আজ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

* পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন * সিটি কর্পোরেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে দেশের ৫৩টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গতকাল রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল সকালে রাজধানী থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখানে থেকে সড়কপথে তিনি দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন। এদিকে গত শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী ১৬ মার্চ (আজ) দিনাজপুর থেকে শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি।’

নীলফামারীর সৈয়দপুরের রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (আজ) সকাল ৯টায় বিমান যোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পোঁছাবেন। সেখানে থেকে দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে পৌঁছে কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী ৫৩টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

আব্দুল গফুর সরকার আরও জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন।

বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট অবস্থায় রয়েছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার দুপুরে সাহাপাড়া-বলরামপুর খাল পরিদর্শন শেষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সাহাপাড়ার প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননের ফলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এতে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা মিলবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু খনন নয়, খালের পাড় রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে। খালের পানি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়।

পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী : আসন্ন পহেলা বৈশাখে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে এই বিশেষ প্রকল্পের ওপর আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের দিনে মাঠপর্যায়ে এই কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি ভর্তুকি ও সহায়তা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আধুনিক ডেটাবেইস ও কার্ড প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ এবং প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত কৃষকরা খুব সহজেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। পহেলা বৈশাখের উৎসবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন দেশের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সিটি করপোরেশনগুলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী : সিটি কর্পোরেশনসমূহের প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যেক কর্মীকে এ টাকা প্রদান করা হয়। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ সচিবালয়ে নিজ কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনসমূহের প্রশাসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জানিয়ে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দেশের শহরগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এই নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি নগর সেবায় নিয়োজিত সকল কর্মীর কল্যাণে সরকার ভবিষ্যতেও বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।