নবীজির সঙ্গে হৃদয়ের সেতুবন্ধন দরূদ
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

মোমিন মুসলমান হওয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন। বলতে হবে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। একইসঙ্গে বলতে হবে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। আল্লাহতায়ালাকে আমরা দেখিনি, দেখা সম্ভব নয়; আল্লাহর পরিচয়ও সেভাবেই জানি, যেভাবে হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানব জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহর সবচেয়ে বড় পরিচয় পাওয়া যায় মহাগ্রন্থ আল কোরআনে। কোরআনের প্রতিটি শব্দ, বাক্য আল্লাহকে চেনার, আল্লাহর মহানত্ব অনুধাবনের নিদর্শন। কোরআনের প্রত্যেক বাক্যকে বলা হয়, আয়াত। আয়াত মানে নিদর্শন। আমরা চোখ দিয়ে দেখি। তবে দেখার জন্য চোখের বাইরেও আলো থাকতে হয়। এজন্য রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে চোখ খুলে তাকালেও কিছু দেখা যায় না। আল্লাহর কোরআনের আয়াতগুলোকেও লোকে যখন অন্য আয়াতের আয়নায় এনে মেলে ধরা হয়, তখনই আল্লাহর নির্দশন আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে। এই নিদর্শন বা অন্য আয়াত বলতে কী বুঝায়?
জগতে আল্লাহপাক যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারকা, সাগর, আকাশ-বাতাস প্রত্যেকটিই জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহর নিদর্শন, শেখ সাদী বলেন,
বর্গে দরখতানে সব্জ দর নজরে হুশিয়ার
হার ওয়ারাকী দফতরীস্ত মা’রেফতে কির্দেগার
সবুজ গাছের পাতা পত্তর বিচক্ষণ লোকের নজরে,
প্রতিটি পাতাই একেক দফতর আল্লাহর পরিচয় লাভের।
আল্লাহর পরিচয় লাভের যে কথা বলা হল, তা সম্ভব হয়েছে একজন মহামানবের সূত্রে, তিনিই আল্লাহর সঠিক পরিচয় আমাদের দিয়েছেন। তাই আমরা আল্লাহর ইবাদত করি, পরকালে মুক্তি ও বেহেশত লাভের আশা রাখি।
নবীজি আমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করলেন, যার বদৌলতে আমরা মিথ্যার বদলে সত্যের সন্ধান পেলাম, দোযখ থেকে মুক্তি পেয়ে বেহেশত লাভের আশা করছি, বিনিময়ে আমরা তাকে কী দিতে পারি? একটি জিনিসই নবীজির খেদমতে পেশ করার আছে। তা হলো নবীজির প্রতি ভালোবাসা, দরুদ সালামের উপহার। হাদীস শরীফে বর্ণিত- যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আমার উপর রহমত বর্ষণ করার জন্য আল্লাহর কাছে আর্জি জানাবে, বিনিময়ে আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। দরুদ পাঠের গুরুত্ব মু’মিন জীবনের জন্য এতই গুরুত্বপূর্ণ অত্যাবশ্যকীয় যে, দরুদ পাঠ আমাদের জন্য ফরজ করে দিয়েছেন। কোরআন মজীদে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাষায় আল্লাহতা’য়ালা বলেন- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তার ফেরেশতাগণ সবাই নবীর উপর দরূদ পাঠায়। অতএব, ওহে যারা ঈমান এনেছ তোমরাও তার প্রতি দরূদ পাঠাও এবং যথাযথ সম্মানের সাথে সালাম নিবেদন কর (সুরা আহযাব, আয়াত-৫৬)।
নবী করীম (সা.) এর সম্মান ও মর্যাদা বুঝার জন্য এর চেয়ে বড় নির্দেশনা ও স্বীকৃতি আর কিছু হতে পারে না। এজন্যই নামাযের বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু ও দরূদে নবীজির নাম ধরে দরুদ সালামের বিধান রাখা হয়েছে আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান ও ইকামতে আল্লাহর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নবীজির নাম মোবারক ঘোষণা করতে হয়। আল্লাহ পাক রমজানুল মোবারকের বদৌলতে নবীজির সঙ্গে প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়ের বন্ধন মজবুত করুন।
