ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

সরকার গঠনের পথে বিএনপি

৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ‘হ্যাঁ’

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। তবে বিচ্ছিন্নভাবে দু’একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া গেলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গতকালের বেসরকারি নির্বাচনি ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি সরকার গঠনের পথে রয়েছে।

গতকাল রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ১৮০ জন এগিয়ে, অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৫ প্রার্থী এগিয়ে আছেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন নির্বাচনি কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে কিছু কিছু আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।

বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা হচ্ছেন : বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, চট্টগ্রাম-৩ আসনে মোস্তাফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৫ আসনে মীর হেলাল, চট্টগ্রাম-৮ আসনে এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে শাহজাহান চৌধুরী, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ, ঝিনাইদহ-১ আসনে মো. আসাদুজ্জামান, বাগেরহাট-৩ আসনে শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমদ, কক্সবাজার-৩ আসনে লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-৪ আসনে শাহজাহান চৌধুরী, পটুয়াখালী-৪ আসনে এবিএম মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-২ আসনে সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৩ মোফাজ্জাল কায়কোবাদ, কুমিল্লা-৬ আসনে মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৮ আসনে জাকারিয়া তাহের, কুমিল্লা-৯ আবুল কালাম, কুমিল্লা-১০ মোবাশ্বের আলম, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন, চাঁদপুর-৫ আসনে মমিনুল হক, ভোলা-২ আসনে হাফিজ ইব্রাহিম, ভোলা-৩ হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বরগুনা-২ আসনে নূরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটি দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি ওয়াদুদ ভূঁইয়া, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে শরীফুল আলম, নেত্রকোনা-৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর, ময়মনসিংহ-৭ আসনে মাহবুবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৮ আসনে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাছির চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনে নাছির উদ্দিন, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে মনসুর সাখাওয়াত, মৌলভীবাজার-২ আসনে শওকতুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, লালমনিরহাট-৩ আসনে আসাদুল হাবিব দুলু, নওগাঁ-৪ আসনে ইকরামুল বারী টিটু, জয়পুরহাট-২ আব্দুল বারী, নাটোর-৩ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মো. নুরুল হক বিজয়ী হয়েছেন।

জামায়াত ইসলামীর নির্বাচিত প্রার্থীরা হচ্ছেন : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন- মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম (কুড়িগ্রাম-১), মোঃ মাহবুবুল আলম (কুড়িগ্রাম-৩), মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম-৪), সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের (কুমিল্লা-১১), মোঃ আব্দুল গফুর (কুষ্টিয়া-২), মোঃ আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), মোঃ আফজাল হোসেন (কুষ্টিয়া-৪), মোঃ আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬), মোঃ মাজেদুর রহমান (গাইবান্ধা-১), ১০. মোঃ আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২), আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩), মোঃ আব্দুর রহিম সরকার (গাইবান্ধা-৪), মোঃ আব্দুল ওয়ারেছ (গাইবান্ধা-৫), সালাহ উদ্দিন (গাজীপুর-৪), শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫), মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৬), মোঃ কেরামত আলী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১), মোঃ নূরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), মোঃ মাসুদ পারভেজ (চুয়াডাঙ্গা-১), মোঃ রুহুল আমিন (চুয়াডাঙ্গা-২), মোঃ মতিয়ার রহমান (ঝিনাইদহ-৩), মোঃ আবু তালিব (ঝিনাইদহ-৪), মোহাম্মদ কামাল হোসেন (ঢাকা-৫), মোঃ এনায়াত উল্লা (ঢাকা-৭), মোঃ সাইফুল আলম (ঢাকা-১২), মোঃ শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), মোঃ আব্দুল বাতেন (ঢাকা-১৬), মোঃ আব্দুস সাত্তার (নীলফামারী-১), আলফারুক আব্দুল লতীফ (নীলফামারী-২), ওবায়দুল্লাহ সালাফী (নীলফামারী-৩), আব্দুল মুনতাকিম (নীলফামারী-৪), মোঃ শফিকুল ইসলাম (পটুয়াখালী-২), মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১), শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ) (বাগেরহাট-২), মোঃ তাজউদ্দীন খান (মেহেরপুর-১), মোঃ নাজমুল হুদা (মেহেরপুর-২), মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ (যশোর-২), মোঃ গোলাম রছুল (যশোর-৪), মোঃ রায়হান সিরাজী (রংপুর-১), এ টি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), মোঃ মাহবুবুর রহমান (বেলাল) (রংপুর-৩), মোঃ গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), মোঃ নুরুল আমীন (রংপুর-৬), মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (লালমনিরহাট-১), মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১), মোঃ ইজ্জত উল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), হাফেজ মুহাঃ রবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩), মোঃ রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), মীর আহমাদ বিনকাসেম (ঢাকা-১৪), মোঃ মশিউর রহমান খান (বাগেরহাট-১), মোঃ আব্দুল আলীম (বাগেরহাট-৪), শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল (খুলনা-২), মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান. (যশোর-১), গাজী এনামুল হক (যশোর-৫), মোঃ মোক্তার আলী (যশোর-৬) নির্বাচিত হয়েছেন। একইসঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং এনসিপির নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় নির্বাচন ভবনের গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন হয়েছে। তিনি বলেন, কমিশন জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি থাকলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন একটি উচ্চ মানদ-ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটসহ বিশাল ভোট কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনায় প্রায় ১৭ লাখ কর্মকর্তা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। ভোট গণনায় সময় লাগার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ফলাফল চূড়ান্ত করতে স্বাভাবিকভাবেই সময় লাগছে। তবে এতে কোনো কারসাজি বা অনিয়মের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো গোপনীয়তায় বিশ্বাস করে না এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেই সারা দেশের জনগণের সামনে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সিইসি দাবি করেন, অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচন যে কোনো মানদ-ে অধিক গ্রহণযোগ্য ও আস্থাযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, নির্বাচন সুন্দর এবং গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পারফেক্ট নির্বাচন হয় না, তবে যে কোনো মানদ-ে এটি দেশের ইতিহাসে ভালো ভোট হিসেবে ধরা যায়। সাড়ে ১৭ লাখ কর্মকর্তা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেছেন।