১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ এর পরিচালক (উপসচিব) মো. এমাদুল হকের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৬ সালের ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে? জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। নতুন সংসদের এ অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু এখন একটি প্রশ্ন প্রথম দিনে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে?

সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। সেই বাধ্যবাধকতা মেনেই ১২ মার্চ অধিবেশন বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহ্বান করবেন।

অধিবেশনের প্রথম দিনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে।

তবে জটিলতা তৈরি হয়েছে অধিবেশন শুরুর সভাপতিত্ব নিয়ে। বিদায়ী দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় তারা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি সম্ভব নয়।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো সদস্য অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ একজন সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। এবারও একাধিকবার নির্বাচিত কোনো জ্যেষ্ঠ সংসদণ্ডসদস্যকে দিয়ে অধিবেশন শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংসদ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সংবিধান, কার্যপ্রণালি বিধি ও রেওয়াজ অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দলীয় সহকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রথম দিনে একজন সিনিয়র সদস্য সভাপতিত্ব করার নজির রয়েছে। সরকারি দল উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। নিয়ম অনুযায়ী ভাষণটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে। ভাষণের পরপরই অধিবেশন মুলতবি করা হবে। পরে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সরকার, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা অংশ নেবেন।

প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচনের পর অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি রেখে নতুন স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করাবেন। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ফল প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। জামায়াত পেয়েছে ৬৮টি আসন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল প্রতিনিধিত্ব করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি থাকায় এবারের অধিবেশন প্রাণবন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক ও আলোচনা জমে উঠতে পারে।