ইরান যুদ্ধ
জ্বলছে বাহরাইন, সৌদি ও আমিরাতের তেল স্থাপনা
* হামলার ব্যাপ্তি বাড়াল ইরান * একদিনে যুক্তরাষ্ট্রের চার থাড রাডার সিস্টেম ধ্বংস * মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে হামলা চলছেই * ইরাকে মার্কিন স্থাপনা আঘাত * খালি হয়ে যাচ্ছে উত্তর ইসরায়েল * হামলার ব্যাপ্তি বাড়িয়েছে হিজবুল্লাহ
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

আঞ্চলিক উত্তেজনার চরম পর্যায়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইরান। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী রোববার জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের চারটি অত্যন্ত উন্নত ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড রাডার সিস্টেম ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে ইরানের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার তথ্য জানিয়েছে দেশটি। খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি এক বিবৃতিতে জানান, ধ্বংস হওয়া এই অত্যাধুনিক রাডারগুলো সৌদি আরব, জর্ডান ও ওমান সীমান্তের আল-রুবাহ, আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস, সৌদি আরবের আল-খার্জ এবং জর্ডানের আজরাক এলাকায় অবস্থিত ছিল। এই রাডারগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহ করত। মুখপাত্র আরও জানান, ‘শত্রুপক্ষের আগাম সতর্কবার্তা নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অধিকৃত অঞ্চলে এখন শুধু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার মুহূর্তেই সাইরেন বাজছে।’ পৃথক এক ঘোষণায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি উন্নত ইসরায়েলি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। ভূপাতিত ড্রোনটিকে ‘হার্মিস নাইন হানড্রেড’ মডেল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ইরানি বাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার সুযোগ দিচ্ছে, সেসব এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তাদের এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকবে।
অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করল ইরান : ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এক নতুন ও ভয়াবহ ধাপে প্রবেশ করেছে। সোমবার ভোরে ইরান তার ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর ৩০তম ধাপের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। ফিলিস্তিন ক্রনিকল এবং আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, এই দফায় ইরান তাদের সবথেকে শক্তিশালী ‘খোররামশাহর’ এবং হাইপারসনিক ‘ফাত্তাহ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। আইআরজিসি এই হামলায় খোররামশাহর, ফাত্তাহ এবং খাইবার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি কৌশলগত ড্রোনও ব্যবহার করেছে। কিছু কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ‘লাব্বাইকা ইয়া সাইয়্যেদ মুজতবা’ স্লোগান লেখা ছিল, যা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। এই দফায় ইসরায়েলের রিশোন লে জিওন, তেল আবিব, হাইফা, গ্যালিলি এবং গোলান হাইটসসহ মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় ইসরায়েলের ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ সারা দেশে সতর্কতা সাইরেন জারি করে। একই সময়ে লেবাননের পূর্ব বেকা অঞ্চলে ইসরায়েলি কমান্ডোদের একটি আকাশপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকে রুখে দিয়েছে হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় তারা একটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টারে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবের কাছে বেশ কিছু তেল মজুত ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে গেছে, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার ব্যাপ্তি ও গভীরতা বাড়ানোর ঘোষণা আইআরজিসি : শত্রু শিবিরের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে তাদের প্রতিশোধমূলক হামলার ব্যাপ্তি ও গভীরতা আরও বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে আইআরজিসি। রোববার ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর ২৯তম ধাপ পরিচালনা শেষে এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেয় বাহিনীটি। অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স রোববারের অভিযানে অত্যাধুনিক প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই হামলায় ইসরায়েলের তেল আবিব ও বীরশেবা শহর এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘আজরাক’-কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, আজরাক বিমান ঘাঁটি, যা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেখানে একাধিকবার আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া তেল আবিব ও বীরশেবাতে অতি-ভারী ওয়ারহেড সজ্জিত ‘খায়বার’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হামলার পরিমাণ ও তীব্রতা আগামী দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সূত্রমতে, আইআরজিসি তাদের ড্রোন অপারেশনের মাত্রা ২০ শতাংশ বাড়ানোর এবং কৌশলগত ও অতি-ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ইরানের স্বার্থ ও নাগরিকদের ওপর যেকোনো আক্রমণের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া।
বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাারে হামলা : বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগার বাপকোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর তেল শোধনাগারটির দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। সোমবার প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। হামলার শিকার বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি বাপকো দেশটির প্রধান তেল শোধনাগার। এটি দেশটির জ্বালানি খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সরকারের দিক থেকে প্রথমে বলা হয়েছিল, ইরানি ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। লোকজন আহত হয়েছে। পরে তেল শোধনাগারটি থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখা যায়। হামলার পরে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই তারা চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারছে না। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তেল শোধনাগারটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
হামলার পর আমিরাতের তেল স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড : ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাতে একটি তেল স্থাপনায় হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। আমিরাতি কর্তৃপক্ষ জানায়, ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে লাগা সেই আগুন এরইমধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এদিন সকালে দেশটি জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া মিসাইল প্রতিহত করতে তারা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ইরানি প্রজেক্টাইল ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়লে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে সৌদির তেলখনিতে হামলা : সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ তেলের খনি শায়েবাহ অয়েলফিল্ডকে লক্ষ্য করে ফের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার ভোরের দিকে সৌদির শায়েবাহ তেলখনি লক্ষ্য করে ৪টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছুড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। অবশ্য তেলখনিতে আঘাত হানার আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেসব ড্রোন ধ্বংস করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে সৌদি। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে এসব তথ্য। ৯ দিনে ৩ বার শায়েবাহ তেলখনি লক্ষ্য করে হামলার পর গতকাল রোববার ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দেয় সৌদি আরব। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে চলমান যুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ পরাজয় ঘটবে। তবে এই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই চতুর্থবারের মতো শায়েবাহ তেলখনিতে হামলা করল ইরান। এছাড়া সোমবার রাজধানী রিয়াদের উত্তরে দুটি ড্রোন এবং কূটনৈতিক এলাকা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি প্রজেক্টাইল ভূপাতিত করেছেন সৌদি সেনারা।
কাতারে আবার হামলা : আলজাজিরা জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে কাতারে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। এর প্রায় ১০ মিনিট পরেই দোহার আকাশে অন্তত ১২টি বা তারও বেশি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার সময় আকাশে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা গেছে। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার অপেক্ষাকৃত শান্ত পরিস্থিতির পর এই আচমকা হামলায় দোহায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইরাকে মার্কিন স্থাপনা আঘাত : আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদ এবং কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাপক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এমন কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে রোববার দিবাগত রাতে এই হামলা চালানো হয়। কুর্দি সংবাদ মাধ্যম রুদাও জানিয়েছে, এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
উল্লেখ্য, এই বিমানবন্দরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। আলজাজিরার যাচাই করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সোমবার ভোরে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশে বেশ কিছু ড্রোন ইন্টারসেপ্ট করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বাগদাদ বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক কম্পাউন্ড ‘ভিক্টোরিয়া বেস’ অভিমুখে ধেয়ে আসা একটি ড্রোন ইরাকি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলি করে নামিয়েছে। শহরের আল-ইলাম এলাকায় ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে যারা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে তারা নিরাপদ নয় : ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যদি তাদের আকাশসীমা এবং ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেয়, তবে তারা ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে নিরাপদ থাকবে। জেনারেল শেকারচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরান সেইসব আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর কখনও আক্রমণ করবে না যারা তাদের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা সামরিক স্থাপনা ইরানের ‘শত্রুদের’ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি কোনো দেশের মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে সেই নির্দিষ্ট স্থানটি ইরানের কাছে একটি ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেখানে পাল্টা আঘাত হানা হবে। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আগের দিনের বক্তব্যের সূত্র ধরে শেকারচি বলেন, ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন পর্যন্ত যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সুবিধা প্রদান করেনি, তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়নি। তবে আগ্রাসীদের সহায়তাকারীদের ক্ষেত্রে ইরান কোনো ছাড় দেবে না।
খালি হয়ে যাচ্ছে উত্তর ইসরায়েল : লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর লাগাতার ও তীব্র ড্রোন এবং মিসাইল হামলার মুখে নিজেদের উত্তর সীমান্তের অবৈধ বসতিগুলো খালি করে দেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে ইসরায়েল। হিব্রু ভাষার দৈনিক ‘হারেতজ’-এর বরাত দিয়ে রোববার প্রেস টিভি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সামরিক সূত্রগুলো স্বীকার করেছে, হিজবুল্লাহর ড্রোন প্রতিহত করা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিচু দিয়ে উড়ে আসা এবং আত্মঘাতী ড্রোনগুলো আয়রন ডোমের মতো ইসরায়েলের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম হচ্ছে। হিজবুল্লাহর রণকৌশলের কাছে নতি স্বীকার করে ইসরায়েল লেবানন সীমান্ত সংলগ্ন ইহুদি বসতিগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। খবরে বলা হয়, গত কয়েক দিনে হিজবুল্লাহ তাদের রণকৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। তারা এখন সরাসরি সীমান্ত রেখায় ইসরায়েলি বসতি এবং সেনা সমাবেশ লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা জোরদার করেছে। বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠ দাহিয়েহ-তে ইসরায়েলি হামলার ফলে সৃষ্ট বাস্তুচ্যুতির প্রতিশোধ হিসেবে হিজবুল্লাহ এই উচ্ছেদ কৌশল গ্রহণ করেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা নজরদারি এবং আক্রমণাত্মক ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তর ইসরায়েলের জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
হিজবুল্লাহর ড্রোন ও মিসাইল হামলা : হিজবুল্লাহ রোববার ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন এবং মিসাইল নিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। কিরিয়াত শমোনা শহরসহ বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি এবং অবৈধ বসতিতে এই হামলা চালানো হয়, যাতে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তাদের যোদ্ধারা নাহারিয়া শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী বসতিগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালান। এছাড়া কিরিয়াত শমোনা এলাকায় ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টার অভিযানে তারা বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা-সমাবেশে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছেন। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, আগের রাতের এক অভিযানে অন্তত দুইজন ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোও রণক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে তাদের সেনা নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে।
