ভারতীয় ঋণের প্রকল্পের চলমান সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে : প্রণয় ভার্মা

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা বলেন, ভারতীয় ঋণ বা লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিতে দুই দেশই সন্তুষ্ট। তবে যেসব বড় প্রকল্প নিয়ে সমস্যা আছে, তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক শেষে প্রণয় ভার্মা সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় ছিল দুই দেশের মধ্যে আর্থিক খাতের সহযোগিতা জোরদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়। ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সন্তোষজনক, এমন দাবি করেন প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, বড় প্রকল্পে কিছু প্রাথমিক সমস্যা থাকলেও তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে দুই পক্ষই সন্তুষ্ট।

ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে এই এলওসির অর্থ পাওয়া যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনটি লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ৭৩৬ কোটি ডলার পাওয়ার ঋণচুক্তি আছে। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ- এসব খাতের প্রকল্পই বেশি নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথম এলওসিতে ১০০ কোটি ডলার দেয়। প্রথম এলওসিতে ১৫টি প্রকল্প ছিল। এর মধ্যে ১২টি প্রকল্প শেষ হয়েছে, বাকি তিনটি চলমান। দ্বিতীয় এলওসিতে নেওয়া ১৫টি প্রকল্পের মধ্যে দুটি শেষ হয়েছে, ১০টি চলমান ও তিনটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পর্যায়ে আছে। তৃতীয় এলওসির ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে আটটি চলমান আছে এবং বাকি পাঁচটি প্রস্তাবনা পর্যায়ে আছে।

প্রণয় ভার্মা জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অগ্রাধিকার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা সহজীকরণ, কর সংস্কার ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রণয় ভার্মা জানান, ভারতের ডিজিটাল ব্যবস্থায় জনঅবকাঠামোর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সমুদ্র, স্থল ও আকাশপথে বিদ্যমান যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সহজ করে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রণয় ভার্মা বলেন, ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিও বাড়বে। দুই দেশের অর্থনীতিকে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রণয় ভার্মা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দর ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও ভবিষ্যতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।