‘যুগপৎ আন্দোলনের সাথীদের নিয়েই সরকার গঠন’

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা সবসময় আমাদের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে অটল থাকি। যাদের সঙ্গে বিগত দিনে রাস্তায় যুগপৎ আন্দোলন করেছি, তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা নির্বাচন করেছি। এখন তাদের নিয়েই সরকার গঠন করব। গতকাল শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও কালিবাড়িতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচনত্তোর মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনে বিএনপির অভূতপূর্ব বিজয় প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন থেকে প্রতিষ্ঠা করেন তখন থেকে দলটি কখনোই জনপ্রিয়তা হারায়নি। কারণ বিএনপি সবসময় জনগণের সঙ্গে থেকেছে, জনগণের রাজনীতি করেছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, একটা কথা মনে রাখতে হবে, বিএনপি কখনোই ক্যাডারবেইজ পলিটিক্যাল পার্টি নয়; এটি পাওয়ারবেইজ পলিটিক্যাল পার্টি। সেই চরিত্র নিয়েই বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করেছে; সরকারেও থেকেছে। বিএনপির ম্যানুফেস্টো, ভিশন, রাষ্ট্র সংষ্কারের প্রতিশ্রুতি, দাবি ও পয়েন্টগুলো জনগণ গ্রহণ করেছে বলেই আজকের এই ভূমিধস বিজয় হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণ একটি দলকে ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিএনপি টু-থার্ড মেজোরিটি পেয়েছে। আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে বাংলাদেশের জনগণ আবারও এদেশে সৎ কল্যাণমুখী রাজনীতি দিয়ে সমস্ত অপপ্রবণতাকে রুখে দিতে সক্ষম হবে। এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

শতভাগ সন্তুষ্ট হওয়া কঠিন, মোটামুটি খুশি বিএনপি : জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শতভাগ সন্তুষ্ট হওয়া কঠিন ব্যাপার। তবে দলটি মোটামুটি খুশি। অতীতে নির্বাচন ঘিরে অনেক প্রাণহানি হলেও এবার তেমন কিছু হয়নি। ভোটের অফিসিয়াল চূড়ান্ত ফলাফল জানতে গতকাল শুক্রবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। উপস্থিত সাংবাদিকরা নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ভোট না দিতে দিতে ভোট না দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। সবাইকে পুরোপুরি ভোটে আনতে পারিনি। আমরা জনগণকে ভোটমুখী করবো। যেন সব মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসে। তারপরও বাংলাদেশের জন্য আজ একটি উল্লেখযোগ্য দিন। ভোট কেমন হলো- জানতে চাইলে তিনি বলেন, শতভাগ সন্তুষ্ট হওয়া কঠিন ব্যাপার। বিএনপি মোটামুটি খুশি। আগের অনেক ভোটে অনেক প্রাণ গেছে। তবে এবার আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে তেমন কিছু হয়নি। নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করা সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যারা সংবাদকর্মী আছেন আপনাদের ধন্যবাদ। আপনাদের মাধ্যমে দেশের জনগণ আমাদের কর্মপরিকল্পনা জানতে পেরেছে এবং সে অনুযায়ী আমাদের ভোট দিয়েছে। জুলাইয়ের শক্তি নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনার কথা ছিল। এখন সেই পরিকল্পনার কী হবে—জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আপনারা যেভাবে বললেন, আমার তো সেটা জানা নেই। যে ল্যাঙ্গুয়েজে বললেন সেই ল্যাঙ্গুয়েজে আমি কখনো বলিনি। বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ইসিতে আমাদের সঙ্গীরা ছিলেন। আমরা রেজাল্ট যতটুকু পেয়েছি তাতে দুই-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছি। বিএনপি জোটেরও অনেকে বিজয়ী হয়েছেন। কাজেই আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে দেশের জনগণ আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের কল্যাণের দায়িত্ব বিএনপি এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ওপর দিয়েছেন। আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিয়েছি। জনগণের রায় প্রতিফলিত না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথা বলছে জামায়াত? এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা ২৯২ আসনে আমাদের প্রার্থী মনোনীত করেছিলাম। আশা করেছিলাম সবাই জিতবে। কিন্তু অনেকে জয়ী হতে পারেননি। কেউ ৫০০ ভোট পায়, সে-ও বিজয়ী হওয়ার আশা করেছিল। আশা করি আগামীতে ফলাফল আরও ভালো হবে।