যে দেশ দুর্নীতিতে সেরা হয় সেটা আমার দেশ নয়

বললেন জামায়াত আমির

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলায় জনসমাবেশ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরই অংশ হিসেবে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ফরিদপুরে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শনিবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নবীনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে দেশ দুর্নীতিতে সেরা হয়, সে দেশ আমার দেশ নয়। এই দেশে কোনো দুর্নীতি হবে না, চাঁদাবাজ থাকবে না। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এ ভোট হবে বাংলাদেশ বদলে দেওয়ার ভোট, এটা ২৪-এর যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার ভোট। এ ভোটের সঙ্গে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ আমরা পাব। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত মানুষ পরিবর্তন চায়।

জামায়াত আমির আরও বলেন, সারাবিশ্ব সামনের দিকে এগোচ্ছে আর আমরা পেছনের দিকে যাচ্ছি। প্রবাসীরা এ দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ফলে প্রবাসী অধ্যুষিত এই সিলেট বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর না হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমি যদি সুযোগ পাই, তাহলে সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিকমানের বিমানবন্দরে রুপান্তরিত করব। এছাড়া প্রবাসে কোনো রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেলে তার লাশ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেশে আনা হবে। প্রয়োজনে প্রবাসী পরিবারের দায়িত্ব সরকার বহন করবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এ দেশকে যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই। যুবকরাই ২৪-এর আগস্টে আন্দোলন করে নতুন স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। চিন্তা করেন ৫ আগস্টের আগে আমাদের সভা করার, বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। যুবকরাই আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আবু সাঈদ থেকে ওসমান হাদির রক্তে আমরা আজকের এই দেশ পেয়েছি। জামায়াত আমির বলেন, নিঃস্বার্থ একটি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। দেশ বিদেশ থেকে আমাকে কুলাউড়া থেকে নির্বাচন করার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দুইটি আসন থেকে নির্বাচন করতে পারি না। তবে কুলাউড়ায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী নির্বাচিত হলে তিনি হবেন এমপি। তবে ছায়া এমপি হিসেবে আমিও থাকব তার পাশে। সুতরাং আপনারা এখানে দুজন এমপি পাবেন। জামায়াত আমির আরও বলেন, এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কৃষক-শ্রমিক থেকে শুরু করে সবাই আইনের চোখে সমান। কিন্তু এ দেশের আইন সমান নয়। আমরা ইনসাফ ও সুবিচারের বাংলাদেশ গড়তে চাই।

ক্ষমতায় গেলে আমাদের এমপিরা শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবে না : জামায়াত আমির বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে দলের সংসদ সদস্যরা (এমপি) শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি নেবেন না। প্লট বা ফ্ল্যাটও নেবেন না। রাজনীতিকে জামায়াত পেশা নয়, বরং একটি কর্তব্য হিসেবে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। এমপিদের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘দল ক্ষমতায় গেলে তাদের সংসদ সদস্যরা (এমপি) কোনোভাবেই বিনা ট্যাক্সের গাড়ি গ্রহণ করবেন না।’ তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা রিকশায় চলব।’

যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা নিজেদের অর্থে পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করে গাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনবেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এমপিদের জন্য নামমাত্র মূল্যে যেসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাও তারা নেবেন না। যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে, তারাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘এরা আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতটুকু পর্যন্ত রাখতে দেয় না।’ দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দূর করা হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ নিশ্চিত করা হবে। জনগণের সম্পদে কেউ হাত দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চা-শ্রমিকদের ব্যাপারে শফিকুর রহমান বলেন, চা-শ্রমিকেরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যুগের পর যুগ তারা একই কষ্টসাধ্য পেশায় আটকে আছেন। জামায়াত ক্ষমতায় এলে চা-বাগান আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করা হবে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে, যাতে তাদের কোনো সন্তান শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ফুলের বাগানের মতো। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান- এই চার ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। ধর্মের ভিত্তিতে কারও ওপর বাড়াবাড়ি করা ইসলাম সমর্থন করে না, এটা হারাম। কোনো প্রকৃত ধার্মিক মানুষ কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না।

শফিকুর রহমান বলেন, সিলেটে বিমানবন্দর থাকলেও তা পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের না হওয়ায় এর সুফল পুরোপুরি মিলছে না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে। তখন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারসহ বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে সরাসরি ফ্লাইট সিলেটে আসবে। প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসে কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হলে রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে সম্মানের সঙ্গে মরদেহ দেশে আনবে। ওই পরিবারের দায়িত্ব নেবে সরকার। দেশে চুরি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হলে এই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা সম্ভব হবে। চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেছি। চা-শ্রমিকদের ভুলে গেলে আমি নিজেকেই ভুলে যাব। আমি তাদের জন্য স্বাস্থ্য ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করব।’

ফরিদপুর বিভাগের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনও হবে : জামায়াতে আমির শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় এবং সাহায্যে আমরা যদি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ পাই তাহলে ফরিদপুর নামেই বিভাগের সাথে সিটি কর্পোরেশনও হবে। গত শুক্রবার রাত সোয়া আটটায় ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতের আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেছেন। তিনি বলেন, নদীগুলোকে দখল ও ভরাট করে একটি মহল বাড়িঘর ও দোকান পাট তৈরি করে ভাড়া দিয়ে আসছে। এসব নদীগুলোকে দখল মুক্ত করে আমরা নদীর জীবন ফিরিয়ে দিতে চাই। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হলেও পূর্ণাঙ্গ জনগণ উপযুক্ত সেবা পাচ্ছে। ফরিদপুরে পাট উৎপাদন হলেও পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবকদের বেকার ভাতা নয়, তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। তাই মিল ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ নয় সচল করতে চাই। যেখানে কৃষিপণ্য বেশি উৎপাদন হয় সেখানে কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাচ্ছি না। নির্বাচনে জয়ী হলে তা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় নয়, এদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। যে বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে, সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই। এসময় তিনি বলেন, আমরা গুপ্ত টুপ্ত নই। যারা গুপ্ত বলে তাদেরকে মাফ করে দিলাম।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে অপমান করা হয়েছে আমাদের জাতিকেও : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার। প্রথমবারের মতো আসরে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের পরিবর্তে ভেন্যু বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাইলেও আইসিসি সেই দাবি না মেনে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে বাংলাদেশকে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে জাতিকেও অপমান করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বাংলাদেশ দল অংশ না নেওয়ায় দেশের ক্রিকেট ভক্তদের আগ্রহের ঘাটতি দেখা পরিলক্ষিত হয়েছে এবারের আসর নিয়ে। এক ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, ‘প্রিয় ক্রিকেটপ্রেমী বন্ধুরা, আজ (শনিবার) আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হলো। এমন দিনে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের চোখ থাকতো টিভি স্ক্রিনে। সবাই অপেক্ষা করতাম টাইগারদের মাঠের লড়াই আর বিজয়ের আনন্দ দেখতে। দুঃখের বিষয়, এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আজ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও আমরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের ক্রিকেটারদের সাথে জাতিকেও অপমান করা হয়েছে। লাল-সবুজের হয়ে উল্লাস করার মুহূর্ত থেকে আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে দূরে রাখা হলো।’ বিশ্ব আসর না খেলতে পারা যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য হতাশার। ক্রিকেটারদের এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে জামায়াতের আমির লিখেছেন, ‘প্রিয় ক্রিকেটার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের সাথে সমব্যথী। দেশের মর্যাদা, দেশের স্বপ্নের সাথে কোনো আপোষ নয়। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে আমরা হার মানতে পারি না। দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশকে আমরা আন্তর্জাতিক ইভেন্টে মর্যাদার আসনে নিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।’ পোস্টের শেষ দিকে দেশের সম্মান নিয়ে তিনি লিখেন, ‘বাংলাদেশ ফিরবে মাথা উঁচু করে- গর্ব নিয়ে, শক্তি নিয়ে, সম্মান নিয়ে।’

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াত ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে : শনিবার বিকালে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আল্লাহতালা যদি আমাদেরকে এই দেশের সেবকের দায়িত্ব দেন, এক ইঞ্চি মাটির ওপর কেউ আর চাঁদাবাজির হাত বাড়ানোর সাহস করতে পারবে না। দেশে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে, যার সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। ক্ষমতায় গেলে দেশের এক ইঞ্চি জমিতেও বেইনসাফি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির পথ বন্ধ করতে পারলে পাঁচ বছরের মধ্যেই দেশের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব।’

নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত না করে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কোনো অফিস-আদালত বা কার্যালয়ে কারো ঘুষ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং ঘুষ খাওয়ার সাহসও হবে না। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে বসবাস করার নিশ্চয়তা পাবে প্রতিটি নাগরিক। বর্তমানে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইনসাফভিত্তিক নয়। সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই এটা পর্যাপ্ত নয়।’

দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা জনগণের হক আত্মসাৎ করেছে, তারা যদি স্বেচ্ছায় ফেরত দেয় তাহলে অবশ্যই তারা অভিনন্দিত হবে। কিন্তু যদি ফেরত না দেয়, রাষ্ট্র ইনশাআল্লাহ ওদের মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে পেটের ভেতর থেকে অর্থ বের করে নিয়ে আসবে। উদ্ধার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যুক্ত করা হবে এবং সেই অর্থ দিয়েই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হবে।’

বঞ্চিত এলাকায় সর্বপ্রথম উন্নয়নের কাজ শুরু হবে বলেও বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হব কিনা আল্লাহ ভালো জানেন। কে হবেন, কে হবেন না- এটা আল্লাহর ফয়সালা। তবে দায়িত্ব পেলে ইনসাফের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যদি এমন কিছু আমার দায়িত্বে এসে যায়, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চিতেও আমি বেইনসাফি করতে পারব না। প্রতি ইঞ্চি মাটি তখন আমার কাছে তার পাওনা বুঝে নেবে।’

সিলেটকে আর বঞ্চিত রাখা হবে না- মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী নির্ভর এই সিলেটের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কিন্তু নামে আন্তর্জাতিক, কাজে নয়। যদি এটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়, তাহলে সব এয়ারলাইন্সের ক্রাফট এখানে নামবে না কেন? এতদিন ধরে এটা পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয় না কেন? ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নামে নয়, বাস্তব অর্থেই পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপ দেওয়া হবে।’

লন্ডনের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন, তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাট। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত-আসত, এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে কেন? আমরা কি চিংড়ি মাছ? চিংড়ি মাছ দৌঁড়াতে শুরু করলে শুধু পিছনের দিকে যায়। আমরা তো সিংহের থাবা মেলে সামনে আগাতে চাই। তাই বন্ধ থাকা রুটগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুটও খোলা হবে।’