কাঁপছে ভোটের মাঠ
ক্ষমতার আগেই যারা অপকর্মে, তাদের হাতে জনগণ নিরাপদ নয়
বললেন জামায়াতের আমির
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। এরই মধ্যে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে চষে বেড়াচ্ছেন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। প্রতিদিনই কমপক্ষে ৪-৫টি জনসভায় বক্তব্য রাখছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ফেনীতে নির্বাচনি বক্তব্য রেখেছেন। শুক্রবার নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দেশের জনগণ যাদের হাতে নিরাপদ নয়, যারা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়েছে, ক্ষমতায় যাওয়ার পরে তাদের হাতে দেশের জনগণ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই না সাড়ে ১৫ বছরের সেই দুঃশাসন আবার বাংলাদেশে ফিরে আসুক। এ কারণে ১২ তারিখ দুইটা ভোট হবে। প্রথম ভোটটা হলো সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামি।’ জামায়াতে ইসলামী বিগত আমলে সবচেয়ে নির্যাতিত দল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ১৫ বছরে চরমভাবে নির্যাতিত একটি দল জামায়াতে ইসলামী। যে দলের ১১ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। যে দলের অফিসগুলো সারাটা সময় ধরে বন্ধ ছিল। এমন একটি অবস্থার পর ৫ তারিখ পেলাম।’ জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের মামলা হামলা করে নাজেহাল করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে। গুম করা হয়েছে। আমরা এই ধরনের মিথ্যা মামলা গিয়ে হয়রানি করব না। আপনারা সাক্ষী আমরা মামলা বাণিজ্য করিনি। আমাদের সহকর্মীদের দ্বারা আপনাদের, দেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে না।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা বাংলায় এখন ইনসাফের পক্ষে বাঁধভাঙা জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু নোয়াখালী নয়, আপনারা মনে করতে পারেন এটা বোধ হয় নোয়াখালীতে। কিন্তু না। সারা বাংলায় দেখতে পাচ্ছি, জনগণ দেখতে পাচ্ছেন, আমরা যেখানেই যাচ্ছি, সেখানে মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি।’
ভোট নিয়ে অন্য কোনো চিন্তা করলে সিংহের থাবা সামাল দিতে পারবেন না : গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মনে রাখবেন যে মায়ের দামাল সন্তানেরা চব্বিশে জগদ্দল পাথর হিমালয়ের সমান ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে, সেই সন্তানেরা ঘুমিয়ে পড়ে নাই। তারা এখনো জেগে আছে। আগামীতে জনগণের ভোট নিয়ে কেউ যদি অন্য কোনো চিন্তা করেন এই যুবকরা সিংহ হয়ে গর্জন করবে। সিংহের থাবা সামাল দিতে পারবেন না। সুতরাং নিজের ছাড়া কারও ভোটের দিকে হাত বাড়াবেন না। তিনি বলেন, এই স্লোগান অচল- ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’, না সেদিন এখন আর নাই। এখন আমারটা আমি দিব, তোমারটা তুমি দাও। আমার যারে পছন্দ আমি দেব, তোমার যারে পছন্দ তারে দাও। এর নাম হচ্ছে ডেমোক্রেসি। এর নাম হচ্ছে এসেন্টস অব ডেমোক্রেসি। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
জামায়াতের আমির বলেন, এই দেশটা সবার, শুধু আমার একার নয়। সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন জায়গায় যারা আছেন, আমরা বিশ্বাস করি দেশ আমাদের সবার। সবার দায় আছে। সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই আমরা একটি সভ্য দেশ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এই দেশকে এখনো সভ্য বলা যাবে না। যে দেশের পথে ঘাটে সর্বত্র চাঁদাবাজি হয় এটা কখনও সভ্য দেশ হতে পারে না।
শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের অঙ্গীকার আমরা চাঁদাবাজদেরকে সাহায্য করব। আপনারা হয়তো বলবেন- আশ্চর্য আপনারা কি চাঁদাবাজদেরকে আরও চাঁদা দিয়ে সহযোগিতা করবেন! না, আমরা তাদেরকে আহ্বান করব তোমরাও আমাদের সন্তান, চাঁদাবাজি ছেড়ে দাও। তোমাদের যদি খাদ্যের অভাব হয় আল্লাহ আমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছেন আমরা তা ভাগাভাগি করে খাব। তবুও হারামের দিকে হাত বাড়াইও না। চাঁদা নিয়ে মানুষকে কষ্ট দিও না। রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে শিল্পপতি সবার ঘুম হারাম এদের কারণে। মানুষের অভিশাপের পাত্র হয়ে গেছো। তওবা করে এখান থেকে বের হয়ে আসো তোমাদেরকে বুকে টেনে নেব। এরপর তোমাদেরকে আমরা শিক্ষিত প্রশিক্ষিত করে তোমাদের হাতেও কাজ তুলে দেব ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদেরকে আমরা অসম্মান করতে চাই না।
রাজার ছেলে রাজা হবে, সেই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই : জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘রাজার ছেলে রাজা হবে, মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হবে, সেই সংস্কৃতির ধারা আমরা পাল্টে দিতে চাই।’ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনীতে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা শহরের ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। আমাদের কাছে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই সমান। আমরা তাদের সবার অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। ইনশা আল্লাহ এই কাজে কেউ বাধা দিয়ে আমাদের আটকাতে পারবে না।’ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার দিকে ইঙ্গিত করে জনসভায় জামায়াতের আমির বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় আমরা মাথা গরম দেখতে পাচ্ছি। শীতের দিনে মাথা গরম করলে, চৈত্র মাসে কী করবেন? একটু মাথাটা ঠান্ডা রাখেন। একটু জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করেন, এতগুলো শহীদের প্রতি একটু শ্রদ্ধা প্রদর্শন করুন।
