রুশ তেলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ হয় ইরানের সীমান্তবর্তী হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত মাসের শেষে তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সমন্বিত হামলা শুরুর পর ওই কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেলের প্রবাহ কার্যত বন্ধ আছে। এর প্রভাবে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেলের ওপর আরোপ করা কিছু ‘নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহার করবেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমরা কিছু নিষেধাজ্ঞা বাতিল করছি।’ বক্তব্যে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নামও উল্লেখ করেন। ‘আমরা কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেগুলো বাতিল করব’, যোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট দেশের নাম বলেননি। এমন কী, কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং সেটা কীভাবে বাতিল করবেন, সে বিষয়েও আলোকপাত করেননি রিপাবলিকান নেতা। তবে বিশ্লেষকদের মত, এসব দেশের মধ্যে রাশিয়া থাকার প্রবল সম্ভাবনা আছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশের অন্যতম রাশিয়া। আর রাশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার ও তেল আমদানিকারক দেশ হলো চীন। সেই রাশিয়ার নেতা পুতিনের সঙ্গে কথা বলেই নিষেধাজ্ঞা ওঠানোর তথ্য জানালেন ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর তেলের দাম ওঠাণ্ডনামা করেছে। বিশেষত, ট্রাম্প যখন বক্তব্য দেন, ‘খুব শিগগির যুদ্ধ শেষ হবে’, তখন তেল দামে ও পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। কিছু সময়ের জন্য এই ‘ইতিবাচক বার্তার’ প্রভাবে দাম কমেও আসে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেও সেসব ‘অনির্দিষ্ট’ দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আর ফিরিয়ে আনা নাও হতে পারে। যুদ্ধ-পরবর্তী সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারপর কি হবে কে জানে? হয়তো আর সেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন পড়বে না। বিশ্বজুড়ে অনেক বেশি শান্তি বিরাজ করবে।’
