মার্কিন রণতরী ও ঘাঁটি আক্রান্ত

* ইসরায়েল ও বাহরাইনে আবার হামলা * আক্রান্ত সৌদি, কাতার ও কুয়েত * ইসরায়েলি সেনাক্যাম্পে হিজবুল্লাহর হামলা * মার্কিন ঘাঁটিতে ইরাকি যোদ্ধাদের হামলা * পালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী : আইআরজিসি * ‘অত্যাধুনিক অস্ত্র’ ব্যবহার করবে ইরান * ইরানে মাঠে বিমান হামলা, নিহত ২০ * মধ্যপ্রাচ্যে দূত পাঠাচ্ছে চীন * ইরানে নিহত বেড়ে ১৩৩২

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

একদিকে ইরান তার পাল্টাহামলার পরিধি বাড়িয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বভাবসুলভ হুমকি- ধমকিও বেড়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে নির্ধারিত সময়ের আগেই এমন মাত্রায় ধ্বংস করা হচ্ছে, যা মানুষ আগে কখনও দেখেনি। তিনি দাবি করেন, দেশটির বিমান বাহিনী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং এখন তাদের আর কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। নির্বিচার হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কয়েকদিনের মধ্যে ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে- এমন জল্পনার মধ্যে এ মন্তব্য করলেন তিনি।

এর জবাবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি বলেছেন, ইরানি বাহিনী যে কোনো মার্কিন স্থল অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছে এবং তারা হাজার হাজার শত্রুকে হত্যা ও বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্ত ধরনের অপমানিত করতে প্রস্তুত। এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানে মার্কিন স্থল সেনা পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এখন বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, আমরা শত্রুদের স্থল-অভিযানের জন্য অপেক্ষা করছি। তিনি বলেন, ইরানে বিদেশি সেনা মোতায়েন করা হলে তা আক্রমণকারীদের জন্য সন্দেহাতীতভাবে বিপর্যয় ডেকে আনবে।

মার্কিন রণতরীতে হামলা : হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইরান। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে লক্ষ্য করে আবার ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ওমান সাগরে ইরানের সামুদ্রিক সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে এগিয়ে এসেছিল বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। সে সময় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখার ড্রোনের আঘাতে রণতরীটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরও বলেন, হামলার পর রণতরীটি তার ডেস্ট্রয়ারগুলোর সঙ্গে দ্রুত সরে যায়। এখন এটি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। সম্প্রতি আইআরজিসি দাবি করে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর অংশ হিসেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইসরায়েল ও বাহরাইনে আবার হামলা : আলজাজিরা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শুরু করে কাতার ও বাহরাইন পর্যন্ত উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। গভীর রাতে ইসরায়েলের তেলআবিব শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইরানের ফারস নিউজ জানিয়েছে, রাতে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় ‘ফাইন্যান্সিয়াল হারবার টাওয়ার্স’ বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে আঘাত করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি দূতাবাস অবস্থিত হওয়ায় সেখানে হামলা চালানো হয়। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, কমপ্লেক্সের আশেপাশে হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনকে প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে, দেশটিতে রাতে অন্তত তিন দফা হামলা হয়েছে এবং এতে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আক্রান্ত সৌদি কাতার কুয়েত : শুক্রবার সকালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আবার হামলা হয়েছে। শহরের পূর্বাঞ্চলে ইরানের তিনটি ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর কিছুক্ষণ আগে আল-খারাজে ক্রুজ মিসাইল এবং প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার কথা জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়। অন্তত তিন দফা হামলায় প্রাণহানি বা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা, এ বিষয়ে যথারীতি কিছু জানায়নি রিয়াদ। এদিকে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, দোহার আল উদেদ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। তবে এ ড্রোন হামলা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগে, কাতার একটি সতর্কতা জারি করে জানিয়েছিল, নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে এবং জানালা ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ভোরে নতুন করে হামলা হয়েছে কুয়েতেও। বেশ কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে আকাশ হামলার সাইরেন বাজানো হয়। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সেখানে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলা : ইরানের পাশাপাশি ইসরায়েলে আঘাত হেনে যাচ্ছে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি স্থলবাহিনীর ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছেন তারা। বিশেষ করে গত কয়েক দিনে লেবাননের ভূখণ্ডে প্রবেশ করা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তাদের যোদ্ধারা লেবাননের সীমানার ভেতরে অবস্থিত মারুন আল-রাস এবং কাফার কিলাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীকে আঘাত করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হিজবুল্লাহ অধিকৃত গোলান মালভূমির ‘ইয়োভ’ সামরিক ক্যাম্প এবং ইসরায়েলের হাইফা বন্দরের একটি নৌ ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। এর আগে, হিজবুল্লাহ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত ইসরায়েলি সেটলারদের এলাকা খালি করার জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরাকি যোদ্ধাদের হামলা : এদিকে, ইরাক এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৭টি অভিযান ও হামলা চালিয়েছে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ বা আইআরআই। শুক্রবার সকালে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরাকি প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর এই জোট জানিয়েছে, তারা ইরাকে অবস্থিত শত্রু ঘাঁটিগুলোকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত করেছে। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিবৃতিতে আক্রান্ত সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ হলো এই অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি প্রতিরোধ সংগঠনের মোর্চা, যারা এর আগে গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের প্রতিবাদে বিভিন্ন হামলার দায় স্বীকার করেছিল।

পালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী- আইআরজিসি : বিশ্বের তথাকথিত সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হওয়ার দাবিদার মার্কিন বাহিনী এই অঞ্চল থেকে পালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে এখন দিশাহারা অবস্থায় রয়েছে মার্কিন সরকার ও তাদের সহযোগীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা এখন মরিয়া হয়ে নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের অব্যাহত শয়তানি ও প্রতারণামূলক তৎপরতার অবসান ঘটবে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ধসিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন সেনাদের তল্পি-তল্পা গুটিয়ে ভবঘুরে হয়ে পড়ার দৃশ্য ইরান কখনও ভুলবে না। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাহিনীটি এখন এই অঞ্চল ছেড়ে পালাচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের আড়াল করার জন্য মার্কিন সেনারা যে বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে ব্যবহার করছে, তা ইরানের নজরদারি থেকে এড়ায়নি বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন সহযোগীরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় হন্যে হয়ে প্রতিরক্ষা সিস্টেম খুঁজলেও ইরানের সামরিক সক্ষমতার সামনে তারা এখন খেই হারিয়ে ফেলেছে।

আরও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করবে ইরান : আইআরজিসি-র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তারা এমন কিছু উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি। এক বিবৃতিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেন, ইরানের শত্রুদের আসন্ন নতুন বেদনাদায়ক আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ও উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইরান। এই প্রযুক্তিগুলো এখনও বড় পরিসরে মোতায়েন করা হয়নি।’ নায়েইনি উল্লেখ করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় ইরান এখন অনেক বেশি প্রস্তুত। তিনি চলমান এই সামরিক সংঘাতকে পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন।

পাকিস্তান জামায়াতের হুঙ্কার : ইরান ও মুসলিম উম্মাহর ওপর ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের চলমান আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হক হাশেমি। এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে মুসলিম উম্মাহর জন্য এক সংকটকাল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ইরান এবং ইসলামি বিপ্লবের শীর্ষ কমান্ডারদের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা ও শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছে, তা ইসলামী শরিয়তের ভিত্তিতে পুরো মুসলিম উম্মাহর ওপর ‘জিহাদ’ ফরজ করে দিয়েছে। এই লড়াইয়ে অংশ না নেওয়ার জন্য এখন আর কোনো ধর্মীয় অজুহাত অবশিষ্ট নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক সীমানার কারণে অন্য দেশগুলোর মুসলমানদের জন্য কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকলেও, ইরানের জনগণের জন্য এই জিহাদ এখন ‘ফরজে আইন’ বা তাৎক্ষণিক আবশ্যিক কর্তব্য। ইরানের আলেমরাও এরইমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ফতোয়া দিয়েছেন বলে তিনি জানান। এই বিশিষ্ট আলেম ইরানের জনগণের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে তাদের প্রতি সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সংবেদনশীল সময়ে ইরানকে সমর্থন করা এখন পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানে খেলার মাঠে বিমান হামলা, নিহত ২০ : ইরানের শিরাজ শহরের উপশহর জিবাশহরে একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশন এবং সংলগ্ন একটি খেলার মাঠে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতের এই হামলায় আরও ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি সংবাদ প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়, হামলাটি সরাসরি একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনে আঘাত হানে, যেখানে কর্তব্যরত অবস্থায় ২ জন স্বাস্থ্যকর্মী (অ্যাম্বুলেন্স পার্সোনেল) প্রাণ হারিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনের পাশেই একটি খেলার মাঠ থাকায় হতাহতদের মধ্যে শিশু ও সাধারণ পথচারীর সংখ্যা অনেক বেশি বলে জানা গেছে।

শান্তি ফেরাতে দূত পাঠাচ্ছে চীন : ইরানের ওপর ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে চীন। যুদ্ধ বা শক্তি প্রয়োগ করে কোনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে খুব শীঘ্রই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বিশেষ দূত ঝাই জুন-কে পাঠাচ্ছে চীন। বৃহস্পতিবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, এরইমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাশিয়া, ইরান, ওমান, ফ্রান্স, ইসরায়েল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং সব পক্ষকে দ্রুত বৈঠক ও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে। তিনি পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলা এবং বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ইরানে নিহত বেড়ে ১৩৩২ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৩২ জনে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের বরাতে এমনটি জানিয়েছে আলজাজিরা। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে ইরানে। গতকাল শুক্রবারও রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে হামলার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। হামলার শুরুর দিকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং শীর্ষ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।