যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে চার বাংলাদেশি নিহত
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, চারজনের মধ্যে একজন বাহরাইন, একজন দুবাই এবং দুজন সৌদি আরবে নিহত হয়েছেন। আমরা সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি এবং সহায়তা প্রদানে আশ্বস্ত করেছি। তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও চলছে।
গতকাল সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা আহম্মেদ আলীর মরদেহ গ্রহণের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে দুবাইয়ে নিহত হন আহম্মেদ আলী।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন আহত বাংলাদেশি সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশি মিশন থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা পাচ্ছেন। প্রতিমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সংঘাত-প্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন লঙ্ঘন করতে পারে- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কোনো বিষয়বস্তু প্রকাশ না করার আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত দুবাই প্রবাসীর লাশ গ্রহণ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী : ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত দুবাই প্রবাসী আহম্মেদ আলীর লাশ গ্রহণ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আহম্মেদ আলীর লাশ বহনকারী বিমান সোমবার দুপুরে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। লাশ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আহম্মেদ আলীর লাশ দেশে পৌঁছেছে। বাকি তিনজন প্রবাসীর লাশও বিদেশে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন শেষে দেশে আনা হবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ক্রাইসিস টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের মাধ্যমে যুদ্ধের কারণে যারা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না তাদের খাদ্য সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির আশপাশে অবস্থানরত প্রবাসীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সংকট মোকাবেলায় সরকারের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
প্রবাসীদের জন্য যা যা করা প্রয়োজন সরকার তা করবে। এ সময় তিনি জানান, লেবাননেও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিহত আহম্মেদ আলীর স্বজন কামাল আহমেদ প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমার ভাই ২৭ বছর ধরে প্রবাসে বসবাস করছিলেন। আমি মনে করি, তিনি এদেশের একজন শ্রেষ্ঠ প্রবাসী। আমার ভাই যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর থেকে লাশ দেশে আনা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও আমার ভাই নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। লাশ গ্রহণের সময় বিমানবন্দরে নিহত প্রবাসীর সন্তান আব্দুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্ল্যা ভূঁইয়া, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী নিহত প্রবাসী আহম্মেদ আলীর লাশ নিয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তার গ্রামের বাড়িতে যান।
