হাসিনা-টিউলিপ ও রাদওয়ানের দুর্নীতি মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার এই দিন নির্ধারণ করেন। আদালতের পেশকার বেলাল হোসেন বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান। ওই মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলায় আদালতে ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, শেখ হাসিনা ও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরিচালক শেখ শহিদুল ইসলাম, তদন্তে প্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। এর আগে, গত বছরের ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ২২ জানুয়ারি : চব্বিশের জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ পলাতক সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ আগামী ২২ জানুয়ারি।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন চেয়ে প্রসিকিউশনের আবেদন ও অব্যাহতি চেয়ে আসামি পক্ষের আবেদন শুনানি শেষে আজ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আদেশের এই দিন ধার্য করেন। আদালতে প্রসিকিউসন পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান।
ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি এ মামলার অপর আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। গত ১৮ ডিসেম্বর এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। পরবর্তীতে অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল : চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হয়েছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে মোহাম্মদপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। নানক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ছিলেন। এ মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকেও আসামি করা হয়েছে।
