উত্তাল মার্চ

চট্টগ্রাম বন্দরে মালামাল খালাসে অস্বীকৃতি

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মার্চ মাস ছিল উত্তাল ঘটনাবহুল। পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার আপামর জনতা। অসহযোগ আন্দোলনে ১০ মার্চ দিনটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে পাকিস্তানের গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই জাহাজ। জাহাজ থেকে মালামাল খালাসে অস্বকৃতি জানিয়েছিলেন নাবিক ও শ্রমিকেরা।

১৯৭১ সালের ১০ মার্চ বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা অসহযোগ আন্দোলনে সমর্থন জানায়। সরকারি অফিসের দৈনিক কাজ থমকে দাঁড়ায়। স্বাধীন বাংলাদেশ সংগ্রাম পরিষদের যুক্তবিবৃতি, বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে স্বাধীনতা সংগ্রামে নিয়োজিত প্রতিটি মুক্তিসেনাকে সকল প্রকার সাহায্য করার অনুরোধ। পাকিস্তান থেকে বাঙালিদের আসতে না দিলে বিমানবন্দরে চেকপোস্ট বসিয়ে অবাঙালিকে দেশত্যাগ করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় ১০ মার্চ সারা দেশ যখন বিক্ষোভে উত্তাল, তখন ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালিয়ে বিক্ষোভ দমনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্র আনা হতে থাকে। ১০ থেকে ১৩ মার্চের মধ্যে পাকিস্তান এয়ারলাইন্স তাদের সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে পূর্ব পাকিস্তানে জরুরি ভিত্তিতে ‘সরকারি যাত্রী’ পরিবহন করতে। এই ‘সরকারি যাত্রী’দের প্রায় সবাই ছিল সাদা পোশাকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সেনা। এমভি সোয়াত নামে গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই একটি পাকিস্তানি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে। কিন্তু বন্দরের নাবিক ও শ্রমিকেরা মালামাল খালাস করতে অস্বীকার করে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে দিয়ে বাঙালি দমনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন।