গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ নিহতের ঘটনায় তদন্তের সুযোগ নেই
বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্তের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের সুরক্ষা দিতে এরইমধ্যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। জুলাই সনদেও এ বিষয়ে ৎসম্মিলিত সিদ্ধান্ত রয়েছে এবং সরকার সেই নীতিতেই অটল রয়েছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মাঠে ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও তারা মাঠে থাকবে কি না- এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এ সিদ্ধান্ত হবে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-এর বিলুপ্তি বা নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নির্দেশনা জারি হয়েছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী জানান, ভারতীয় হাইকমিশন-এর হাইকমিশনার তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারত-এর সঙ্গে নিরাপত্তা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। টুরিস্ট ভিসা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ ও একটি আদেশ উত্থাপন করা হবে। এর মধ্যে কোনটি গৃহীত হবে, সংশোধিত হবে বা বাতিল হবে-তা সংসদেই নির্ধারিত হবে।
ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। কোনো উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনবিহীন অবস্থা রাখা হবে না। নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অতীতে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে ভারত : বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করতে চলেছে ভারত। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৈঠকে ভিসা কার্যক্রম, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর এটি ছিল হাইকমিশনারের একটি রুটিন সৌজন্য সাক্ষাৎ। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত ও নিরাপত্তার মতো বিষয়ে ব্যাপক সম্পৃক্ততা রয়েছে।
ভিসা কার্যক্রম নিয়ে ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে ভারতের কনস্যুলেট ও ভিসা অফিসগুলোতে বিভিন্ন সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার কারণে তারা পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতায় কাজ করতে পারেনি। তবে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে যে ভিসা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করা হবে। পর্যটক ভিসা আলাদাভাবে চালু করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলাদাভাবে কোনো কথা হয়নি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পারস্পরিক স্বার্থ, মর্যাদা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা চায়। তিনি বলেন, আমরা সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য সব ক্ষেত্রে আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার আশা করি। দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
বৈঠকে সীমান্ত হত্যার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সীমান্ত হত্যার বিষয়টি তুলেছি, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার কথা আর শুনতে না হয়। আমরা চাই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক হোক, যাতে এ ধরনের ঘটনা যতটা সম্ভব এড়ানো যায়।’
শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শিগগির অ্যাকশন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তাদের শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে। কীভাবে আনা হবে সেই পরিকল্পনা ফাঁস করতে চাই না। অ্যাকশন শুরু হবে শিগগির। গতকাল রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তারা যাতে শিগগির আইনের আওতায় আসে সে ব্যবস্থা আমরা খুব দ্রুত নেবো। আমাদের পরিকল্পনা এখানে ফাঁস করতে চাই না। কোনো কিছু বাদ থাকবে না, এদের আইনের আওতায় আনবোই। এ বিষয়ে আমরা অত্যন্ত কঠোর।
চট্টগ্রামে গোলাগুলির ঘটনার এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দুই মাস আগেও একজন বড় ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা এবং বাসায় পুলিশ প্রহরী দিয়েছেন। ওই সন্ত্রাসী গ্রুপ হয়তো সুবিধা পায়নি সেজন্য দুই মাস পরে আবার একই রকমের কর্মকাণ্ড করেছে। এ সময় তারা হেভি উইপেন্স (ভারী অস্ত্র) দিয়ে গোলাগুলি করেছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের গোলাগুলির ঘটনায় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা গেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
বিএনপি দলের নামে চাঁদাবাজির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের সোপর্দ করেন। কিন্তু কোনো অভিযোগ ঢালাওভাবে করলে তার জবাব দেওয়া যায় না। আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে স্থিতিশীলতা আসে, মানুষের মনে শান্তি এবং নিশ্চয়তা আসে। সরকারের ১৩ দিনে আইনশৃঙ্খলা উন্নত হয়েছে কি না পাল্টা প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, দৃশ্যমান। নরসিংদীতে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড হয়, আমরা বলেছি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও দু-তিনটি এমন হয়েছে সবগুলো আইনের আওতায় আনা হয়েছে। ঘটনা কি ঘটবে তার আগে তো আমরা গণক নয় যে জানব। ঘটনা ঘটার পরে আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করছি কি না সেটিই মানুষের দেখার বিষয়। আমরা সেটা জনগণকে দেখাতে পেরেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা আন্তরিক কতটা কঠোর, আশা করি জনগণ এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে। ইনভেস্টিগেশনের দায়িত্ব আমাদের, ইনভেস্টিগেশনের মধ্য দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। বিচারকরা বিচার করবেন স্বাধীনভাবে আমরা আমাদের তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করব।
