বদর রণাঙ্গনে ফেরেশতাদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

মুহাম্মদ ইবনে সাআদ বলেন, বদরের দিন নবী করীম (সা.) যখন সাহাবীদের সারীবদ্ধ এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন, তখন এক প্রচণ্ড ঝড় প্রবাহিত হয়, যেরূপ ঝড় অতীতে কখনও দেখা যায়নি। ঝড়টি শেষ হওয়ার পর অনুরূপ আরেকটি ঝড় প্রবাহিত হয়। সেটি শেষ হওয়ার পর আরেকটি ঝড় বয়ে যায়। প্রথমটি ছিল হযরত জিব্রাঈল (আ.)-এর আগমন। তিনি এক হাজার ফেরেশতা নিয়ে রাসূলে পাকের সঙ্গে যোগ দেন। দ্বিতীয় দফায় হযরত মীকাঈল (আ.) এক হাজার ফেরেশতা নিয়ে রাসূলে পাকের সেনাদলের ডান পাশে অবস্থান নেন এবং তৃতীয় দফায় এক হাজার ফেরেশতা নিয়ে ইসরাফিল (আ.) সেনাদলের বাম পাশে অবস্থান নেন।
ফেরেশতারা সেদিন সবুজ, হলুদ ও লাল রং-এর বিচিত্র ধরনের পাগড়ি পরিহিত ছিলেন। পাগড়ির লেজগুলো তাদের কাঁধের ওপর ঝুলানো ছিল। তাদের ঘোড়ার কপালে বাঁধা ছিল রেশমী কাপড়ের পট্টি। পয়গাম্বর (সা.) সাহাবীদের বলেন, ফেরেশতারা নিজেরা চিহ্ন বেঁধেছে তোমরাও চিহ্ন বাঁধ। তখন সাহাবীদের একদল তাদের শিরস্ত্রাণে পালক বসিয়ে নেন।
বর্ণিত আছে, বদরের দিন ফেরেশতারা কালো সাদা চিত্রাবর্ণের ঘোড়ার ওপর সওয়ার হয়েছিলেন। বদর যুদ্ধে ফেরেশতাদের অবতরণও যুদ্ধে অংশ নেয়া সম্পর্কে কোরআন মজীদে আল্লাহপাক এরশাদ করেন:
“এবং বদরের যুদ্ধে যখন তোমরা হীনবল ছিলে আল্লাহ তো তোমাদের সাহায্য করেছিলেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
স্মরণ করুন, যখন আপনি মোমিনদের বলছিলেন, এটা কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের প্রতিপালক তিন হাজার অবতারিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদের সহায়তা করবেন?
হ্যাঁ, নিশ্চয় যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তারা দ্রুতগতিতে তোমাদের ওপর আক্রমণ করলে আল্লাহ পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন।” -(সূরা আলে ইমরান: ১২৩, ১২৪, ১২৫)
ইবনে ইসহাক বলেন, বনি গাফফার গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেন, বদর যুদ্ধের দিন আমি এবং আমার চাচাত ভাই (তখন উভয়ে মুশরিক ছিল) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলাম এবং বদর রণাঙ্গনের উপরস্থ একটি পর্বতে উঠে কোন পক্ষ জয়ী হয় সে দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল, বিজয়ী পক্ষের সাথে লুটপাটে অংশ নেব। আমরা তখন পাহাড়ের ওপর ছিলাম এ সময় আকাশের একটি মেঘখণ্ড আমাদের নিকটে চলে আসে, তা থেকে ঘোড়ার চিৎকার, হ্রেস্বারব ও হট্টগোল শুনেত পেলাম। আমি শুনতে পেলাম যে, এক ব্যক্তি বলছেন : হাইয়ুম! চল সম্মুখ পানে। (হাইযুম হযরত জিব্রাঈল (আ)-এর অশ্বের নাম- ফারহাঙ্গে আনান্দারাজ (অভিধান)। আমার চাচাত ভাই ভয়ে তার বুকের রগ ছিঁড়ে গিয়ে মরে গেল। আমারও ভয়ে মরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। কিন্তু নিজকে সামলে নিয়েছিলাম।
আবু দাউদ মা‘যানী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: বদর যুদ্ধের দিন আমি একজন মুশরিককে ধাওয়া করছিলাম। কিন্তু তার ওপর আমার তরবারি আঘাত হানার পূর্বে দেখলাম যে, তার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। তাতে বুঝলাম যে, তাকে আমি ছাড়া অন্য কেউ হত্যা করেছে।
ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, বদর যুদ্ধ ছাড়া অন্য কোনো যুদ্ধে ফেরেশতারা সরাসরি লড়াই করেননি। কোনো কোনো যুদ্ধে তারা রিজার্ভ ফোর্স হিসাবে ছিলেন, যুদ্ধে অংশ নেননি। বদর যুদ্ধে রাসূলে খোদার সাহাবীদের সাংকেতিক কোড স্লোগান ছিল: ‘আহাদুন আহাদ’- ‘এক-ই-এক’।
ফেরেশতাদের সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ আছে নিম্নের আয়াতে।
“ফেরেশতারা যাদের প্রাণ হরণ করে তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল। ফেরেশতারা তাদের বলে: তোমরা কোন অবস্থায় ছিলে? তারা বলে, আমরা (মক্কার) জমিনে অসহায় হীনবল ছিলাম। ফেরেশতারা বলে: আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা হিজরত করে সেখানে চলে যেতে? অতএব, এদের বাসস্থান হলো জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত মন্দ স্থান।” -(সূরা -নিসা: ৯৭)
