২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশে যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই উদ্যোগের ফলে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ রুটে একমুখী টিকিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। গতকাল শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রবাসী কর্মীরা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বাংলাদেশ বিমান (বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স) আর্থিকভাবে উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখবে। তিনি বলেন, বিশেষ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্বে একমুখী ফাঁকা ফ্লাইট পরিচালনার যে চর্চা ছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর ফলে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০০ কোটিরও বেশি টাকা অতিরিক্ত আয় অর্জনের বাস্তব সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, এই বিশেষ ব্যবস্থায়- মদিনা-ঢাকা ও জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০,৫০০ টাকা। মদিনা-ঢাকা-মদিনা এবং জেদ্দা-ঢাকা-জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ৪২,০০০ টাকা। বাংলাদেশে আগমনের ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাড়া কার্যকর থাকবে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত এবং বাংলাদেশ থেকে ফেরার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। এই উদ্যোগকে প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে পদক্ষেপটি গ্রহণের জন?্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘অতীতে দেখা গেছে প্রবাসীদের সুবিধা বিবেচনায় অনেক ইতিবাচক উদ্যোগে নেয়া হলেও সঠিক পরিচর্যার অভাবে কিছুদিন পর তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে এই উদ্যোগটি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে।’ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, সংবিধানের ৭০নং অনুচ্ছেদ নিজ দলের এমপিদের মুখে স্কচটেপ এঁটে দেওয়ার মতো। এ ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশে বিশাল বাধা। এ ব্যবস্থার উত্তরণে সংস্কার প্রস্তাবে অর্থবিল এবং আস্থা ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের অনুগত থাকবে, অন্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীন মতামত প্রদান করতে পারবেন এমন প্রস্তাব করা হয়েছে। গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে গত বৃহস্পতিবার বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদের মূল কথা হলো মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। যে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। যে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ২০২৪-এ গণঅভ্যুত্থান রচিত হয়েছে। অনেক রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে ৫৪ বছর পর আবার মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ এসেছে। আমরা হেলায় এ সুযোগ হারাবো না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবো। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য রাষ্ট্র ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির পার্থক্য করবে না। এ সনদ নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। আলী রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। আর সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ বলা সময়ের দাবি।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়, বিচারব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগ এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হয়ে থাকে।