বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচনে থাকছে না গণভোট
জানালেন ইসি সচিব
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বুধবার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোট থাকছে না। এ সময় আখতার আহমেদ বলেন, ‘বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। এখানে গণভোটের বিষয়টি আসবে না। বগুড়ার কনস্টিটিয়েন্সিতে গণভোট নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেরপুরের ক্ষেত্রে যে গণভোটের ভোট রয়েছে, সেটি আপনার নির্বাচনের গণভোটের ফলাফলকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারবে না। তাই আমরা সেখানে গণভোট রাখছি না। সরাসরি নির্বাচনের দিকেই যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী আমরা এবারও কাজগুলো এগিয়ে নেবো। শুধু ব্যতিক্রম করা হবে বাড়তি রিসোর্সের সমন্বয়। তবে রিটার্নিং অফিসার বা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল যদি প্রয়োজন মনে করে সেক্ষেত্রে বডি-ওর্ণ ক্যামেরা এবং সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহার কিছুটা বাড়ানো হবে।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবারও আট দিনের জন্য আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী তাদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মাঠে থাকছে। ইতোমধ্যে মাঠে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের কাজ শুরু। এখন পর্যন্ত কোনও আপত্তিকর তথ্য পাইনি।’ ইসি সচিব বলেন, ‘যাদের প্রার্থিতা বা মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের কোনও আপিল পাইনি। তাই কোন আসনে কতজন প্রার্থী রয়েছেন সে বিষয়টি আমরা প্রত্যাহারের পর বলতে পারবো।’
পোস্টাল ব্যালটের ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রবাসীদের ভোটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওসিভি এবং আইসিভি দু’টোরই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রবাসীদের ওসিভি ব্যালট আগামীকাল (১২ মার্চ) থেকে পাঠানো শুরু হবে। আর আইসিভি ভোটটি ২৩ ও ২৪ মার্চ থেকে শুরু করবো।’ ইসি সচিব বলেন, এই নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও বিষয়ে পর্যালোচনা বা তদন্তের প্রয়োজন হলে তা করা যায়।
ফলাফল প্রকাশ নিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমও আগের মতোই থাকবে। তবে এবার আসনের সংখ্যা মাত্র দু’টি। একটি কনস্টিটিয়েন্সিতে কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০, আরেকটিতে কিছু কম। তাই ফলাফল প্রকাশে দেরি হবে না। এবার যেহেতু গণভোটের বিষয়টি নেই, কিন্তু পোস্টাল ভোট রয়েছে, তাই পোস্টাল ভোট যত দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে, তত দ্রুত ফলাফলও প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসি সচিব আখতার আহমেদসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে আসন্ন শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার শেষ সময় ছিল গত মঙ্গলবার। তবে এ সময়ের মধ্যে কোনো আপিল আবেদন জমা পড়েনি। ফলে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর বাছাইয়ে টিকে যাওয়া মোট আটজন প্রার্থীই নির্বাচনের মাঠে থাকছেন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, শেরপুর-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল তালেব মো. সাইফুদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে মো. মিজানুর রহমান মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। সম্প্রতি রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এরপর কেউ আপিল করেননি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরে নতুন তফসিল ঘোষণা করে আবার নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান, বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আলিম তালুকদার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এই আসনেও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন এবং কেউ আপিল করেননি।
এই আসনে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচিত হন। তবে সংসদে একইসঙ্গে দুটি আসনের সদস্য থাকার বিধান না থাকায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নতুন তফসিল দেয় নির্বাচন কমিশন। এদিকে শেরপুর-৩ সাধারণ নির্বাচন ও শূন্য ঘোষিত বগুড়া-৬ উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিও গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বগুড়া-৬ আসনের জন্য বগুড়া জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আহসান হাবিব এবং শেরপুর-৩ আসনের জন্য শেরপুর জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. মোরশেদুল আলমকে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ছিল ৫ মার্চ। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায় ৬ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির দিন আজ ১১ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ মার্চ এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে আগামী ১৫ মার্চ।
