নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

* নতুন বাংলাদেশ গড়তে ৩১ দফা নীতি ঘোষণা জামায়াতের * রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির * নানা প্রোপাগান্ডা রুখতে যুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে যাবে দল : তাহের * পলিসি সামিটে ভারতসহ ৩০ দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে নীতিগত রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দলটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘পলিসি সামিট- ২০২৬’। সামিটে উপস্থাপিত রূপরেখায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক মর্যাদাকে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ডা. শফিকুর রহমান।

‘পলিসি সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী ‘নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়তে ৩১ দফা নীতি ঘোষণা করেছে। সামিটে ঘোষিত নীতিমালার মধ্যে রয়েছে- দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, ট্যাক্স ও ভ্যাট বর্তমান হার থেকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ, এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা সমন্বিত স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু, আগামী তিন বছরে সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বৃদ্ধি না করা, বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু করে শ্রমিকদের জন্য ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা প্রদান। শিক্ষা খাতে ঘোষণার মধ্যে রয়েছে- গ্রাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে পাঁচ লাখ গ্রাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদে মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) প্রদান, মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ, প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ প্রদান, যাতে গরিবের মেধাবী সন্তান হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজে পড়ার সুযোগ পায়। এছাড়া ইডেন কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও হোম ইকোনোমিক্স কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং সকল নিয়োগ মেধাভিত্তিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শিশুর বয়স ২ বছর পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। তরুণদের জন্য ঘোষিত পরিকল্পনায় রয়েছে- দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, ৫ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রতিটি উপজেলায় গ্রাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন, প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে ৫ বছরে ৫০ লাখ জব এক্সেস নিশ্চিত করা, নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে পাঁচ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু। আইসিটি খাতে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটি সেক্টর থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ, আইসিটি খাতে সরকারের ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয় এবং শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। একইসঙ্গে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে পাঁচ থেকে ৭ বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশী প্রফেশনাল, গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ জোরদারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সম্মেলন। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হওয়া উচিত, সেই মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে গভীর ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এই সামিটে। এতে দেশের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও মান্যবর কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের নীতিগত দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন জামায়াতের নেতারা।

সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয় বরং ১৮ কোটির বেশি মানুষের দেশের জন্য শাসনব্যবস্থার নতুন দিশা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

বর্তমানে দেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতাই বড় চ্যালেঞ্জ বলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণরা শিক্ষা অনুযায়ী কাজ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। নারীরা এখনও নানা কাঠামোগত বাধার মুখে পড়ছেন। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও কোটি কোটি মানুষ সামান্য একটি সংকটেই দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়ছেন। এই বাস্তবতাগুলো সৎভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাফল্যের একমাত্র মানদ- হতে পারে না। অর্থনৈতিক সাফল্য এমন হওয়া উচিত, যাতে মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিকল্পনা করতে পারে, মর্যাদার সঙ্গে পরিবার পরিচালনা করতে পারে এবং সমাজে অর্থবহভাবে অংশ নিতে পারে।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বাইরে কর্মরত লাখো প্রবাসী শ্রমিক তাদের শ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে গভীর দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স পরিবারকে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখছে ও বাংলাদেশকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করছে। তবে তাদের অবদান শুধু অর্থেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে আরও বড় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা রয়েছেন। তাদের অনেকেই দেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, নতুন প্রজন্মকে পরামর্শ দেওয়া ও সংস্কারে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

অর্থনৈতিক চিন্তায় পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, কর্মসংস্থানকে বিনিয়োগের পার্শ্বফল হিসেবে নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ধীরে ধীরে অনানুষ্ঠানিক শ্রমকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎনির্ভর করবে রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যকার অংশীদারত্বের ওপর। সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

নারীর অংশগ্রহণ ও কাঠামোগত সংস্কার : বাংলাদেশের ভবিষ্যতে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সম্মেলনে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রয়োজন। জনসংখ্যার অর্ধেককে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো দেশ টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না।

রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা রাজনীতিকে নেশা হিসেবে গ্রহণ করিনি, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি। রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, আমরা দুনিয়ার জন্য রাজনীতি করি না। ‘অতীতে দেশটাকে লুটপাট করে খেয়েদেয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা পেয়েছি একটা কঙ্কাল। সেই কঙ্কালকে নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাব। কঙ্কাল বাংলাদেশকে জীবন্ত বাংলাদেশে পরিণত করা হবে।’ স্বৈরাচার বিদায় নিলেও দেশ থেকে এখনও ‘ স্বৈরমানসিকতা’ নির্মূল হয়নি উল্লেখ করে তা সরাতে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিদেশ গেলেই বলি আমাদের দুটি রেমিট্যান্স থাকবে- একটি আর্থিক ও অন্যটি ইনটেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্স লাগবে। দুই হাত বাড়িয়ে আপনাদের বুকে জড়িয়ে নিতে চাই। আপনারা দেশে চলে আসুন।’ অনুষ্ঠানে তিনি দেশ-বিদেশ থেকে আগত গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানান।

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দুটি প্রধান লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। প্রথমত, প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, সব ক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, ‘বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পথ-পদবি বা প্রভাব দেখা উচিত নয়। সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের এই দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিলে বাকি সব অর্জন সম্ভব।’আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ দুর্নীতি আর দুঃশাসনের কপালে চাপা পড়েছিল। সেই চ্যাপ্টার থেকে আমরা দেশকে টেনে তুলতে চাই।’ ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের মন্ত্রী-এমপিরা বিলাসিতা পরিহার করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈধ সুযোগ-সুবিধার যা গ্রহণ না করলেই নয়, শুধু সেটাই আমরা গ্রহণ করব। আমরা দুনিয়ার জন্য রাজনীতি করি না। জনগণের চোখের কোনায় সামান্য হাসি ফুটে উঠলে সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা।’ জামায়াতের প্রচার বিভাগ থেকে বলা হয়েছে জামায়াত আয়োজিত সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, কসোভো, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, ইরান, কানাডা, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল, জাতিসংঘ, ইউএনডিপি, আইআরআইয়ের প্রতিনিধিরা সামিটে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক দিলারা চৌধুরী। জামায়াতের নেতাদের মধ্যে ছিলেন নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও আ ন ম. শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিডি’র ডিস্টিংগুইসড ফেলো ও প্রথম নির্বাহী পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, ইবনে সিনা ট্রাস্টের সদস্য প্রশাসন অধ্যাপক ড. এ কে এম সাদরুল ইসলাম, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদ, দৈনিক নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাউদ্দিন বাবর, দ্য নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, ডিইউজে’র সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম নেতৃবৃন্দ।

নানা প্রোপাগান্ডা রুখতে যুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে যাবে দল- তাহের : ‘পলিসি সামিট ২০২৬’ শীর্ষ আয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, আধুনিক এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে এমন দেশ গঠনে কাজ করছে জামায়াত। দেশ-বিদেশে জামায়াত বিরোধী নানা প্রোপাগান্ডা রুখতে যুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। মো. তাহের বলেন, মূল বিষয়টি হলো সুশাসন। আমরা সবাই জানি যে সুশাসনের জন্য আমাদের ভালো মানুষের প্রয়োজন এবং আমাদের দেশে প্রধান বাধা হলো দুর্নীতি। তাই সুশাসনের জন্য আমাদের অবশ্যই এমন একটি সমাজ এবং এমন কিছু ব্যক্তি প্রয়োজন যারা দুর্নীতিমুক্ত হবে। জামায়াতে ইসলামীর অগ্রাধিকার এবং আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়ে তুলব।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়ত সুশাসনের জন্য আমাদের দক্ষ ও যোগ্য জনবল প্রয়োজন এবং আমাদের দরকার আন্তরিক, দেশপ্রেমিক, সৎ এবং নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। জামায়াতের লক্ষ্য হলো এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যা এই ধরনের ব্যক্তি ও ব্যক্তিত্ব তৈরি করবে। আর পুনরায় সুশাসনের জন্য আমাদের একটি অত্যন্ত ভালো ব্যবস্থা প্রয়োজন যা সমতা নিশ্চিত করবে এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের- নারী ও পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ বা সকল পেশার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে। নায়েবে আমির বলেন, সুশাসন ও সুন্দর সমাজের জন্য সমাজ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন প্রয়োজন। সমাজ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করার জন্য আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সহযোগিতা এবং নৈতিকতাভিত্তিক পরোপকারী ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা হবে। সুতরাং, যদি আমরা এগুলো অর্জন করতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ আমরা একটি ভালো সরকার, ভালো সমাজ, ভালো মানুষ এবং একটি ভালো দেশ পাব; আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।

রূপরেখায় আছে

* দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’

* স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৬-৮% বরাদ্দ

* স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু (এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এক কার্ডে)

* প্রথম ৩ বছরের জন্য সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ মওকুফ

* কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা

* ৫ লাখ গ্রাজুয়েটকে ২ বছর মেয়াদি মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ

* মেধাভিত্তিক ১ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ঋণ

* ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা

* বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু এবং ১০% মালিকানা শ্রমিকদের প্রদান

* ৬৪ জেলায় ৬৪ বিশেষায়িত হাসপাতাল

* সকল শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাদ্য

* ‘ফার্স্ট হান্ড্রেড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় প্রসূতি নারী ও মায়েদের বিনামূল্যে সেবা ও সহায়তা

* ৫ বছরে ১০ মিলিয়ন তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ

* প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে ৫ বছরে ৫ মিলিয়ন জব এক্সেস নিশ্চিত

* নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি

* ১.৫ মিলিয়ন ফ্রিল্যান্সার তৈরি

* স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু

* ২০৩০ সালের মধ্যে ২ মিলিয়ন আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট