বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতার ভাই নিহত
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির হামলায় জামায়াতকর্মী হাফিজুর রহমান নিহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উভয় পক্ষের আহত হয়েছেন ৬ জন। নিহত হাফিজুর রহমান ছিলেন জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও উপজেলার সুটিয়া গ্রামের আবদুল ওয়াহেদের ছেলে এবং হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই। এ ঘটনায় মফিজুর রহমানও গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে উপজেলার হাসাদাহ এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর পুরো উপজেলাজুড়ে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ বাঁধে। এ ঘটনার জেরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পার্শ্ববর্তী সুটিয়া গ্রামের জামায়াতকর্মী মাহদি হাসানকে তুলে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
উদ্দিনের ওপর পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে বিএনপি ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে তাকে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। সংঘর্ষের পর হাসাদাহ বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জীবননগর থানা পুলিশসহ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে ঘটনার পরপরই হাসপাতালে ছুটে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন।
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের বড় ভাই হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে মারা যান। এ ছাড়া মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, কাদের হামলায় জামায়াতকর্মী মারা গেছেন তা আমি এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নই। জানার ও বোঝার চেষ্টা করছি। জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই হাফিজুর রহমান নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
