তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঢাকায় হবে ৪০ মাঠ রাস্তা হবে প্রশস্ত

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজধানী ঢাকায় ৪০টি খেলার মাঠ তৈরি এবং সড়কগুলো প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল রোববার দুপুরের পর নিজের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৭-এর ইসিবি চত্বরে এক পথসভায় বক্তব্যে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের অঙ্গীকারও তিনি করেন। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে একটি সুন্দর শহর গড়ে তোলা হবে, যেখানে মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে। তারেক রহমান বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, আপনাদের দোয়ায় বিএনপি ১২ তারিখে সরকার গঠন করলে শুধু এই এলাকাতেই নয়, সমগ্র ঢাকা শহরে অন্তত ৪০টি খেলার মাঠ তৈরি করব। এই মাঠগুলো তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো, যাতে আমাদের সন্তানরা খোলা মাঠে খেলাধুলা করতে পারে এবং মুরব্বি ও মা-বোনেরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিকেলে বা অন্য সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারেন।’ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে তারেক রহমান বলেন, রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে মানিকদী-বালুঘাট হয়ে জসীমউদদীন পর্যন্ত সড়ক ৬০ ফুট প্রশস্ত করা হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে মানুষের উন্নত জীবনযাপন ও সহজ যাতায়াতের কথা চিন্তা করে, এই এলাকার রাস্তার প্রসার ঘটানো হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান নিজেকে ওই এলাকারই সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে ছোটবেলা থেকে এই এলাকায় বড় হওয়ার স্মৃতিচারণা করে তাকে ভোট দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের ভোটারদের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই এলাকার সন্তান হিসেবে আপনাদের সেবা করার সুযোগ চাই। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তারেক রহমান বলেন, ‘আমি যেহেতু এই এলাকারই সন্তান, এই এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে ১২ তারিখে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাই।’ আসন্ন সংসদ নির্বাচনে গুলশান, বনানী, ঢাকা সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারেক রহমান। গতকাল রোববার নির্বাচনি প্রচারে ইসিবি চত্বরের পর ঢাকা-১৬ আসনে পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠ, ঢাকা-১৫ আসনে মিরপুর-১০ গোলচত্বর-সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা-১৪ আসনে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় ফটক, ঢাকা-১৩ আসনে শ্যামলী ক্লাব মাঠ এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডার সাঁতারকুলের সানভ্যালি মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।

উন্নয়নের লক্ষ্যে ধানের শীষে ভোট দিন : দেশের মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে সব শ্রেণি পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে বলেন। ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন শফিকুল ইসলাম খান। তাকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ী করতে তারেক রহমান আহ্বান জানান। গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় মিরপুর সেনপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি পথসভায় এসব বলেন তারেক রহমান।

?তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। সব শ্রেণি পেশার মানুষের প্রচেষ্টায় আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। আমি সবার প্রতি আহ্বান করবো, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে মিলে মিশে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের দেশকে পরিপূর্ণ শিক্ষা, শিশুদের মেধা বিকাশ, কৃষকদের জীবন মান উন্নয়ন, বেকার যুবকদের কর্মের ব্যবস্থা ও নারীদের উন্নত জীবনব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।

?বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করতে আমরা কার্যকরি পদক্ষেপ নেবো। এ দেশের প্রতিটি ঘরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়বে ইনশাল্লাহ। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে গত কয়েক বছর শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের সব মানুষের জন্য চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত দেশের মতো তৈরি করবো ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও আমাদের দেশের সব সংকট দূর করতে নিত্য নতুন পদক্ষেপ নেব। আমাদের দেশকে আমরা গড়ে তুলব। এ সময় ঢাকা-১৫ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে ধানের শীষে ভোট চান তারেক রহমান।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবে বিএনপি : বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে বহু মেগা প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। বরং এসব প্রকল্পের আড়ালে হয়েছে মেগা দুর্নীতি। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে সবার আগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দিতে পারি না। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সময় এখনই এসেছে। ১২ তারিখের নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই দিনে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- কারা দেশ পরিচালনা করবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু বিরোধী দলের সমালোচনা করে জনগণের কোনো লাভ নেই। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করাই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করে সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে।

ঢাকা-১৬ আসনের মানুষের চিকিৎসাসেবার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই আসনের জন্য একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি যারা বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে যেতে চান, তাদের সহজশর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

নগরীর সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পানির সমস্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার গঠন করলে সবার আগে ঢাকার খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে বলেও জানান তিনি। জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিডিআর এর নাম পুনর্বহাল করা হবে : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর এর নাম পুনর্বহাল করা হবে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানার হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে শহিদ সেনা দিবস, অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

গত শনিবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সেনা হত্যাকাণ্ডের পর পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত, ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর এর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি তাদের পোশাকের রং ও পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআর এর নাম পুনর্বহাল করা হবে ইনশাল্লাহ। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেই লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস, অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, বক্তব্য দেওয়ার আগে সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা আমাকে সেনাবাহিনী জন্য কিছু সুপারিশ তুলে দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু কিছু বিধিমালা পরিমার্জন বা সংস্কারসহ এসব সুপারিশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। তবে এতটুকু বলতে পারি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আপনাদের উপস্থাপিত এসব সুপারিশ মালা বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর সাবেক এবং বর্তমান সদস্যদের সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করব। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাবিদাওয়াগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

একইসঙ্গে ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পে বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের ইশতেহারেও এটি যুক্ত করে নিয়েছি। ১২ তারিখে বিএনপি জনগণের রায় পেলে এটি যত দ্রুত সম্ভব আমরা বাস্তবায়ন করব। তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনী আমার কাছে বৃহত্তর পরিবার বলে মনে হয়। সেনানিবাসেই আমার বেড়ে ওঠা। ছোট বেলায় আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমি বড় হয়ে দেখেছি, সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার এক ধরনের নির্ভরতা ছিল, সম্মান ছিল। আমার মরহুম মা সব সময় মনে করতেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা দরকার। সন্তান হিসেবে আমার পিতাকে নিয়ে যেমন আমি গর্ব করি, তেমনি আমি বিশ্বাস করি, একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীকেও তিনি করেছিলেন গর্বিত।