সাহরি, ইফতার ও তারাবিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজান সামনে রেখে সাহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জনগণের বিপুল সমর্থনের প্রতিদান হিসেবে সরকারকে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে- এ কথা প্রধানমন্ত্রী সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। মন্ত্রী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতি ও যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রমজানকে ঘিরে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা, সাহরি-ইফতার ও তারাবির সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড কার্যক্রম দ্রুত দৃশ্যমান করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ইমামণ্ডমুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নুরুল হক নুর আরও বলেন, দেশের শ্রমবাজারের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। অতীতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেই শ্রমবাজারে স্থবিরতা এসেছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য সফর নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে তিনি মত দেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সরকার শিগগিরই ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথগ্রহণ করেন। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ভিভিআইপি মুভমেন্টে জনদুর্ভোগ এড়াতে আইজিপিকে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর : নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার চলাচলের সময় সড়কে জনসাধারণের যাতায়াতে যেন দুর্ভোগ না হয়- সে বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার আইজিপি নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার চলাচলের কারণে যেন সাধারণ জনগণের যাতায়াতে কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়- সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থা যেন স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়টি তিনি আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। আইজিপি বলেন, আজ তার মুভমেন্টের কারণে কিছু সড়কে আগে থেকে বন্ধ ছিল যান চলাচল। পরে যেন এটি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবস। এদিন ঢাকা মহানগরজুড়ে সড়কে সড়কে লক্ষ্য করা গেছে ট্রাফিক পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা। রাজধানীর ব্যস্ত মোড়গুলোতে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। গত মঙ্গলবার নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। শপথ গ্রহণের পর তিনি আজ জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দুই-একদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মন্ত্রীরা কর্মপরিকল্পনা পেশ করবেন - তথ্যমন্ত্রী : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মন্ত্রীরা তাদের একটি কর্মপরিকল্পনা দুই-একদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবেন। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। গতকাল বুধবার বিকেলে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি ঠিক আনুষ্ঠানিক কোনো ক্যাবিনেট বৈঠক ছিল না; এটি ছিল একটি প্রাথমিক সৌজন্য বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আমরা বসেছিলাম। দেশের বর্তমান জরুরি পরিস্থিতি কী কী হতে পারে, তা নিয়ে এই বৈঠকে কমবেশি আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা সাপেক্ষে প্রধানমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন। আমাদের এই মুহূর্তের অগ্রাধিকার হচ্ছে রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে জনগণের সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা- বিশেষ করে তারাবির নামাজ ও ইফতারের সময়। মূলত এই তিনটি বিষয়ই আমাদের অগ্রাধিকারে এসেছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র মেরামতের জন্য আমাদের দলের পক্ষ থেকে ৩১ দফার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচি কেবলমাত্র বিএনপির ছিল না, এটি সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত কর্মসূচি। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করব। আমরা হিসাব করে দেখেছি, জরুরি সমস্যাগুলো একটি সম্মানজনক পর্যায়ে আনতে কমপক্ষে ১৮০ দিন সময় প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী ১৮০ দিনের একটি খসড়া পরিকল্পনা আমাদের তৈরি করা আছে, যা খুব শিগগিরই দেশবাসী জানতে পারবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। আমরা এটি নিশ্চিত করার মেকানিজম নিয়ে কাজ করছি। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত কমিশনের প্রস্তাবনা আমাদের হাতে আছে, আমরা সেটি আরও স্পষ্ট করে বোঝার চেষ্টা করছি।
