ামে উপস্থিত কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
এ সময় তিনি, আব্দুল মিন্টুর ক্ষোভ প্রকাশ নিয়ে আপত্তি তোলেন। সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে আইনজীবীরা সরিয়ে নিলে ছেলে তাবিথ আউয়াল তখন হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিরতির পর শুনানি শুরু হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ কমিশনের কাছে অভিযোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিএনপিপ্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু অশ্রাব্য ভাষা গালিগালাজ করেছেন এবং বল প্রয়োগেরও চেষ্টা করেন। একই সময় অপর এক আইনজীবী অভিযোগ করেন, কিশোরগঞ্জের একটি আসনের বিএনপিপ্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর সমর্থকরা গত শুক্রবার শুনানি শেষে নির্বাচন ভবনের সামনে তার ক্লায়েন্টতে মারধর করেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। এটাকে আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত বলি। আশা করছি, কেউ আর এ ধরণের ঘটনা ঘটাবেন না। এ সময় তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য নির্বাচনি তদন্ত কমিটির কাছে দায়েরের পরামর্শ দেন।
