প্রভু হে আমাদের মাফ করে দাও
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

আমরা পবিত্র রমজানের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছি। রমজানের শেষ ১০ দিনকে বলা হয়েছে ‘ইতকুম মিনান্নার’ দোজখ থেকে মুক্তির দশক। সংক্ষেপে আমরা বলি নাজাতের দশক। আল্লাহতায়ালা তার অসংখ্য অগণিত বান্দাকে দোজখ থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেন এই দশকে। যাদের নাম দোজখী হিসেবে ছিল, সেখানে থেকে কেটে বেহেশতিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। হাদিস শরিফে এসেছে- ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, অথচ গোনাহ মাফ করাতে পারল না, সে সবচে বড় মাহরুম (বঞ্চিত)’। আমরা বুক ভরা আশা পোষণ করব যে, আল্লাহ পাক আমাদের গোনাহগুলো মাফ করে দিয়েছেন। আল্লাহর নবী ইরশাদ করেন- ‘যে ব্যক্তি রমজানে রাত জেগে ইবাদত করেছে, অর্থাৎ তারাবি নামাজ পড়েছে, আল্লাহ তার অতীতের গোনাহগুলো মাফ করে দিবেন’। একইভাবে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব সহকারে রমজানের রোজা রাখল তার অতীতের গোনাহগুলো মাফ করে দেয়া হবে’। নবীজি আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শবেকদরে রাত জেগে ইবাদত করেছে। ঈমান ও ইহতিসাব সহকারে তার অতীতের গোনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে’। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে তিনটি হাদিসেই ঈমান ও ইহতিসাবের কথা বলা হয়েছে। ঈমান মানে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখা, তদুপরি যে সওয়াব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে তার উপর আস্থা পোষণ করা। মনে এই ভরসা রাখা যে, আল্লাহ পাক আমাকে বর্ণিত সওয়াব দান করবেন। দ্বিতীয় শর্ত হল ইহতিসাব। ইহতিসাব মানে আত্মসমালোচনা, আত্মবিশ্লেষণ, ইবাদতের সময় মনকে সজাগ সচেতন রাখতে হবে। হেলায় ফেলায় বা লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে যে ইবাদত, তাতে এই সওয়াব আশা করা যাবে না। মনকে একেবারে নিবিষ্ট করে আল্লাহর ভালোবাসায় আপ্লূত হৃদয়ে চেতনায় নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করতে হবে। তারপর তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ লাভের জন্য আকুলভাবে প্রার্থনা করতে হবে। গোনাহ মাফ হওয়া বা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য সবচে বড় শর্ত হচ্ছে তওবা। তাওবায় মুখে মুখে আমি গোনাহ মাফ চাই বলাই যথেষ্ট নয়, বরং তওবা বা আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। তওবায় তিনটি শর্ত আছে- ১. যে মন্দ কাজ হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর দরবারে অনুশোচনা থাকতে হবে।
২. সেই গোনাহের কাজটির জন্য আল্লাহর কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে মাফ চাইতে হবে। ৩. ভবিষ্যতে আর কখনও কাজটি করব না এই সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। তাহলেই আল্লাহতায়ালা মাফ করে দেবেন। এমন বান্দাকে কবুল হিসেবে গ্রহণ করবেন। এই তওবা ঐসব গোনাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা আল্লাহর হুকুম অমান্য করতে গিয়ে হয়েছে। যদি মানুষের প্রতি অন্যায় করে থাকে, তাঁর হক নষ্ট করে, তাহলে উপরোক্ত তওবায় গোনাহ মাফ হবে না। বরং অন্যের হক ফিরিয়ে দিতে হবে। অথবা পাওনাদারের কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিতে হবে। কোনোভাবে কারো মানহানি করে থাকলে, তার কথা উল্লেখ ঐ ব্যক্তির কাছে মাফ চাইতে হবে। মনে রাখতে হবে, আল্লাহতায়ালা নিজের হক মাফ করে দেন। অন্যের হক মাফ করা আল্লাহর শাশ্বত বিধানে নেই।
