উত্তরবঙ্গের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান

উড়ে এসে জুড়ে বসিনি ছিলাম আছি থাকব

* বেকারভাতা নয়, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করব * পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে পাচারের টাকা বের করব * আমরা চাঁদা নেব না, কাউকে নিতেও দেব না * আজ শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন জামায়াত আমির

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসমাবেশ করছে। গতকাল শুক্রবার একদিনে উত্তরবঙ্গের তিনটি জেলা ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে জনসমাবেশ করেছে দলটি। জনসভাস্থলে জড়ো হন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন- ‘কোনো একক দলের শাসন আমরা চাই না, আমরা চাই জনগণের শাসন। যেখানে আলেমণ্ডউলামা থাকবেন, দেশপ্রেমিক মানুষ থাকবেন- যারা দেশকে ভালোবাসেন কিন্তু আধিপত্যবাদ মেনে নেবেন না। সবাইকে নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়ব, ইনশাল্লাহ।’ শুক্রবার বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না। তাই এবার শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, বাংলাদেশের মুক্তিকামী ১০ দলের জোটকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

বেকারদের জন্য ভাতা নয়, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করব : বেকার ভাতা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘অনেকে ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলছেন। আমরা কারও হাতে অসম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই না; আমরা সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। তবে কাজ করার জন্য তিনটি শর্ত মানতে হবে- নিজে দুর্নীতি করবেন না, কোনো দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেবেন না এবং গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন; সেখানে কোনো রাজনীতিবিদের হস্তক্ষেপ থাকবে না।’ ৫৪ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘বস্তাপচা রাজনীতি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে দেশকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা বদলাতে হবে, বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে।’

উত্তরবঙ্গ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব ছিল না; ইচ্ছাকৃতভাবেই এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে, অথচ এই উত্তরবঙ্গই দেশকে খাদ্য ও পুষ্টি জোগান দেয়। আগামী দিনে উত্তরবঙ্গ থেকে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর বানানো হবে। বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।’

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের সব জেলায় মেডিকেল কলেজ চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়েও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।’ ভোটাধিকার নিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

মানুষ এমন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে যারা বন্ধু খুঁজবে, প্রভু নয় : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ এমন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে যারা বিদেশে বন্ধু খুঁজবে, কিন্তু কোনো প্রভু মানবে না। তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে উঠলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতভাবেই পাবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা আর কৃষকের কপালে ভাগ বসাতে পারবে না। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের অভাবে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করে দেন। ক্ষমতায় গেলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে, যেন কৃষক তাড়াহুড়ো না করে ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন। এতে সারাবছর দেশবাসী পুষ্টিকর ফল ও খাদ্য পাবে।

পাচার করা টাকা পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব : গতকাল শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে ১০- দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার জন্য হন্যে হয়ে ছুটতে হয় রাজধানী ঢাকায়। এই সামর্থ্য সবার নেই, রাস্তায় অনেকের মৃত্যু হয়। এ অবস্থা আমরা আর দেখতে চাই না। আল্লাহ তাআলা আমাদের দায়িত্ব দিলে ১৮ কোটি মানুষের ৬৪ জেলার কোথাও মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না।’ পঞ্চগড়- ১ আসনে জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি প্রতীক ও পঞ্চগড়- ২ আসনের প্রার্থী সফিউল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াতের আমির। এসময়ে দলটির আমির বলেন, ‘মানসম্মত সেবা এখানেও নিশ্চিত করা হবে। বলবেন এত টাকা কোথায় পাবেন? ওই যে চুরি করে আমাদের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে, ওগুলো ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢোকাইয়া আমরা বের করে আনব, ইনশা আল্লাহ। আর আগামী দিনে কাউকে আর চুরি করতে দেওয়া হবে না।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভাই, আমাদের কাছে কোনো কার্ড নেই। আপনারা সবাই ভাইবোনেরা আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা একটা ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে আগামী দিনে বেকার এবং দায়- দয়ামুক্ত একটা বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। কারও দয়ার পাত্র হয়ে বাংলাদেশের কোনো এলাকার মানুষ বসবাস করবে, তা আমরা দেখতে চাই না।’ জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরের ধনে পোদ্দারি আমরা করব না। আমরা যুবকের হাত শক্তিশালী করব, ইনশা আল্লাহ। আমরা যুবতীর হাতও শক্তিশালী করব, ইনশা আল্লাহ। পরিবার যেমন নারী- পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে, আমরা নারী- পুরুষ মিলিয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলব, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ আওয়াজ দেয়, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। ওই টেকনাফের উন্নয়নের জোয়ার আর আসতে পারে না তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। আমরা এটা উল্টাইয়া দেব। বলব, তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। এত দিন টেকনাফ থেকে উন্নয়ন হয়েছে, এখন ব্যালান্স হওয়া দরকার। এখন হবে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ। আপনারা মন খারাপ করবেন না তো?’

উত্তরবঙ্গের নদীগুলো মরুভূমি হয়ে গেছে মন্তব্য করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘শরীরের ভেতরে যেমন রক্তের নালি, রক্তকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছে দেয়, আর তাই আমরা বাঁচি। যদি ওই রক্তনালি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে মানুষ মারা যায়। আজ আমাদের আল্লাহর দান, এই নদীগুলো খুন করা হয়েছে। এই দেশের কি মা- বাবা ছিল না? তাহলে আমার নদীগুলো মরে গেল কেন?’ তিনি বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশকে গর্বের বাংলাদেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলব। আল্লাহ যদি আপনাদের মূল্যবান ভোটে, ভালোবাসায়, সমর্থনে ১০ দলের এই সমন্বয়ককে পার্লামেন্টে পাঠান, যাতে সরকার গঠন করতে পারে; আমরা কথা দিচ্ছি, শুধু নদীর জীবন ফিরে আসবে না, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে, ইনশা আল্লাহ।’

উড়ে এসে জুড়ে বসার রাজনীতি ঘৃণা করি, আমরা ছিলাম, আছি, থাকব : শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘ওরা জনগণের প্রতি পাঁচ বছরে একবার দরদের হান্ডিতে জাল দেয়, আর এটা উতলাইয়া ওঠে। বাকি সাড়ে চার বছর হারিকেন জ্বালায়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার বসন্তের কোকিল। বসন্তকাল আসলে আইসা বলে কুহু কুহু। এরপরে আর এদের খুঁজে পাওয়া যায় না। উড়ে এসে জুড়ে বসে। মানুষের সঙ্গে, তৃণমূলের সঙ্গে, গরিব- দুঃখীদের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি। আমরা ছিলাম, আমরা আছি, আমরা থাকব, ইনশা আল্লাহ।’

নারীরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখবেন : গতকাল শুক্রবার বিকালে দিনাজপুরের গোর-এ-শহিদ বড় ময়দানে ১০- দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মা-বোনেরা নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে মেধার ভিত্তিতে সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু সমাজে তাদের জন্য নিরাপদ সম্মানের জায়গা নেই। তারা ঘরেও নিরাপদ নন, তারা চলাচলে নিরাপদ নন এবং তারা কর্মক্ষেত্রেও নিরাপদ নন। মায়েরা আমাদের সম্মানের জাতি। আমাদের জীবনের চেয়ে আমাদের মায়েদের সম্মানের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, হে বাংলাদেশ, আমরা তোমাদের এমন একটা মায়ের জাতি উপহার দেব ইনশা আল্লাহ, যারা ঘরে, যাতায়াতে এবং কর্মস্থলে পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখবেন। সেখানে তারা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সম্পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা তাদের মাথার তাজ হিসেবে মাথায় তুলে রাখব। একদল দুর্বৃত্ত বলে, আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, সরকার গঠন করি, মা-বোনদের আমরা ঘরে বন্দি রাখব। যারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আজকের নারী সমাজের সমর্থন দেখে ভীতসন্ত্রস্ত, তারাই এসব কথা বলে।’

ক্ষমতায় গেলে দিনাজপুর সিটি কর্পোরেশন হবে : জামায়াতের আমির বলেন, ‘দিনাজপুরকে গণ্য করা হয় বাংলাদেশের শস্যভান্ডার হিসেবে। সারা বাংলাদেশের খাদ্যের তিন ভাগের এক ভাগ জোগান দেয় বৃহত্তর দিনাজপুর। এই জেলা নিজের উর্বর মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে যুগের পর যুগ দিয়ে চললেন। বাংলাদেশ দিনাজপুরকে কী দিল? বৃহত্তর জেলা হিসেবে অনেক জায়গায় সিটি কর্পোরেশন হয়েছে। আপনারা কি সিটি কর্পোরেশন পেয়েছেন? পান নাই কেন? আমরা এই বৈষম্যকে খতম করব ইনশা আল্লাহ। আপনাদের ভালোবাসায়-সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশসেবার সুযোগ পায়, সরকার গঠনের সুযোগ পায়, আমরা আপনাদের অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে আশ্বস্ত করছি, দিনাজপুর শহর ইনশা আল্লাহ সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হবে। সিটি কর্পোরেশন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো উন্নয়ন অটোমেটিক্যালি দিনাজপুর শহর পেয়ে যাবে।’ উত্তরবঙ্গ হবে কৃষিশিল্পের রাজধানী- এমন মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে কৃষিতে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ব্যবহার খুবই সীমিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ২৫ বছরের মধ্যে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয় ঘটিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে চার গুণ বেশি ফসল উৎপাদন করছে। আমরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করি, কিন্তু আমাদের জমিতে সেই ফসল ফলে না। আমরা চাই উত্তরবঙ্গ হোক আমাদের কৃষিশিল্পের রাজধানী। আমরা সেই শিল্পই এখানে গড়ে তুলব। কৃষিকে আধুনিকায়ন করে, ন্যায্য এবং স্বল্প মূল্যে কৃষকের কাছে তুলে দিয়ে জমির উৎপাদন বাড়িয়ে তুলব। জায়গায় জায়গায় সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে; যাতে দেশের মানুষ স্বস্তির সঙ্গে ন্যায্য দামে কৃষিপণ্য পাবে।’

আমরা চাঁদা নেব না, কাউকে নিতেও দেব না : শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘোষণা করেছি, চাঁদা আমরা নিই না এবং কোনো চাঁদাবাজকে আমরা চাঁদা নিতে দেব না। যারা নেয় না, তারাই কথা বলতে পারবে। যারা নেয়, তারা এই কথা বলার সাহস রাখে না। আমরা বলেছি সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হবে। দুর্নীতি আমরা তো করবই না, করার প্রশ্নই ওঠে না। এই সোনার বাংলাদেশে আর কাউকে দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আপনার ভোট আপনি দেবেন, যাকে পছন্দ তাকেই দেবেন। একদল দুষ্ট বলতো, আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব- ওইটা শেষ। তোরটা তুই দে, আমারটা আমি দেব।’ জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘আমরা ওই বাংলাদেশ করতে চাই, যেখানে বিচার অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় না। যেখানে বিচার গরিব, ধনী, শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত কিংবা শিক্ষার আলোবঞ্চিত সবার জন্য সমান হবে। ওই বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মে ধর্মে আর কোনো সংঘাত হবে না; বরং একই বাগানের বিভিন্ন জাতের গাছ হিসেবে আমরা পরস্পর সহাবস্থান করব সম্মান এবং ভালোবাসা নিয়ে। আমরা ওই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেই বাংলাদেশের টাকা চুরি করে আর বিদেশের মাটিতে বেগমপাড়া গড়ার স্বপ্ন কেউ দেখবে না। বেগমপাড়ার চোরদের ধরে এনে বাংলাদেশে শাস্তি দেওয়া হবে, ওই বাংলাদেশকে আমরা দেখতে চাই।’ জনসভায় কেন্দ্রীয় নেতারাসহ ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এবং ১০ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আজ শনিবার সকালে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল ১০টায় গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। দুপুর ১২টায় বগুড়ায়, বিকাল ৪টায় সিরাজগঞ্জে ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পাবনায় জনসভা করবেন। এরপর তিনি সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন।