ধর্মীয়-সামাজিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

বললেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। গতকাল শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার ‘ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ’ বিষয়ক এক বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সামাজিক বৈষম্য দূর করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তিনি উপস্থিত মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খোঁজ নিলেন কর্মীদের : দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে এটি তার তৃতীয় কর্মদিবস। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার তিনি সচিবালয়ে অফিস করেন। প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেন। কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়ের মূল ভবনে ঢোকার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের পুরোনো অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম ধরে কাছে ডেকে কথা বলেন। কার্যালয়ে ঢুকে প্রধানমন্ত্রী একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা কার্যালয় চত্বরে রোপণ করেন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডাকটিকিট উন্মোচন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এ ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।

ঈদের আগেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেবে সরকার : নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের সম্মানী ও ভাতা দেবে সরকার। তবে এই সম্মানী কত টাকা হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এসময় স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে পাশে রেখে মাহদী জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের সম্মানী ও ভাতা প্রদান করা। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তা চালু হবে। কত টাকা সম্মানী-ভাতা প্রদান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আন্ত:মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হবে।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘শনিবার ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশকিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ (শনিবার) তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান। অফিসে প্রবেশের আগে ব্রিফ করেছেন। অনেক পুরাতন কর্মজীবীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পলিসি কার্যক্রম নিয়েও আজ আলোচনা করেছেন।’