‘প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি, আসন চারগুণ বেড়েছে’
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এর নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে হতাশ না হয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের এটিকে একটি ‘ভিত্তি’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। গত রাতে ও গতকাল শনিবার ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে তিনি নেতা-কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।
গত রাতের পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের ফল নিয়ে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন ও হতাশ হয়েছেন, তবে আপনাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। দলের আসন প্রায় চারগুণ বেড়েছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাই এটিকে পরাজয় নয়, বরং একটি ভিত্তি হিসেবে দেখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের সাহস দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনীতিতে উত্থান-পতন স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বিএনপির উদাহরণ টেনে বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপির আসন কমে ৩০টিতে নেমে এসেছিল, কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছরের পথচলা শেষে ২০২৬ সালে তারা আবার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি দীর্ঘ পথের যাত্রা, এখানে ধৈর্য ও অধ্যবসায় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দল হিসেবে জামায়াতের লক্ষ্য স্পষ্ট- জনগণের আস্থা অর্জন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা এবং ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীল প্রস্তুতি নেওয়া। গতকাল শনিবার এক পোস্টে শফিকুর রহমান নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়, এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের মূল শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান।’ তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের সমর্থক, ১১-দলীয় জোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী এমনকি বিএনপির মতের সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থাকার কারণে অনেকে হামলার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার ঘোষণা দেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। প্রতিটি ঘটনা নথিভুক্ত করে যথাযথভাবে তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও নির্দেশ দেন তিনি। প্রয়োজনে ছবি ও ভিডিওসহ প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমা দিতে এবং প্রয়োজন হলে গণমাধ্যমে প্রকাশের কথাও বলেন। আসন্ন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে আমাদের এই অঙ্গীকারকে কেউ দুর্বলতা মনে করবেন না।’ এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না- এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিবৃতিটি শেষ করেন জামায়াত আমির।
হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ জানাতে হটলাইন চালুর নির্দেশ জামায়াত আমিরের : নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের কোথাও হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা হয়রানির ঘটনা ঘটলে তা সরাসরি জানাতে কেন্দ্রীয় হটলাইন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে পোস্ট করে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা ভিন্নমত পোষণকারী নাগরিকদের ওপর কোনও ধরনের সহিংসতা হলে দ্রুত অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আমির পোস্টে জানান, অভিযোগ দ্রুত নথিভুক্ত ও যাচাই করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। নম্বরটি হলো- ০৯৬৩৯-১১১৪৪৪। অভিযোগ জানানোর সময় নাম, পরিচয় বা দায়িত্ব, মোবাইল নম্বর, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসন, অভিযোগের ধরন ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করার অনুরোধ জানান তিনি। এছাড়াও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রতিটি ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এমনকি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমেও তা তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।
