বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে ‘দুর্বল পদক্ষেপ’ দেখছে সিপিডি
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার ‘দুর্বল পদক্ষেপ’ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ এবং আরও যোগ্য ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ সরকারের হাতে ছিল। গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত : ১৮০ দিন ও তারপর’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন। গভর্নর নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান গভর্নরের সঙ্গে খেলাপি ঋণ ও বিশেষ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ যুক্ত হয়েছে- এ ধরনের সমালোচনা এড়াতে সরকার চাইলে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত। তার ভাষ্য, গভর্নর নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মানদণ্ডভিত্তিক প্রক্রিয়ার ঘাটতি রয়েছে।
আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক সংস্কার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ড. মোয়াজ্জেম সদ্য সাবেক গভর্নরের ভূমিকায় প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আর্থিক খাতে যেসব সংস্কার হয়েছে, তার অনেকটাই ব্যক্তি উদ্যোগে এগিয়েছে। সংস্কার প্রক্রিয়ায় স্বার্থগোষ্ঠীর বাধা থাকলেও যুক্তি-তর্কের ভিত্তিতে তা এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব অব্যাহত রাখা প্রয়োজন ছিল বলেও মত দেন তিনি।
বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে ড. মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর ছাড়া স্পষ্ট কোনো যোগ্যতার কাঠামো নেই।
ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়াকে আইনগত কাঠামোর মধ্যে এনে মানদণ্ড নির্ধারণ করা উচিত।
এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি কমিটি প্রার্থীদের অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সক্ষমতা এবং উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাছাই ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।
বাংলাদেশেও গভর্নরসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং কমিটি গঠন করে সংক্ষিপ্ত তালিকার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেয় সিপিডি।
এছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের ‘ডি-রেগুলেশন’ প্রবণতার বিষয়ে সতর্ক করে ড. মোয়াজ্জেম বলেন, আর্থিক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে এখনও কঠোর নজরদারি ও শক্ত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
