শিগগিরই ইরানে হামলা করবে যুক্তরাষ্ট্র
* ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল : ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম * ইরান-মার্কিন চুক্তির সময় ফুরিয়ে আসছে : আইএইএ প্রধান
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক
ইরানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সব ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ এ হামলা হতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত বিভিন্ন সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রমতে, গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। হোয়াইট হাউসকে জানানো হয়েছে, সামরিক বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে অভিযানের জন্য প্রস্তুত। এমনকি মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ এ সপ্তাহান্তেই পারস্য উপকূলে পৌঁছাতে পারে।
পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং ট্যাংকারগুলোকেও মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কংক্রিট ও মাটি দিয়ে ঢেকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হামলার পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি দিচ্ছেন। গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। এর আগে জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে হওয়া পরোক্ষ আলোচনার বিষয়ে তাঁকে ব্রিফ করেন। জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, কূটনীতিই ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ। তবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথও খোলা রাখা হয়েছে।
হামলার সময় নির্ধারণে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী রোববার শীতকালীন অলিম্পিক শেষ হচ্ছে। এর আগে কোনো হামলা না হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। এ ছাড়া গত বুধবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধুদেশগুলো রমজানের সময় হামলার বিরোধিতা করছে। এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার ট্রাম্পের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণ রয়েছে। ট্রাম্প এই বিষয়গুলোকে হামলার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিচ্ছেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল : ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্ভাব্য ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল বুধবার রাতে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’(কেএএন)-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দেবেন কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থায় ইসরায়েলের হামলার এ সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এল। এদিকে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর মূল্যায়নে দেখা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনার পর ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।
ইরান-মার্কিন চুক্তির সময় ফুরিয়ে আসছে : জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক তদারকি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি। তিনি বলেন, আলোচনায় হয়তো এক ধাপ এগোনো সম্ভব হয়েছে, কিন্তু এখনও অনেক কাজ বাকি এবং আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে এ সপ্তাহে দুই পক্ষের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর ভেঙে পড়া আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ায় কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে আলোচনার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকি ছায়া ফেলছে।
ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এলসিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রোসি বলেন, “বাস্তব বিষয়গুলো নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে, কী করতে হবে এবং কীভাবে এগোতে হবে, তা নিয়ে কথা হচ্ছে।” আর্জেন্টাইন কূটনীতিক গ্রোসি আরও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যেই সমঝোতায় পৌঁছানোর সদিচ্ছা রয়েছে, তবে এমন একটি চুক্তি অত্যন্ত জটিল। গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরান আইএইএর সঙ্গে কিছু সহযোগিতা স্থগিত করে। ইরান অভিযোগ তোলে, সংস্থাটি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকারও সীমিত করা হয়।
এদিকে বুধবার হোয়াইট হাউস ইরানকে সতর্ক করে বলেছে, সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রথম ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি দেন। আলোচনা পুনরায় শুরু হলেও ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার রেখেছে, যা কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
