কাঁপছে ভোটের মাঠ
গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমরূপে আবির্ভূত হয়েছে
বললেন তারেক রহমান
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমানে বাংলাদেশে গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমরূপে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরের বান্দ রোডের বেলস পার্কে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল, যাদের অন্য একটি পরিচয় আছে, জনগণ যাদের একটি ভিন্ন পরিচয়ে চেনে, জনগণ তাদের গুপ্ত পরিচয়ে চেনে। আপনারা চেনেন কারা গুপ্ত? প্রিয় ভাইবোনেরা, বর্তমানে বাংলাদেশে এক নতুন জালেমের আবির্ভাব হয়েছে। এই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমরূপে আবির্ভূত হয়েছে।’ গতকাল দুপুর ১২টার দিকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে করে বরিশাল স্টেডিয়ামে পৌঁছান। সেখান থেকে গাড়িতে করে তিনি নগরের বান্দ রোডের বেলস পার্কের জনসভাস্থলে আসেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে তারেক রহমান জনসভার মঞ্চে পৌঁছান। তিনি প্রায় ৩০ মিনিট বক্তব্য দেন।
কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সহাবস্থান সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘এই বাংলাদেশে নারী-পুরুষ সবাই মিলে মাঠে কাজ করেন। কৃষক ভাইয়েরা যেমন মাঠে কাজ করেন, আমরা জানি কিষানি বোনেরাও মাঠে কাজ করেন। শুধু মাঠেই নয়, কলকারখানায় আমাদের মেয়েরা, বোনেরা, নারীরা পুরুষরা পাশাপাশি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। এই যে গার্মেন্টস শিল্প নিয়ে সমগ্র পৃথিবী গৌরববোধ করে, সেই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন আমাদের নারীরা। কিন্তু আমরা কষ্টের সঙ্গে দেখছি, এই গুপ্ত দলের নেতা, এই জালেম দলের নেতা দুদিন আগে আমাদের নারীদের নিয়ে একটি কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন।’
কোনো দল বা নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, ‘যেই ব্যক্তি বা যেই দলের তার দেশের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই, যেই নেতা, যেই দলের নেতাকর্মীরা নিজের দেশের মা-বোনদের কষ্টের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান দেয় না, তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক, বাংলাদেশ অগ্রগতি আশা করতে পারে না। দেশের মানুষ আত্মমর্যাদাপূর্ণ কোনো আচরণ আশা করতে পারে না।’ হযরত খাদিজা (রা.)-এর উদাহরণ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখতে চায়, সেই কথা তারা বলেছে। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন। তার নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। যেখানে নবী করিম (সা.) নিজেও কাজ করতেন; কিন্তু এরা বলে- ইসলামি রাজনীতি করে, প্রিয় নবীজির স্ত্রী যেখানে কর্মজীবী নারী ছিলেন, সেখানে কেমন করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা এমন একটি কলঙ্কিত শব্দে নারীদের জর্জরিত করল।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বদরের যুদ্ধ হজরত আয়েশা (রা.)-এর নেতৃত্বে যুদ্ধ এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম সরবরাহ ও আহত মানুষদের সেবা করা হয়েছিল। কাজেই আমরা ইসলাম ধর্ম বলি, আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থান বলি, সব জায়গায় নারীদের একটি শক্তিশালী অবস্থান আছে। এই নারীদের পেছনে রেখে, ঘরে বন্দি রেখে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি কখনোই আমরা মনে করি না। সে জন্যই দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন বাংলাদেশের নারীদের এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করে দিয়েছিলেন। তাই আজ আমাদের সময় এসেছে দেশ গড়ার। দেশ যদি গড়তে হয়, প্রতিটি নারী-পুরুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সে জন্যই আমরা এই নারীদের, বিশেষ করে গ্রামের-শহরের খেটে খাওয়া নারীদেরসহ সব গৃহিণীর কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। নারীদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলব।’
বিগত শাসনামলের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর আমরা দেখেছি, জনগণের ভোট নিয়ে কীভাবে নিশিরাতের ভোট হয়েছে। আমরা দেখেছি, নাগরিকের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু ’২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই আমি-ডামির নির্বাচনের মালিক যারা, নিশিরাতের মালিক যারা, তারা জনগণের আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন এই বাংলাদেশ হচ্ছে, জনগণের বাংলাদেশ। এখন এই বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। এ জন্যই দেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, যারা জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী, জনগণের জবাবদিহি করে দেশ পরিচালনা করবে।’ বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ভোলায় সেতু করতে হবে, ভোলায় মেডিকেল কলেজ করতে হবে, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, মৎস্য খাতের উন্নয়নে কোল্ড স্টোরেজ, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র করতে হবে। ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়া এই বরিশালকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন; কিন্তু এখনও অনেক কাজ বাকি। বিশেষ করে সব মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শুধু আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত নয়, ১৩ তারিখ থেকে আগামী ৫ বছর জনগণের পা ধরে থাকবেন। বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। তিনি বলেন, ১৩ তারিখ থেকে জনগণের পা ধরে থাকবেন। কারণ যার পেছনে জনগণের সমর্থন থাকে না, তার পরিণতি দেখেছি ৫ আগস্ট। বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণের জন্যই বিএনপির সব পরিকল্পনা, তাদের জন্য দেশ।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে গেলে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। জনগণকে ১২ তারিখ তাদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, নতুন জালেম হিসেবে যারা পরিচিত, গুপ্তরা তাদের পরিচিত প্রিন্টিং প্রেসে ব্যালট ছাপাচ্ছে, সিল মারছে। মা-বোনদের কাছে বিকাশ নম্বর চাচ্ছে, এনআইডি চাচ্ছে। তারা নাকি সৎ মানুষের শাসন কায়েম করতে চায়, তারা তো এখনই ব্যালট ছাপাচ্ছে, বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, মা-বোনদের সম্মানহানি করছে। আইডি হ্যাকড হয়েছে বলে মিথ্যা বলছে। অপরাধ ঢাকার জন্য মিথ্যা কথা বলছে তারা, তাদের দ্বারা সৎ মানুষের শাসন কায়েম সম্ভব নয়। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বরিশাল নগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান (সরোয়ার), জহির উদ্দিন (স্বপন), ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নুরুল ইসলাম (মণি), বিজেপির সভাপতি আন্দালিভ রহমান (পার্থ), গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রমুখ।
