নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র সরকার
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো দলের পক্ষ নেবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
সেইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের সাথে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
কেবল বাংলাদেশী জনগণেরই নির্বাচনে প্রতিনিধি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।’
বৈঠকের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন যে এবার বাংলাদেশে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উৎসব হবে। তার কথায় আমিও অত্যন্ত উৎসাহ বোধ করছি।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমি খুবই উৎসাহিত। দেশের জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিচ্ছেন এটি এবং আপনাদের মত আমিও নির্বাচনের ফলাফল দেখার জন্য খুব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
‘আশা করি এটি একটি সত্যিকার অর্থেই উৎসবমুখর নির্বাচন হবে, যেখানে দেশের সকল ভোটার নিজেদের মতামত প্রকাশ করবেন এবং আমি আশা করছি আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হবে,’ তিনি বলেন।
আজকের এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার- আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ অবসরপ্রাপ্ত, ইসি সচিব আখতার আহমেদ, মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে ‘বাড়াবাড়ি’ আছে কি না, জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র : জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কারও পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে কোনো ‘বাড়াবাড়ি’ বা হয়রানির খবর আছে কি না, ইসি কাছে তা জানতে চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং তার দুজন প্রতিনিধি এই বৈঠকে অংশ নেন।
ইসি সচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জানতে চেয়েছিল, কোনো জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কারও কাছ থেকে বাড়াবাড়ির কোনো খবর আমরা পেয়েছি কি না। আমরা বলেছি, প্রাথমিকভাবে এসব অভিযোগ স্থানীয়ভাবেই নিষ্পত্তি হয়। আমাদের জানা মতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমরা তার উত্তর দেব।’
তিনি জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহ দেখিয়েছে। ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি যে আমাদের কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সেল রয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় ইনকোয়ারি কমিটি, অ্যাডজুডিকেশন কমিটি এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব বিষয় সমন্বয় করছেন এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।’
নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্র জানতে চেয়েছে। ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি, প্রায় সাড়ে ৯ লাখ নিরাপত্তাকর্মী বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করবেন।’
বৈঠকে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বিশেষ কৌতূহল ছিল বলে জানান আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়া, গণনা এবং সময়সীমা নিয়ে আমরা তাদের বিস্তারিত জানিয়েছি। নমুনা ব্যালট দেখে তারা বলেছেন, বিষয়টি জটিল ও কষ্টসাধ্য। তবে তারা আমাদের শুভকামনা জানিয়েছেন।’ ইসি সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। তবে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় তাদের পক্ষ থেকে স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি দেখতে যাবেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচার বা এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান কি জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন (সাবজুডিস)। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার এখতিয়ার আমার নেই।’ ৩১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর মহিলা সমাবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার জানা নেই।
