চাঁদাবাজি বাদ না দিলে কমপ্লিট লালকার্ড : জামায়াত আমির
* নারীদের জন্য সান্ধ্য বাস চালুর আশ্বাস ডা. শফিকুর রহমানের * জামায়াতের আমিরের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চাঁদাবাজির পেশা ভালো চলছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ইনশাআল্লাহ কারো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। গতকাল রোববার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা ৪ ও ৫ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই দেশে নতুন একটি পেশা এখন ভাল চলছে। এই পেশার নাম কি আপনারা বলতে পারবেন? কি নাম? চাঁদাবাজি।’এসময় জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা কেউ চাঁদাবাজের ভাই হতে রাজি আছেন? পিতা হতে রাজি আছেন? সন্তান হতে রাজি আছেন? কেউ চাঁদাবা্জরে স্ত্রী হতে রাজি আছেন? মা হতে রাজি আছেন? বোন হতে রাজি আছেন? নাই।’
তিনি বলেন, ‘আজকের জনসভা থেকে যারা এই পেশায় যুক্ত তাদেরকে অনুরোধ করবো ভালো পথে ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের হালাল রুজির জন্য জায়গা করে দেব, ইনশাল্লাহ।’
‘কিন্তু যদি এ পথ বাদ না দেন আমরা একদম সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আমাদের পক্ষ থেকে কমপ্লিট লালকার্ড। এই চাঁদা আমরাতো করার প্রশ্নই উঠে না, চাঁদাকে আমরা ঘৃণা করি। এটা ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট। আমরা ইনশাআল্লাহ কারো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। কথা একদম সাফ। এখানে কোনো রাগডাক নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা জনগণের বিজয় চাই। জনগণের বিজয় হলেই আমাদের বিজয়। আলহামদুলিল্লাহ। সেই বিজয়টা আমরা চাচ্ছি।’
নারীদের জন্য সান্ধ্য বাস চালুর আশ্বাস জামায়াত আমিরের : কর্মজীবী নারীরা যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সেজন্য সরকার গঠন করতে পারলে সান্ধ্য বাস চালুর আশ্বাস দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বর্তমানে নারীদের জন্য দুটি জিনিস নেই মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “একটি হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা, আরেকটি হচ্ছে তাদের সম্মান বা মর্যাদা। আমরা কথা দিচ্ছি ঘরে, চলাচলে এবং কর্মস্থলে—তিনটা জায়গায় আপনাদের জন্য আমরা ইনশাআল্লাহ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব এবং মর্যাদা আপনাদের হাতে তুলে দেব।
“কোনো জালিম আপনাদেরকে আর ইভটিজিং করার দুঃসাহস দেখাবে না। কর্মক্ষেত্রে কোনোভাবেই আপনাদেরকে আর হেনস্তার শিকার হতে হবে না। মর্যাদা এবং নিরাপত্তার সাথে আপনারা করবেন। চলাচলের সময় বিশেষ করে পিক আওয়ারে বড় শহরগুলোতে রাজধানীসহ আমরা শুধু মহিলাদের জন্য ইভনিং বাস সার্ভিস চালু করব ইনশাআল্লাহ।”
উত্তরে দুইদিন নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে ঢাকায় ফেরা শফিকুর রহমান গতকাল রোববার ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, “পুরুষরা হাঁটতে পারবে, সাইকেল চালাতে পারবে, বাইক চালাতে পারবে, তারা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ঠেলাঠেলি করে উঠতে পারবে; কিন্তু আমাদের মায়ের মর্যাদা আমাদের জীবনের চেয়ে বেশি। আমরা চাই না. আমাদের মায়েরা ওইরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ুক। “তাদের জন্য মর্যাদার সাথে চলাচলের ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ করে দেওয়া হবে। সরকারি যে সমস্ত ডাবল ডেকার বাস আছে একটা তলা অর্থাৎ নিচ তলা, মায়েরা উপরে উঠতে গিয়ে কষ্ট হতে পারে, বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। নিচ তলাটা তাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
জামায়াত আমির বলেন, “পুরুষরা কষ্ট করে আমরা উপরের তলায় বসব কোনো অসুবিধা নেই। জায়গা না পাই হাঁটব, রিকশায় চড়ব, বাইক চালাব তাও মায়েদেরকে আমাদের মর্যাদা দেখাতে হবে। “কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গভীরভাবে বিশ্বাস করি, কলিজা দিয়ে বিশ্বাস করি—আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা বেশি।”
শফিকুর রহমান বলেন, “একটা পরিবার যেমন নারী পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একটা দেশ এবং সমাজও নারী পুরুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এই এক অংশকে উপেক্ষা করে আরেক অংশকে নিয়ে দেশকে সমৃদ্ধশালী করা সম্ভব নয়। “এখন বলবেন আমাদের মায়েরা কি ঘরের বাইরে কাজ করবেন? হ্যাঁ অবশ্যই করবেন। বলবেন কেন? বলা তো হয়েছে ঘর তাদের জন্য মূল জায়গা। “আমি যদি প্রশ্ন করি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেকটি ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধে আমাদের মায়েদেরকে শরিক করেছেন যোদ্ধা হিসেবে; আমি কে আমার মাকে সমাজের খেদমত থেকে বঞ্চিত রাখার? যুদ্ধের চাইতে কোনো কঠিন কাজ আসমানের নিচে এবং জমিনের উপরে নাই।”
যুবাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের যুবক বন্ধুদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। আমরা আমাদের যুবক বন্ধুদের আমাদের ছেলে-মেয়েদের হাতকে বাংলাদেশ গড়ার কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই।
“কারিগরের হাত কারো দয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে না। কারিগরের হাত নিজেই কিছু করে দেশকে উপহার দেয়। আমরা আমাদের যুবক-যুবতীদেরকে সেই সম্মানের জায়গায় মর্যাদার জায়গায় নিতে চাই। বেকার ভাতা দিয়ে বেকার বানাবো না, বরং বেকারকে কেমনে কর্মউপযোগী করা যায় তাই চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের আমিরের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ : জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক। গতকাল রোববার সকালে সারাহ কুক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান তুলে ধরেন। ঢাকায় যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের ভেরিফায়েড এক্সে এই তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকের বিষয়ে জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, আজ সকাল সাড়ে ৯টায় শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বসুন্ধরার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সারাহ কুক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের উপহাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, রাজনীতি বিভাগের প্রধান টিমোথি ডাকেট ও দ্বিতীয় সচিব (রাজনীতি) কেট ওয়ার্ড।
বৈঠকে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিকসহ উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
আলোচনায় দুই পক্ষ আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে। এ ছাড়া উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে।
আলোচনার সময় জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জামায়াতের আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান।
