শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপ-নির্বাচন বৈশাখের আগে
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ ও শূন্য ঘোষিত বগুড়া-৬ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচন আগামী পহেলা বৈশাখের (১৪ এপ্রিল) আগেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈশাখবরণ উৎসবের আমেজ শুরু হওয়ার আগেই এ দুটি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে চায় কমিশন। গতকাল রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুটি আসনের (বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩) উপ-নির্বাচন আমরা আশা করছি পহেলা বৈশাখের আগেই শেষ করতে পারব। সাধারণত পহেলা বৈশাখে উৎসব থাকে, ফলে এর আগেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে চাই। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ভোট হবে।
বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন বিষয়ে ইসি মাছউদ বলেন, বগুড়ায় যারা প্রবাসী ভোটার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তারা এরই মধ্যে ভোট দিয়েছেন। আমরা তাদের কাছে আবার ব্যালট পাঠাবো। নতুন করে কেউ যদি বাদ পড়ে থাকে, তাদের জন্য আরও দু-চারদিন সময় দেওয়া হতে পারে।
উপ-নির্বাচনের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, দলগুলোর মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নির্বাচনের কাজ মূলত শুরু হয়ে গেছে।
গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট শেষ করতে পারব। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচিত হন তারেক রহমান। ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্বের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কমিশনে ঘোষণাপত্র দাখিল করেন। একই দিন বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করে ইসি।
সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে কি না, সিদ্ধান্ত বিএনপির কাছে- ইসি : আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের ওপর। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, যেহেতু বর্তমান সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে, তাই দলীয় প্রতীকের বিধান থাকা বা না থাকার বিষয়টি মূলত দলটির ওপরই নির্ভর করছে। গতকাল রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এসব তথ্য জানান।
তিনি একই সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসন এবং স্থগিত হওয়া উপনির্বাচনগুলো নিয়ে কমিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বিধান (অর্ডিন্যান্স) পরিবর্তন প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমার জানামতে, অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মেয়র প্রার্থী পদে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদ বসবে। সংসদ বসার পর এই বিল বা অর্ডিন্যান্স যদি রেটিফাই (অনুমোদন) হয়, তবে সেভাবেই নির্বাচন হবে। আর যদি পরিবর্তন হয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তবে অন্য রকম হবে।
আমরা মূলত সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি।’ সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়ে গেছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যাদের মনোনীত করবেন, মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন। দলগুলো এরইমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। বিধি অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; কমিশন সেই সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করবে।
