বিজয়ের আনন্দে ঈদ মোবারক

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী

অন্যান্য বছরের চেয়ে ব্যতিক্রম বিশ্ব রাজনীতিতে ইসলামের বিজয় বার্তার আবহে জানাচ্ছি ঈদ মোবারক আসসালাম।

আল্লাহপাক মুসলমানদের আত্মসংশোধন ও তাকওয়ার গুণ অর্জনের জন্য বিশেষ নিয়ামত হিসেবে দিয়েছেন পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনার বিধান। বাইরের অদৃশ্য শয়তান এবং অভ্যন্তরের নফস বা কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে এই সাধনায় একটানা একমাস। এই যুদ্ধে বিজয় লাভের সরণি ও কুচকাওয়াজ পবিত্র ঈদুল ফিতর।

নফসের চাহিদা কামনা-বাসনা অস্বীকার এবং সৎগুণ ও স্বভাব পরিচর্যার মাধ্যমে রোজাদারের অভ্যন্তরে নতুন সাজ ও নতুন জীবনের উজ্জীবন ঘটে। তারই ফল্গুধারা প্রকাশ পায় ঈদের নতুন জামা ও সাজে পুরো সমাজে। আজ সেই ঈদের দিনে জানাচ্ছি ঈদ মোবারক।

আধ্যাত্মিক সাধনা ও সুন্দর সমাজ গঠনের অনুশীলনী রমজানে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসের দুটি বিস্ময়কর যুদ্ধ ও বিজয়। দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান মক্কার কুফরি শক্তির সাথে মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ হয়েছিল মদিনার অদূরে বদর প্রান্তরে। অষ্টম হিজরীর ২০ রমজান আরবের কুফরিশক্তির উপর ইসলামের চূড়ান্ত বিজয়ের সূচনা হয়েছিল মক্কা বিজয়ের মধ্য দিয়ে। কাজেই রমজান আধ্যাত্মিক শত্রু নফস ও অদৃশ্য জিনবংশোদ্ভুত শয়তানের বিরুদ্ধে যেমন সংগ্রাম সাধনার বার্তা বহন করে, তেমনি দুনিয়ার তাবৎ শয়তানী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার শিক্ষা, আদর্শ ও চেতনায়ও আমাদের শাণিত করে।

মাহে রমজানে আমরা কোরআন তেলাওয়াত করি, রাতের বেলা পবিত্র ও পরিশুদ্ধ মন নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খতমে কোরআন শুনি তারাবি নামাজে। সেই পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরান ও সূরা আনফালে বিধৃত আছে বদরযুদ্ধ সম্পর্কে ৬৫ খানা আয়াত। এছাড়াও উহুদ, খন্দক, খাইবার ও তাবুক যুদ্ধের আলোচনা, সীমান্ত পাহারা ও যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশনা আছে আরও অনেক আয়াতে। কাজেই আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ও লড়াইয়ের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কোনো মুসলমানের জন্য নেই।

এ বছর রমজানের শুরুতে ২৮ ফেব্রুয়ারি সম্পূর্ণ অতর্কিত ও অন্যায়ভাবে আমেরিকা ও ইসরায়েল মানবসভ্যতার প্রাচীন লালনভূমি বর্তমান বিশ্বের উন্নতশির মুসলিম দেশ ইরানের উপর সর্বাত্মক হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয়নেতা রাহবার সৈয়দ আলী খামেনেয়ীকে শহিদ করে তারা বিজয় উল্লাস করে। ভেবেছিল, ইরানকে গিলে ফেলবে, তারপর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের আদলে গোটা মুসলিম জাহানকে ইসরায়েলের পদানত করবে। তবে যুদ্ধ শুরুর ২০তম দিবসে যখন এই লেখা লিখছি, তখন ইরান হরমুজ প্রণালী হাতের মুঠোয় নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বশক্তির কণ্ঠনালী এমনভাবে চেপে ধরেছে, যার ফলে আমরা আশা করছি, ফিলিস্তিনের গাজায় নিরীহ মুসলমানদের উপর নিষ্ঠুর নিধনযজ্ঞ এবং পৃথিবীর দিকে দিকে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য পাপের কড়ায় গন্ডায় হিসাব আমেরিকা ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের দিতে হবে।

আমরা মুসলিম দেশগুলোর আত্মশুদ্ধির উদ্বোধন, পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, রমজানের উপহার কোরআনের অনুসরণ, নবীজির ভালোবাসায় আপ্লুত মন ও শত্রুর বিরুদ্ধে সদা প্রস্তুতির জাগরণ নিয়ে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার সুদিনের প্রত্যাশা করছি। রমজানে একমাস প্রতিদিন এই কলামে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ এর সম্মানিত পাঠকদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার তৌফিক আল্লাহ পাক দিয়েছেন। প্রভু হে! আজ ফরিয়াদ তোমার অনন্ত জ্ঞানের সয়লাবে আমাদের তাপিত হৃদয় প্লাবিত করো, সত্য ও সুন্দরের আলো জ্বেলে আমাদের জীবন আলোকিত রাখ।