তিন আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ

ব্যালট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩টি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগের ভিত্তিতে আসনগুলোর ব?্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জামাদি হাইকোর্টের হেফাজতে রাখতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশপাশি ওই আসনগুলোর বিজয়ী প্রার্থীকে নোটিশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি আপিল ট্রাইব্যুনাল আবেদনগুলো গ্রহণ করে আদেশ দেন। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩টি আসনে কারচুপির অভিযোগ এনে হাইকোর্টে আবেদন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসনগুলো হলো, ঢাকা- ৬, ৭ ও গাইবান্ধা-৪।

জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনি’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করবেন।

গণভোটের ফল আবার সংশোধন করল ইসি : ফলাফল প্রকাশের ১৩ দিন পর গণভোটের ফলাফল সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে ইসি গণভোটের ফলাফলের সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছে। তাতে আগে প্রকাশিত ফলাফলের চেয়ে মোট প্রদত্ত ভোট ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬ কম। সংশোধিত ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা। ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে এই গেজেটে সই করেছেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে বেসরকারিভাবে গণভোটেরও ফলাফল ঘোষণা করেছিলেন ইসি সচিব। একই দিন রাতে ফলাফলের গেজেট জারি করা হয়েছিল। ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসি সচিব গণভোটে হ্যাঁ ও না ভোট পড়ার যে সংখ্যা উল্লেখ করেছিলেন, ওই রাতে প্রকাশিত গেজেটের সঙ্গে তার গরমিল ছিল। ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ইসি সচিব বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সারা দেশে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। এরপর ইসি আসনভিত্তিক গণভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছিল। সেখানে বেশ কিছু গরমিল নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ওই রাতে বেসরকারি ফলাফল সংশোধন করেছিল ইসি। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, গণভোটে মোট ভোট পড়ে ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। ভোট বাতিল হয় ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। মোট বৈধ ভোট ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০। ‘না’ ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ লাখ ৭২৬। গতকাল জারি করা সংশোধিত ফলাফলের গেজেটে বলা হয়েছে, গণভোটে মোট ভোট পড়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১। ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০। ‘না’ ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১।