ট্রাম্পের আলোচনা প্রত্যাখ্যান প্রতিরোধের ঘোষণা ইরানের

* ইরান নাকি ট্রাম্পই যুদ্ধ শেষ করতে বেশি মরিয়া? * ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলোকিত ডেস্ক

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না এবং ‘প্রতিরোধ নীতি’ তথা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সায়্যেদ আব্বাস আরাঘচি এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের নীতি প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া, কোনো আলোচনা হয়নি।’ একইসঙ্গে আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘কোনো আলোচনা চলছে না।’ আরাঘচি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরান নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ সহজে হামলার সাহস না পায়।

তার ভাষায়, ‘গ্যারান্টি ছাড়া যুদ্ধবিরতি একটি দুষ্টচক্র তৈরি করে, যা আবারও সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।’ তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিবর্তে ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশে এসব ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যেসব দেশে এসব ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোই এখন আঘাতের মুখে পড়ছে।’

তিনি কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও জর্ডানের মতো দেশগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এসব হামলা ওই ঘাঁটির উপস্থিতির কারণেই হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত না হয় এবং নিজেদের দূরে রাখে। আরাঘচি বলেন, ‘ইরানের পাল্টা হামলা দেশের ইতিহাসে ‘স্বর্ণালী মুহূর্ত’ হিসেবে বিবেচিত হবে।’ তার দাবি, এই প্রতিক্রিয়ায় প্রতিপক্ষের বহু লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন তারাই আলোচনার কথা বলছে। হরমুজ প্রণালি সম্পর্কে তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর জন্য এই নৌপথ খোলা থাকলেও ‘শত্রু’ দেশগুলোর জন্য তা বন্ধ রাখা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তানের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইরান নাকি ট্রাম্পই যুদ্ধ শেষ করতে বেশি মরিয়া : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বকে এটা বিশ্বাস করাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এখন যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রকাশ্য লক্ষণ দেখা যায়নি, তারা ট্রাম্পকে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। ট্রাম্প নিজেই প্রায় চার সপ্তাহ আগে তার আগের সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ধ্বংস করার মাধ্যমে এই সংকট শুরু করেছিলেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস সদস্যদের ট্রাম্প বলেন, তারা চুক্তি করতে এতটাই মরিয়া যে বলার মতো নয়। কিন্তু তারা এটা বলতে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তারা ভাবছে, তারা নিজেদের জনগণের হাতেই মারা পড়বে। এরপর তাঁর রহস্যময় মন্তব্য ছিল, ‘তারা আমাদের হাতে মারা পড়ার ভয়ও পাচ্ছে।’ ট্রাম্পের এই দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এক বিশাল ফারাক দেখা যাচ্ছে। একদিকে তিনি বলছেন সমঝোতা আসন্ন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছেন। এতে সংঘাত বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধির দিকেই যাচ্ছে।

সেনা মোতায়েন বা যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া ট্রাম্পের জন্য এক বিশাল ঝুঁকি। কারণ, এতে প্রচুর মার্কিন সৈন্যের প্রাণহানি হতে পারে। এ ছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় যে অর্থনৈতিক ধাক্কা লেগেছে, যুদ্ধ শুরু হলে তা আরও ভয়াবহ হবে। দীর্ঘস্থায়ী এক যুদ্ধ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পুরো অর্জন ও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়কে গ্রাস করে নিতে পারে। কারণ, তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, শুরু করার জন্য নয়। এই মুহূর্তে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু একটি প্রশ্ন কূটনীতির আশাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দিচ্ছে। যুদ্ধের প্রায় চার সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ার পর সমঝোতার মাধ্যমে বেরিয়ে আসার সময় কি এখনো আছে?

ইরান তাদের অনেক নেতা ও সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে ঠিকই। কিন্তু মার্কিন সামরিক শক্তির সামনে ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও তারা হয়তো একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আরও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে টেনে আনার সুযোগ লুফে নিতে পারে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, শান্তি আলোচনা শুরু হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মূল ভূমিকা পালন করতে পারেন। সম্ভবত পাকিস্তান বা তুরস্কের মধ্যস্থতায় সেই আলোচনা হবে। অতীতে হস্তক্ষেপবিরোধী অবস্থানের কারণে ইরানিদের কাছে ভ্যান্স গ্রহণযোগ্য হতে পারেন। তবে এটি ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভ্যান্সকে রাজনৈতিক চাপে ফেলে দেবে। এ ছাড়া আলোচনার মধ্যেই মার্কিন হামলার কারণে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা সহজে মিটবে না।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতমুখী অবস্থান : ইরানিদের তুলনায় ট্রাম্পই আলোচনার জন্য বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। এর কারণ, সম্ভবত তাঁর ওপর জনমতের চাপ। তিনি দেশকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেননি এবং জনমত জরিপগুলোতে তাঁকে ব্যাপক অজনপ্রিয় দেখা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে অনেক বার্তা পাঠিয়েছে। কিন্তু কোনো আলোচনার কথা তিনি অস্বীকার করেন। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট ফলপ্রসূ আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। শান্তি আলোচনার আগে সাধারণত উভয় পক্ষই নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দেয়। কিন্তু এখানে পার্থক্য বিশাল ও বাস্তব। ইরানি এক কর্মকর্তা প্রেস টিভিকে বলেন, ইরান চায় আগ্রাসন ও হত্যাকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ হোক, যুদ্ধ আর শুরু হবে না এমন নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। এ ছাড়া তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিও করেছে।

জয়ের ভ্রান্তি ও সংলাপের আশা : আলোচনার প্রধান বাধা কেবল শর্তাবলি নয়, বরং দুই পক্ষের মানসিকতা। দুই পক্ষই মনে করছে তারা জিতছে। ক্যারোলাইন লেভিট ইরানকে তিরস্কার করে বলেছেন, তারা বুঝতে পারছে না যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে। হাজার হাজার মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ও নেতৃত্ব বিধ্বস্ত হয়েছে- এটি সম্ভবত সত্য। কিন্তু ট্রাম্পের বারবার জয়ের দাবি করার অর্থ হলো তিনি শত্রুর দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারছেন না। এটি তাঁর আলোচনার অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্য যেকোনোভাবে টিকে থাকাটাই হলো বিজয়। তারা প্রচলিত যুদ্ধে জিততে পারবে না। তাই, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যন্ত্রণায় ফেলে ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যে এখানে একটি অসংগতি রয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে জিতেই গিয়ে থাকে, তবে কেন তারা এখনো যুদ্ধ করছে এবং কেন মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা পাঠানো হচ্ছে? কূটনীতি শুরু হওয়ার আগে সব যুদ্ধই সমাধানহীন মনে হয়। সমঝোতার জন্য এমন একটি সরু জায়গা খুঁজে বের করতে হয়, যেখানে দুই শত্রুপক্ষ মিলিত হতে পারে। মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন শেষ হওয়ার আগে হয়তো হাতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় আছে। এ ছাড়া সময় ফুরিয়ে আসছে। কারণ, যুদ্ধ শুরুর আগে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করা শেষ তেলের ট্যাংকারগুলো শিগগিরই তাদের গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। এর পর থেকে সরবরাহের ঘাটতি জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের গবেষক ত্রিতা পারসি বিশ্বাস করেন, ট্রাম্পের মতো ইরানেরও যুদ্ধ শেষ করার তাগিদ আছে। তাই কূটনীতির সুযোগ আছে। তবে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ শেষ করতে ট্রাম্পকে ইরানকে কিছু না কিছু দিতেই হবে, যা তার শুরুর অবস্থানের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতি। পারসি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বড় এক ছাড় দিয়েছে- সমুদ্রে থাকা ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, যাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট কমে। যুদ্ধের আগে এটি ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু এটিই এখন ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার ভিত্তি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা শিগগিরই যদি কোনো প্রকৃত সংযোগ তৈরি করতে না পারেন, তবে এই যুদ্ধ বিপর্যয়কর রূপ নেবে। কূটনীতি যদি কাজ না করার পর্যায়ে চলে যায়, তবে তার ফলাফল হবে অভাবনীয় ও ভয়াবহ।

ইরান আমাকে সর্বোচ্চ নেতা বানাতে চেয়েছিল, আমি না বলে দিয়েছি- ট্রাম্প : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার এক উদ্ভট দাবি করে বসেছেন। তাকে নাকি সর্বোচ্চ নেতা করার প্রস্তাব দিয়েছিল ইরানি নেতৃত্ব। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার জন্য তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তবে তিনি সেই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখাননি। ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান পার্টির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এমন উদ্ভট দাবি করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, গত মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের নেতৃত্ব অনানুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই পদের প্রস্তাব দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ‘দুনিয়ার কোনো দেশের প্রধানই ইরানের প্রধান হতে চাইবেন না। তারা আমাকে খুব স্পষ্ট করেই বলেছিল, আমরা আপনাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বানাতে চাই। আমি বলেছি, ধন্যবাদ, আমার এটার দরকার নেই। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরান পর্দার আড়ালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে। কিন্তু তারা এটা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তারা মনে করছে, জানাজানি হলে নিজেদের জনগণের হাতেই তারা মারা পড়বে। আবার তারা আমাদের হাতে মারা পড়ার ভয়েও তটস্থ।’ ইরানের সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের হত্যাকাণ্ডগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, সেখানে বর্তমানে একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউস শান্তি আলোচনা চলছে বলে দাবি করলেও ইরান প্রকাশ্যে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধের জন্য তেহরান কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে আর আক্রমণ করবে না, এমন নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরান এখন পর্যন্ত পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখায়নি।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের : ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরিকে বিমান হামলায় হত্যা করার দাবি করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক ভিডিও বার্তায় এমন দাবি করেন।

ইসরায়েল কাৎজ জানান, বুধবার রাতে একটি ‘নিখুঁত অভিযানে’ তাংসিরিকে হত্যা করা হয়। এই অভিযানে নৌ-কমান্ডের আরও বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। তাংসিরির পরিচয় উল্লেখ করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যিনি সরাসরি হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুঁতে রাখা এবং জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী ছিলেন, তাকে বৃহস্পতিবার উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, তাংসিরির মৃত্যুর বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি বলেন, ‘যদি এই খবর সত্য হয়, তবে এটি ইরানের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হবে। তারা ইতিমধ্যে তাদের অনেক সামরিক কমান্ডারকে হারিয়েছে।’