মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জামায়াতের ইফতার মাহফিল

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় ক্বারী বেলাল হোসাইনের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতারা, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাবেক বিচারপতি ও সিনিয়র আইনজীবী, কৃষিবিদ, চিকিৎসক, ওলামা-মাশায়েখ, কবি সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদের নির্বাচিত নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই এখানে একত্রিত হয়েছি। কিছুদিন আগে দেশে নির্বাচন হয়েছে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অকাতরে জীবন দিয়েছে, বিভিন্ন অত্যাচার-নির্যাতন, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। এত ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজকের এই গণতন্ত্রের যাত্রা যেটি সূচনা হচ্ছে বা হয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে সেটির সুযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আজ আমাকে, আমার সঙ্গে আমার নেতাদের এবং আমার সফরসঙ্গীদের এই ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়ার জন্য।

সরকারপ্রধান বলেন, সম্মানিত সব নেতারা ও উপস্থিতি, আজ এখানে শুধু আমি নই, এখানে শুধু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বা কর্মী নন; আমাদের বাইরেও এখানে অন্যান্য আরও রাজনৈতিক দলের নেতারা আছেন, এখানে আরও অন্যান্য সমাজের অন্যান্য বিভিন্নস্তরের বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তিরা উপস্থিত আছেন আজকের এই ইফতার মাহফিলে।

তারেক রহমান বলেন, সম্মানিত উপস্থিতি, বাংলাদেশের মানুষ আজ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে, অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, অনেক আশা নিয়ে আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে আছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আজ আমাদের এই ইফতার মাহফিলে আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামীদিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। তিনি বলেন, আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, এই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করার তৌফিক আল্লাহ তাআলা আমাদের দেবেন।

গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সংসদে ফাংশন করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা চাই এই সংসদ হোক অর্থবহ, জনগণের সব চাওয়া পাওয়ার কেন্দ্র। সরকারি দল যেমন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন আমরাও বিরোধী দলের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে চাই। আমরা চাই না জাতীয় সংসদের একটা সেকেন্ড নষ্ট হোক। জাতীয় সংসদ কারো চরিত্র হননের কেন্দ্রবিন্দু হোক, সেটা চাই না। বরং জাতীয় সংসদ হবে দেশের সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে আমরা বিরোধী দল দেখেছি। নির্বাচন যেমন আমি-ডামি ছিল সরকারিও বিরোধী দলও তেমনি আমি-ডামি ছিল। এই ধরনের কোনো বিরোধী দল কোনো দেশের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনতে পারে না। তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত সব সংগত পদক্ষেপে আমাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতাও থাকবে। কিন্তু আমাদের বিবেচনায় আমরা যদি দেখি যে সরকার কোনো অসংগত সিদ্ধান্ত কিংবা পদক্ষেপ নিয়েছেন আমরা প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করব, করে সহযোগিতা করব। সরকার আমাদের পরামর্শগুলো গ্রহণ করলে আমরা কৃতজ্ঞ হবো, জাতি উপকৃত হবে। সরকার আমাদের পরামর্শ গ্রহণ না করলে বিরোধী দলের যে ভূমিকা সেটাই আমরা পালন করব। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল হিসেবে আমরা জাতির অধিকারের পক্ষে দাঁড়াব এবং জাতিকে আমাদের সঙ্গে শামিল থাকতে বলব। তবে আমরা এই সদিচ্ছায় রাখতে চাই এই ধারণাই পোষণ করতে চাই যে, এই সরকার সংসদকে আগামীতে এগিয়ে যাওয়ার বাহনে পরিণত করবে।

জামায়াত আমির বলেন, কোনো বাহন কখনও এক চাকায় চলে না, দুটো চাকা মিনিমাম লাগবে। সরকারি দল যদি সামনের চাকা হয় তাহলে বিরোধী দল হবে পিছনের চাকা। একটা বাদ দিয়ে যানবাহন অবস্থায় আরেকটা একা চলতে পারবে না। আমরা সেই পথ চলায় সমন্বয় চাই এবং পারস্পরিক সম্মানের জায়গাটা চাই। তিনি বলেন, আমরা আমাদের মহান জাতীয় সংসদের একটা সেকেন্ড নষ্ট হোক তা প্রত্যাশা করি না। চাই না জাতীয় সংসদ কারো চরিত্র হননের কেন্দ্রবিন্দু হোক। বরং জাতীয় সংসদ হবে দেশের সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। যেসব কালো আইন এখনও আমাদের সংবিধানে রয়ে গেছে আমরা সম্মিলিতভাবে সেগুলা দূর করার প্রয়াস চালাব। আর জাতিকে একটা সুস্থ বিকশিত সম্মানের জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে দাঁড় করানোর জন্য। যে আইন সংযোজনের প্রয়োজন আমরা প্রত্যাশা করব যে সরকারি দল এবং বিরোধী দল মিলে সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাব।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, যদি এ রাজনীতিটা আমরা করতে পারি তাহলে অতীতের রাজনীতির যে হতাশাজনক ধারা এখন পর্যন্ত জাতিকে গ্রাস করে আছে, তার করাল গ্রাস থেকে আশা করি জাতি মুক্তি পাবে ইনশাআল্লাহ। তিনি ইফতার মাহফিল থেকে ৪৭, ৫২, ৭১, ৯০ ও ২০২৪ সালে জাতির জন্য লড়াই করে জীবন দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া প্রত্যেককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। জামায়াত আমির বলেন, যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে আমরা বিশ্বাস করি, তাদের হাতে কখনও মানুষের আমানতের খেয়ানত হতে পারে না। তারা মানুষের আমানতের ব্যাপারে বড়ই সতর্ক সজাগ থাকেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, তিনি আজ দুনিয়ায় নেই। আল্লাহ তাালার দরবারে দোয়া করি আল্লাহ তাআলা তার এই বান্দিকে উচ্চ মর্যাদায় একজন জান্নাতি মেহমান হিসেবে রাখুন। আজকে তার সন্তানের উপরে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব করেছে।