ফিরতি যাত্রায়ও বাড়তি ভাড়া
* ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ, কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড় * যাত্রীতে ঠাসা বাসস্ট্যান্ড, ফাঁকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের ছুটি কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। তবে ফিরতি এই যাত্রায় গণপরিবহনের সংকট আর ভাড়ার নৈরাজ্যে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও মিলছে না বাসের টিকিট। নিরুপায় হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে বা লক্কড়-ঝক্কড় বাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফিরছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। গতকাল শুক্রবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।
কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড় : দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ, অনেককে দাঁড়িয়ে কিংবা দরজার কাছে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। প্ল্যাটফর্মে নেমেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ফিরতি যাত্রীরা। কেউ রিকশা, কেউ বাস কিংবা রাইড-শেয়ারিং সেবার মাধ্যমে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন। প্ল্যাটফর্মগুলোতে লাগেজ হাতে ক্লান্ত কিন্তু স্বস্তির হাসি মুখে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় চোথে পড়ে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। তবে ট্রেনগুলো স্টেশনে সময়মতো পৌছানোয় ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকায় পৌছাতে পারছেন যাত্রীরা।
টিকিট পেতে কষ্ট আর অতিরিক্ত ভিড় হলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ কাটিয়ে নিরাপদে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। পঞ্চগড় থেকে আসা রহিমুল হক বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে ঢাকায় ফিরেছি। আবারও কর্মময় জীবন শুরু হবে। যে কয়টা দিন পরিবারের সঙ্গে ছিলাম বেশ আনন্দেই কেটেছে।’ রাজশাহী থেকে আসা আদুরি আক্তার বলেন, ‘শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেছি। সময়মতো ট্রেন ছেড়েছে, আবার সময়মতো পৌঁছালাম। এখন একটা সিএনজিচালিত রিকশা নিয়ে বাসায় পৌঁছাব।’ ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সময়মতো সবগুলো ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাচ্ছে। যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি নেই। সবাই স্বস্তিতে আসতে পারছে। স্টেশন এলাকার সার্বিক পরিবেশ সুন্দর আছে। অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎপর রয়েছে। এদিকে, স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রেলওয়ে পুলিশ যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে।
যাত্রীতে ঠাসা বাসস্ট্যান্ড, ফাঁকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক : ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে কুমিল্লার বাসস্ট্যাণ্ডে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে স্বস্তির খবর হলো- ঈদ পরবর্তী সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ১০৪ কিলোমিটার অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। যানজট না থাকলেও ঢাকামুখী লেনে পরিবহনের চাপ বেড়েছে। সরেজমিন কুমিল্লার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল জাঙ্গালীয়া, শাসনগাছা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, আলেখারচার, সেনানিবাস, নিমসার, চান্দিনা, দাউদকান্দি ও চৌদ্দগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকাঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, এবার ঈদযাত্রা এবং ঈদ পরবর্তী সময়ে যত্রীদের স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে হাইওয়ে পুলিশ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। এখনো পর্যন্ত যানচলাচল স্বাভাবিক আছে। তবে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে পরিবহনের চাপ বেড়েছে। যানজটের আশঙ্কা নেই। এশিয়া ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের চালক খায়ের মিয়া বলেন, এবারে ঈদের আগে ও পরে মাহাসড়কে যানজট ছিল না বললেই চলে। আমার মনে হয় জীবনে এমন স্বস্তির যাত্রা দেখিনি। আজ জুমার পরে সোয়া দুইঘণ্টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এসেছি। কুমিল্লা থেকে রাজধানীতে যেতেও দুই-আড়াই ঘণ্টা লাগছে। মাহতাব হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, জাঙ্গালীয়া বাস স্টেশনে টিকেট কেটে প্রায় দুই ঘণ্টা কাউন্টারে বসে আছি। এখনো গাড়ির দেখা মেলেনি। ১৯০ টাকার টিকিট ২৫০ টাকায় নিতে হয়েছে।
আবু রায়হান নামে আরেক যাত্রী বলেন, ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি। ২৫০ টাকার ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ৪৫০। অতিরিক্ত ১৫০ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় দুপুর ২টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত পরিবার নিয়ে পদুয়ার বাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে থেকেছি। এশিয়া ট্রান্সপোর্ট পরিবহনের ম্যানেজার আব্দুর রহিম বলেন, বিআরটি-এ নির্ধারিত ভাড়া ১৯০ টাকা। এখন একমুখী যাত্রী বেশি থাকায় ৬০ টাকা অতিরিক্ত রাখা হয়েছে। উভয়দিকে যাত্রী হলে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না।
কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহীনুর আলম বলেন, ‘মহাসড়কে যাত্রীদের বিড়ম্বনা কমাতে যানজটপ্রবণ চিহ্নিত এলাকায় বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। ঈদে যেহেতু যানজট হয়নি ইনশাআল্লাহ ঈদ পরবর্তীতেও ভোগান্তি থাকবে না। নির্বিঘ্নে মানুষ ফিরতে পারবে।
