বিএনপির ৫৯ শতাংশ প্রার্থীই ‘ঋণগ্রস্ত’
বলল টিআইবি
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট প্রার্থীর মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রার্থী ‘ঋণগ্রস্ত’ বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রার্থীদের ইশতেহার নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনটির তথ্য তুলে ধরা হয়। এসব বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও টিআইবির কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। টিআইবির তথ্যে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এতে অংশ নিচ্ছে। যাতে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮১ জন। এতে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র, অর্থাৎ ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র। আর ১৭৩২ জন দলীয় মার্কা নিয়ে লড়বেন। সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। প্রার্থীদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮৮৬৮.৫২ কোটি টাকা।
সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এরমধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৭৪৭১.৬৭ কোটি টাকা। ১০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য তুলে ধরে টিআইবি বলছে, বিএনপির ৫৯.৪১ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত; যা সর্বোচ্চ। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা; এই হার ৩২.৭৯ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির ২৬.৯৭ শতাংশ প্রার্থী ঋণগ্রস্ত বলে জানিয়েছে টিআইবি। এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে বড় আকারে। মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ বলছে টিআইবি। প্রতিবারের মত এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী মূল পেশা বিবেচনায় ব্যবসায়ী। আইন ও শিক্ষক পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন যথাক্রমে ১২.৬১ এবং ১১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী। রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন ১.৫৬ শতাংশ প্রার্থী। এ বছর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৮৯১ জন। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ জন শত-কোটিপতি প্রার্থী। এবারের নির্বাচনে বর্তমানে মামলা আছে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে, যা মোট প্রার্থীর ২২.৬৬ শতাংশ। আর অতীতে মামলা ছিলো ৭৪০ জন বা ৩১.৬৪ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এবার সকল দলের প্রার্থীদের ঘোষিত সর্বমোট নির্বাচনি ব্যয় ৪৬৩.৭ কোটি টাকা, প্রতিজন প্রার্থীর গড় ব্যয় সাড়ে ২২ লক্ষ টাকা। ঘোষিত সবচেয়ে বেশি ব্যয় বিএনপির ১১৯.৫ কোটি টাকা। আর দ্বিতীয় অবস্থানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মোট ব্যয় ৮০.৬ কোটি টাকা। এবার ২৫৯ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদ বেশি, ১১৮ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের দালান বা ফ্ল্যাট সংখ্যা বেশি এবং ১৬৪ প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী-স্ত্রী/নির্ভরশীলদের জমির পরিমাণ বেশি।
ব্রিটিশ নাগরিক হলেও হলফনামায় উল্লেখ করেননি দুই প্রার্থী : দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থা বলেছে, কমপক্ষে দুজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় উল্লেখ করেননি। টিআইবির পাওয়া তথ্য বলছে, ওই দুই প্রার্থী ব্রিটিশ নাগরিক। অবশ্য দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করা দুই প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেনি টিআইবি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন তাঁদের নীতিমালা অনুযায়ী এই ধরনের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নন। তবে যে তথ্য তারা প্রকাশ করেননি, সেই তথ্য টিআইবির কাছে আছে। তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
হলফনামায় তথ্য গোপন করার বিষয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একজন প্রার্থীর ঘোষিত নির্ভরশীলদের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে কেনা এক দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড (২১০ কোটি টাকা) মূল্যের বাড়ির সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে, যা ওই প্রার্থীর হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি। নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী বাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে ‘শেল’ কোম্পানির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল, যার মূল মালিকানা কোম্পানির নিবন্ধন দেখানো হয়েছে দুবাই। টিআইবি বলছে, একজন প্রার্থী বিদেশে তার নিজের কোনো সম্পদের তথ্য না দিলেও স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে। একজন প্রার্থী বিদেশে তিনটি ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকার ঘোষণা দিলেও প্রকৃত সংখ্যাটি কমপক্ষে তিন গুণ এবং বিনিয়োগের সম্ভাব্য পরিমাণ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। আরেকজন প্রার্থী বিদেশে নিজস্ব মালিকানায় কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকার কথা স্বীকার না করলেও অনুসন্ধানে মোট ১১টি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আটটি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত। এ ছাড়া একজন প্রার্থীর ‘কর স্বর্গে’ কোম্পানির নিবন্ধন থাকার পুরোনো তথ্য অনেকটা প্রকাশিত থাকলেও এ বিষয়ে হলফনামায় কোনো ঘোষণা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে টিআইবি।
