কড়াইল বস্তিবাসী পাবেন ফ্ল্যাট প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
* ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে * ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কড়াইলের বস্তিতে কাঁচা ঘরে যারা থাকেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের জন্য সেখানে পাকা দালান বানিয়ে ফ্ল্যাটে থাকার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তারেক রহমান বস্তিবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করছেন, থাকার কষ্ট করছেন, সেই কষ্টটি আমরা ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমরা এখানে উঁচু উঁচু বড় বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই আল্লাহর রহমতে এবং এইখানে যে মানুষগুলো থাকেন, তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে আমরা প্রতিটি ছোট ফ্ল্যাট করব এবং সেই ফ্ল্যাটগুলো তাদের নামে আমরা দিতে চাই।’
গত শতকের নব্বইয়ের দশকে তিনটি সরকারি সংস্থার ৯৩ একর জমি দখল করে গড়ে ওঠে কড়াইল বস্তি। রাজধানীর সবচেয়ে বড় এই বস্তিতে ৪০ হাজারের মতো ঘরে নিম্নআয়ের মানুষেরা থাকেন। কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের আবাসনসংকট নিরসনের পাশাপাশি সেখানে বসবাসরতদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জানি এখানে আপনাদের যে সন্তানেরা আছে, তাদের এখানে লেখাপড়ার সমস্যা আছে। আল্লাহ যদি রহম করেন, আমরা এখানে চাই বাচ্চাদের জন্য সুন্দর স্কুল গঠন করব। স্কুলের পাশাপাশি তাদের খেলাধুলার যাতে পরিবেশ থাকে, খেলাধুলার জন্য যাতে মাঠ থাকে, সেই ব্যবস্থাও ইনশা-আল্লাহ আমরা এখানে করতে চাই।’
ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা বিএনপির রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে যাতে সমস্যা না হয়, আপনাদের যাতে দূরে যেতে না হয়, আপনাদের এলাকার মধ্যে ক্লিনিক থাকবে, হাসপাতাল থাকবে, সবকিছু থাকবে। এইভাবে আমরা আপনাদের এই এলাকাকে গড়ে তুলতে চাই। এইভাবে সাজিয়ে তুলতে চাই।’ আসন্ন সংসদ নির্বাচনে যে ঢাকা-১৭ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান, কড়াইল বস্তিটি ওই নির্বাচনি এলাকায় অন্তর্ভুক্ত। প্রতীক বরাদ্দ শেষে ২২ জানুয়ারি এই নির্বাচনে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে।
তারেক রহমান নির্বাচনের প্রসঙ্গ ধরে বলেন, ‘আমি জানি না, এটা নির্বাচন আচরণবিধিতে পড়বে কি না, কেউ ষড়যন্ত্র করবে কি না। কিন্তু আমি যা করতে চাই, আমি আল্লাহর রহমত নিয়ে সবকিছু করতে চাই।’
দোয়া মাহফিল সঞ্চালনা করেন- ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম। এতে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানও অংশ নেন।
মোনাজাত শেষে তারেক রহমান আবারও কথা বলেন। তিনি কড়াইলবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের ওপর কেউ যদি কষ্ট দিয়ে থাকে, কেউ যদি অত্যাচার-নির্যাতন করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’
কড়াইলবাসীর কাছ থেকে জোর করে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল আদায় বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যা মিটার বলবে, যা সরকারের থাকবে, আপনারা শুধু সেটাই দেবেন। কিন্তু এই কাজগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনাদের এই এলাকার সন্তানকে আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে। আপনাদের আমার পাশে থাকতে হবে।’
তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করি।
আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনাদের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় মা-বোনদের শিক্ষার প্রসারে বিনামূল্যে নানান উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একইভাবে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশবাসী বহুভাবে উপকৃত হয়েছে।
কড়াইলবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন- আমি জিয়াউর রহমানের সন্তান, খালেদা জিয়ার সন্তান। কিন্তু এই পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয় হলো- আমি আপনাদেরই সন্তান। আমি বাংলাদেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করি। সবাই যেন আল্লাহর দরবারে একসঙ্গে হাত তুলে দেশের কল্যাণ কামনা করেন- তিনি দেশবাসীর প্রতি এ আহ্বান জানান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিতে চাই। কৃষকদের জন্যও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা যদি আমাদের সুযোগ দেন, আমরা এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন করব।
করাইল বস্তিবাসীর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, আমার যেমন সন্তান আছে, আপনাদেরও সন্তান আছে। আমরা চাই করাইলের সন্তানেরা বিদেশি ভাষায় কথা বলতে শিখুক, উন্নত চিকিৎসাসেবা পাক। এজন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ওই এলাকার আবাসন সমস্যা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সবাই যেন থাকার সুযোগ পায়, সেজন্য ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই এলাকায় একটি ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নিজের অতীত স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান জানান, তিনি একসময় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকতেন। সেই বাড়ি যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা ভুলে যাননি। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই সাধারণ মানুষের কষ্ট তিনি অনুভব করেন এবং করাইলবাসীর জন্য কাজ করতে চান।
তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ‘২৪-এর আন্দোলনে’ শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে করাইলবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘আল্লাহ যদি রহম করেন এবং আপনারা দোয়া করেন, তাহলে আমরা এসব কাজ বাস্তবায়ন করতে পারব।’
