‘হ্যাঁ’ ভোটে খুলবে নতুন বাংলাদেশের দরজা

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতির উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে। ‘হ্যাঁ’ তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। হ্যাঁতে আপনি নিজে সিল দেন। আপনার পরিচিত সবাইকে সিল দিতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং তাদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। দেশ পাল্টে দেন।’ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে এই বার্তা দেন।

নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে উল্লেখ করে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রফেসর ইউনূস বলেন,‘হ্যাঁ’-তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। ‘হ্যাঁ’-তে আপনি নিজে সিল দিন, আপনার পরিচিত সবাইকে সিল দিতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং তাদেরকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। দেশ পাল্টে দিন’।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে এরইমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সেই উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গণভোটে অংশ নিন। আপনার সম্মতি দিন।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। বার্তায় তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। সরকার ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের কথাও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত করার অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি।

জুলাই সনদের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না এবং সব ক্ষমতা শুধু প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না।

এ ছাড়া সনদে এ ধরনের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। দেশ পাল্টে দেওয়ার ডাক দিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেবো।

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এটি দেশের ভাগ্য নির্ধারণ ও দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন, যা সুষ্ঠু হতে হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান। বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। এসময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নির্বাচন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি নেতারা বলেন, গণভোটে ?‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

এনসিপির নেতারা নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং নির্বাচনে যেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে সরকারকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কিত যে কোনো অভিযোগ ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সরকার তা নেবে। কেউ যেন আইন অমান্য না করতে পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতাধীন আনা হবে। এছাড়া ঝুঁকির আশঙ্কা আছে এমন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে এগুলো সব মনিটর করা হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে সরকার আইনসম্মতভাবেই প্রচারণা করছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন দেওয়া প্রয়োজন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী হবে আমরা তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই দায়িত্ব সবার- সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল- আমাদের সবার। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কাা মনকরছি।’